এক দেশে ছিল এক রাজা। রাজার এক ছেলে। রাজপুত্র। নাম
রূপকুমার। রাজার মন্ত্রীরও এক ছেলে, সে মন্ত্রীপুত্র। রতনলাল। দু’জনে খুব ভাব। খুব বন্ধুত্ব।
হরিহর আত্মা। ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে বড়, এক সঙ্গে খেলা, এক সঙ্গে পড়াশোনা। এবার রাজা আর
মন্ত্রী দু’জনকে ডেকে বলল, “আমরা বুড়ো হচ্ছি। তোমরা এখন বিয়ে থা কর, আমরা তীর্থে যাব, তোমরা
রাজ্য চালাবে।”
শুনে মন্ত্রীপুত্র রতনলাল বলল,
“ঠিক আছে।”
মন্ত্রীপুত্রর বিয়ে হল।
বিয়ের রাতে রতনলাল রাজপুত্রকে জিজ্ঞেস করল, “তুই বিয়ে করবি কবে?”
রাজপুত্র বলল, “এখন না।”
পরদিন রাজপুত্র রূপকুমার রাজাকে
বলল, “আমি এখন বড় হয়েছি। এর পর বিয়ে হবে, তার পরে রাজা হব। এখন কিছুদিন দেশে বিদেশে বেড়াতে যেতে চাই।”
রাজা বলল, “বিয়ে করে যাও।”
রাজপুত্র বলল, “ফিরে এসে
বিয়ে করব।”
লোক-জন, সিপাই-সান্ত্রী,
হাতি-ঘোড়া সাজল। রূপকুমার বলল, “কেউ যাবে না। যাব কেবল আমি, আর আমার ঘোড়া।”
রানি বলল, “পথে যদি বিপদ আপদ
হয়?”
রূপকুমার বলল, “থাকবে সঙ্গে
আমার এই তলোয়ার।”
সবাই অবাক! রাজপুত্র একা
দেশভ্রমনে যাবে! কেউ এমন কথা কোনদিন শোনেইনি। খবর পেয়ে এল মন্ত্রীপুত্র রতনলাল। বলল, “সে হচ্ছে না। আমিও যাব।”
রূপকুমার বলল, “না। তুই সবে বিয়ে
করেছিস, তোর বউ দুঃখ পাবে।”
রতনলাল বলল, “যাবই।”
কারওর কথা শুনল না, রওয়ানা
দিল রাজপুত্রর সঙ্গে। মন্ত্রীপুত্রর নতুন বউ একা একা কাঁদে, রোজ মন্দিরে গিয়ে পুজো
দেয়, ঠাকুরকে বলে, “আমার স্বামীকে ভালয় ভালয় ফিরিয়ে এনো, ঠাকুর।”
দুই বন্ধু চলেছে ঘোড়ার পিঠে, পেরিয়ে যাচ্ছে
পথ, পেরোচ্ছে গ্রাম শহর, নদী নালা, পেরোচ্ছে খেত মরুভূমি। দেশের মানুষের সঙ্গে
মিলেমিশে গল্প করে, তাদের সুখ-দুঃখের কথা জানতে জানতে, তাদের মন্দিরে পুজো দিয়ে,
তাদের সরাইখানায় খাওয়া দাওয়া করে চলেছে দুই বন্ধু – জঙ্গল, জনপদ, পাহাড়, সমুদ্র
পেরিয়ে।
চলতে চলতে গ্রীষ্ম শেষ হল,
বর্ষা শেষ হল, শরৎ গেল, হেমন্ত গেল। শীতের এক বিকেলে দুই বন্ধু এসে পৌঁছল রাজ্যের
সীমানায়, দূরের জঙ্গলে। জঙ্গলের ওপারে অন্য রাজার রাজত্ব।
সেখানে কোন শহর নেই, গ্রাম
নেই, নেই কোন গরিবের কুঁড়েঘর পর্যন্ত! খুঁজে খুঁজে একটা বিরাট দিঘির পাড়ে এল, তখন সূর্য
ডুবতে বেশি দেরি নেই।
রূপকুমার বলল, “কাঠকুটো জড়ো
করে আগুন জ্বালান’ যাক, খুব ঠাণ্ডা হবে রাত্তিরে।”
মন্ত্রীপুত্র চারিদিক দেখে
বলল, “নাঃ, এ জায়গাটা ভাল ঠেকছে না। দেখেছিস, সন্ধে হয়ে এল, কিন্তু কোন পাখি ডাকছে
না, কোন জন্তু-জানোয়ার দিঘির পাড়ে জল খেতে আসেনি। অন্ধকার হয়ে আসছে, আমরা ওই বিরাট
গাছটায় চড়ে রাত কাটাই।”
দুজনে চড়ল গাছে। অনেক উঁচুতে
উঠে পাগড়ি দিয়ে ভাল করে নিজেদের বেঁধে নিল মোটা ডালের সঙ্গে, যাতে রাতে ঘুমিয়ে
পড়লেও পড়ে না যায়।
কিন্তু ঘুমোবার উপায় কী! অন্ধকারে
হাজার হাজার মশা ছেঁকে ধরল, হিংস্র জন্তুদের গর্জন ভেসে আসতে লাগল হাওয়ায়, ঠাণ্ডায়
হাড় পর্যন্ত হিম হয়ে এল। দু’জনের চোখে ঘুম নেই, ফিসফিস করে গল্প করতে থাকল।
রাত তখন অনেক, অন্ধকারে কিছু
দেখা যায় না, হঠাৎ শোনা গেল দিঘির জলে তোলপাড় হচ্ছে। তাকিয়ে দেখল, জলের নিচ থেকে
যেন একটা আলো উঠে আসছে।
দেখতে দেখতে আলোটা জল থেকে
উঠে এল। দু’জনে শিউরে উঠল – একটা বিশাল অজগর সাপ জল থেকে উঠছে। সে কী বিরাট সাপ!
আর কী সাংঘাতিক মোটা! এত লম্বা, যে জল থেকে অনেক দূরে রাজপুত্র আর মন্ত্রীপুত্রর
গাছ অবধি যখন ওর মাথা পৌঁছে গিয়েছে, লেজটা তখনও রয়েছে জলের নিচেই!
সাপটার মাথায় একটা বিরাট
মণি। তার থেকেই আলো বেরোচ্ছে। চারিদিক দিনের মত ফর্সা! রাজপুত্রদের গাছের নিচে এসে
সাপটা মাথা নিচু করে মণিটা মাটিতে রাখল। তার পর এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখল গাছের গায়ে
বাঁধা ওদের ঘোড়া দুটো। দেখতে দেখতে সে দুটোকে আস্ত গিলে ফেলল। কিন্তু সাপটা এতই বড়, যে দুটো
আস্ত ঘোড়া খেয়েও পেট ভরল না। অজগররা পেট ভরে খেলে কয়েকদিন নড়তে পারে না, তাও ওর হল
না। সরসরিয়ে চলে গেল জঙ্গলের ভিতরে – আরও শিকার চাই।
গাছের নিচে মণিটা জ্বলতে
থাকল। রূপকুমার আর রতনলাল ভয়ে সিঁটিয়ে রইল, মুখ দিয়ে একটাও শব্দ বেরোল না।
ভোর রাতের দিকে সাপটা ফিরে
এল। মণিটা মাথায় নিয়ে আবার জলে ডুবে গেল। মণির আলো হারিয়ে গেল, সূর্য উঠল তার
খানিক পরেই।
দু’জনে গাছ থেকে নামল।
মন্ত্রীপুত্র বলল, “এবার বুঝলি, কেন পশুপাখি নেই?”
রূপকুমার বলল, “কিন্তু এখন
আমরা করি কী? কি করে পালাব?”
রতনলাল বলল, “সারা দিন চলেও
যতদূরই পৌঁছই, সাপ সে দিকে আসলে ধরে ফেলবে। তার চেয়ে বরং সাপের রাজত্বে যাওয়া ভাল
– জলের নিচে কী আছে দেখতে হবে।”
দুজনে সারা দিন রইল ওখানেই।
সকালে রতনলাল রূপকুমারকে বলল দিঘির ধারে পাথরে ঘষে ঘষে তলোয়ারটা ধার দিতে। নিজেও
আরেকটা পাথরে ধার দিল নিজের তলোয়ার। দুপুরে দিঘির পাড় থেকে
কাদা তুলে তুলে গাছের গোড়ায় জড়ো করল। তার পর, সন্ধেবেলা
যখন আকাশের আলো নিভে এসেছে, তখন দুজনে আবার গাছে উঠে অপেক্ষা করতে লাগল।
রাত হল। আবার মশার গুণ্গুণ্,
আবার বাঘের গর্জন। আবার, অনেক রাত্তিরে জলের তোলপাড়, আবার জল থেকে মণি মাথায় সাপের
উঠে আসা। এবার সাপটা মণি নামিয়ে জঙ্গলে ঢুকে যাওয়ার পর খানিকক্ষণ অপেক্ষা করে রতনলাল
রাজপুত্রকে বলল, “তোর তলোয়ারটা দে।”
তরতর করে গাছ বেয়ে নেমে গিয়ে
গাছের নিচে রাখা কাদার তালগুলো দিয়ে মণিটা ঢেকে দিয়ে রতনলাল দুজনের তলোয়ারের
ধারাল’ দিকগুলো ওপর দিকে রেখে আবার তরতর করে উঠে গেল গাছের উপর। বেশিক্ষণ অপেক্ষা
করতে হল না। যেমনি কাদার নিচে মণি চাপা পড়েছে, অমনি চারিদিক অন্ধকার হয়ে গিয়েছে।
আর সাপটা সেই অন্ধকারে ভয়ানক ফোঁশ ফোঁশ করতে করতে তেড়ে এসেছে।
গাছের ওপর থেকে রূপকুমার আর রতনলাল
দেখল, সাপটা ধেয়ে এসে মুখ দিয়ে কাদার তাল সরিয়ে মণিটা বের করার চেষ্টা করছে। যতবার
ঘষে, ততবার তলোয়ারে লেগে মুখ কেটে যায়। দেখতে দেখতে সাপটার মুখ আর মাথা টুকরো
টুকরো হয়ে গেল। সাপটা মরে গেল।
ভয়ে ওরা গাছেই বসে রইল সারা
রাত। সকালে দেখল বিশাল সাপটা মরে পড়ে রয়েছে গাছের নিচে। নেমে
এল। তলোয়ার আর মণিটা বের করল কাদা থেকে। দিনের আলোতেও সে মণির ঔজ্জ্বল্যে চোখ
ধাঁধিয়ে যায়। দু’জনে মণি হাতে জলে নামল। মণি থাকলে জলের নিচে দেখাও সহজ হয়,
নিঃশ্বাসও নেওয়া যায়। দিঘির নিচে একটা শহর! বাড়ি, ঘর, বাগান... কিন্তু কোত্থাও কেউ
নেই। দু’জনে ঘুরতে ঘুরতে দেখে শহরের মাঝখানে একটা বিশাল রাজপ্রাসাদ। ঢুকে দেখে,
আরে! একটা ঘরে খাটে শুয়ে ঘুমোচ্ছে এক রাজকন্যা!
রাজকন্যার রূপ দেখে রূপকুমার
আর রতনলাল অবাক! মানুষ এত সুন্দর হয়? দুজনে চেয়ে আছে, এমন সময় রাজকন্যা ঘুম থেকে
উঠে চোখ খুলে দু’জন অচেনা লোককে দেখে প্রথমে চমকে উঠল, তার পরে হাতে সাপের মাথার
মণি দেখে বলল, “কে তোমরা? কোথা থেকে এসেছ? মণি কোথায় পেলে?”
রূপকুমার বলল, “ভয় পেও না। আমি
রাজপুত্র রূপকুমার। দেশভ্রমণ করতে করতে এখানে এসেছি। এই মণি
আমরা সাপের মাথা থেকে পেয়েছি। ও আমার বন্ধু মন্ত্রীপুত্র রতনলাল। ওর বুদ্ধিতেই সাপ
মরেছে। কিন্তু তুমি কে?”
রাজকন্যা বলল, “আমার বাবা এই
জলের নিচের রাজ্যের রাজা ছিলেন। সাপটা সবাইকে একে একে খেয়ে ফেলেছে। কেবল আমাকে
বাঁচিয়ে রেখেছিল। রোজ রাতে মণি মাথায় ও যেত বাইরে – খেয়ে দেয়ে ফিরে আসত। এখানে
আমাদের রাজত্বে আমরা নিঃশ্বাস নিতে পারি, কিন্তু বাইরে যাবার পথে সঙ্গে ওই মণিটা
লাগে।”
রাজকুমার বলল, “রাজকন্যা,
তুমি আমাকে বিয়ে করবে? আমার সঙ্গে আমার রাজত্বে যাবে? সেখানে তুমি রানি হবে?”
রাজকন্যা লজ্জা পেয়ে বলল,
“যাঃ!”
জলের তলার রাজত্বে কিছুদিন কাটিয়ে রূপকুমার আর
রতনলাল ঠিক করল, এবার ফিরতে হবে। রতনলাল বলল, “আমি যাই আগে। রাজামশাইকে বলে
ঢাক-ঢোল, সানাই-কাঁসি, পালকি-চতুর্দোলা, হাতি-ঘোড়া, লোক-লস্কর, সিপাই-সান্ত্রী
নিয়ে ফিরে আসি। তোর বউ তো হেঁটে হেঁটে রাজবাড়ি যেতে পারে না!”
রাজপুত্র রতনলালকে মণি হাতে
দিঘির পাড়ে পৌঁছে দিয়ে ফিরে গেল জলের নিচে রাজকন্যার কাছে, আর রতনলাল ফিরে চলল
দেশে। রূপকুমারকে বলে গেল, “এত পথ পেরিয়ে আবার ফিরতে ছ’মাস তো লাগবেই। ছ’মাসের পরে
তুই রোজ একবার করে উঠে এসে দেখিস আমি এসেছি কি না।”
রূপকুমার আর রাজকন্যা বসে
গল্প করে। রাজকন্যা বলে, “আমাকে তোমার দেশের গল্প বল।” রাজপুত্র বলে, রাজকন্যা শোনে।
ভাবে, জলের ওপরের জগৎটা কী দারুণ! কবে যাব?
সেদিন যখন রাজপুত্র
ঘুমোচ্ছে, রাজকন্যা ভাবল, যাই, একবার দেখে আসি।
রাজকন্যা মণি হাতে জলের ওপর
উঠল। অবাক হয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে চারিদিকের শোভা দেখে আর ভাবে, বাঃ!
খানিকক্ষণ পরে আবার ডুব দিয়ে
ফিরে গেল রূপকুমারের ঘুম ভাঙার আগেই। এক বার ভাবল রাজপুত্রকে বলবে, তার পর ভাবল,
না থাক, যদি বকে? আর যেতে না দেয়?
পরদিন যখন রাজপুত্র
ঘুমোচ্ছে, তখন রাজকন্যা আবার উঠল দিঘির ধারে। খানিকক্ষণ ঘুরে ফিরে আবার ফিরে গেল।
সে দিন থেকে রাজকন্যা ঘুমন্ত
রাজপুত্রকে ফেলে রেখে রোজই একবার করে জলের ওপরের জগতে ঘুরে যেত।
একদিন জঙ্গলের ওপারের রাজ্যের
রাজার ছেলে এসেছে শিকারে। সে দিন ওই দিঘির পাড়েই তাঁবু গেড়েছে। সকালে শিকার সেরে
সেই রাজার ছেলে দিঘির পাড়ে হাত মুখ ধুচ্ছে, এমন সময় দেখে ভুশ্ করে জল থেকে বেরিয়ে
এল সে কী অপরূপ সুন্দরী একটি মেয়ে! দেখে রাজার ছেলে হতভম্ব! কিন্তু কিছু বোঝার
আগেই রাজকন্যাও দেখেছে রাজপুত্রকে, আর দেখেই ঝুপ করে ডুব দিয়ে ফিরে গেছে নিজের
প্রাসাদে, রূপকুমারের কাছে।
রাজার ছেলে চেঁচিয়ে উঠেছে,
“কোথায় গেল, কোথায় গেল?” সব্বাই ছুটে এসেছে, “কে গেল? কী গেল?” তারা কেউ কাছে ছিল
না, রাজকন্যাকে কেউ দেখেইনি।
রাজার ছেলে শুধু চেঁচাচ্ছে,
“এসেই চলে গেল! কোথায় গেল? কোথায় গেল?”
শিকার মাথায় উঠল, লোকজন
ধরাধরি করে রাজার ছেলেকে নিয়ে ফিরে গেল তাদের রাজ্যে। ছেলে কিছুই বলে না, শুধু
কাঁদে, “এসেই চলে গেল! কোথায় গেল? কোথায় গেল?”
সে রাজা তো ছেলের অবস্থা
দেখে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল! রানি কাঁদতে লাগল। পুরোহিত পুজো দিতে গেল। মন্ত্রী,
সেনাপতি গোঁফে হাত বুলোতে লাগল। আর কবিরাজরা তাদের পুঁথি খুলে দেখতে লাগল এ কেমন
অসুখ! রাজার ছেলে কিছুই বলে না, খালি হাহাকার করে, “এসেই চলে গেল! কোথায় গেল?
কোথায় গেল?”
দেশের কবিরাজরা যখন কোন
চিকিৎসা করতে পারল না, তখন রাজা বিদেশ থেকে বদ্যি ডাকল। তারাও কিছুই বলতে পারল না। রাজার ছেলে নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে, খালি বলে, “এসেই
চলে গেল! কোথায় গেল? কোথায় গেল?”
রাজা বলল, “যে আমার ছেলের
অসুখ সারিয়ে দিতে পারবে, সে আমার কাছে যা চাইবে, তাই পাবে।”
রাজার ছেলের সঙ্গে যারা
গিয়েছিল, তাদের মধ্যে ছিল এক বাসন মাজা বুড়ি। রাজকন্যা যখন জল থেকে উঠেছিল, তখন
বুড়ি বাসন মাজছিল দিঘির ধারে। আর কেউ না দেখলেও বুড়ি দেখেছিল রাজার ছেলে কী
দেখেছে। রাজার ঘোষণা শুনে বুড়ি গেল রাজবাড়ি। বলল, “আমি তোমার ছেলের অসুখ সারিয়ে
দেব। তোমার মেয়ের সঙ্গে আমার ছেলে পেঁচোর বিয়ে দিতে হবে।”
রাজা বলল, “তুমি ওষুধ জান?”
বুড়ি বলল, “রাজা, আমি কী
জানি না জানি, সে তোমার ছেলের অসুখ সারলেই বুঝতে পারবে। শুধু আমার একটা কাজ করে
দাও, তাহলেই আমি রাজপুত্রের অসুখ সারিয়ে দেব।”
রাজা বলল, “কী কাজ?”
বুড়ি বলল, “সেই দিঘির পাড়ে
আমাকে একটা কুঁড়েঘর বানিয়ে দাও। কিছু দূরে তোমার লোকজন থাকুক লুকিয়ে, জল থেকে যেন
দেখা যায় না।”
রাজার লোক পরদিনই বানিয়ে দিল
কুঁড়েঘর। বুড়ি সেখানে গিয়ে থাকতে শুরু করল।
রাজকন্যা কয়েকদিন ভয়ে ভয়ে আর জলের ওপরে যায়নি।
রূপকুমারকে বলেওনি কিছু। কিন্তু কিছু দিন পরে ভাবল, এখনও নিশ্চয়ই ওখানে কেউ নেই?
সাবধানে যাব, কাউকে থাকলে ফিরে আসব। সে দিন আবার চুপি চুপি রূপকুমারকে রেখে আবার
মণি নিয়ে উঠল।
জলের ওপরে উঁকি দিয়ে দেখে
গাছতলায় একটা কুঁড়েঘর। বুড়ি খুব সুন্দর করে সাজিয়েছে। আঙিনায় আলপনা, কঞ্চির বেড়ার
গায়ে সন্ধ্যামালতির লতা, ঘরের দুয়োরে সুন্দর ছবি আঁকা লাল-সাদা-হলদে রঙে। পায়ে
পায়ে কুঁড়েঘরের দরজায় গিয়ে দেখল, ভিতরে একটা বুড়ি। বলল, “তুমি কে?”
বুড়ি বলল, “আমি তোর একটা
দিদিমা। আয়, বোস, গল্প করি।”
রাজকন্যা দরজার কাছে বসল,
বুড়িও এসে পাশে বসল, বলল, “তোর চুল আঁচড়ে দিই, নাতনি?”
কতদিন কেউ রাজকন্যার চুল
আঁচড়ায়নি। রাজকন্যা বলল, “দাও।”
চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে বুড়ি
বলল, “তেল মাখিয়ে দিই?”
কতদিন কেউ রাজকন্যাকে তেল
মাখিয়ে দেয়নি। রাজকন্যা বলল, “দাও।”
তেল মাখাতে গিয়ে বুড়ি বলল,
“তোর হাতে কী, নাতনি?”
রাজকন্যার হাতে সাপের মাথার
মণি। বলল, “ওটা সাবধানে রাখতে হবে।”
বুড়ি বলল, “দে, আমায় দে,
হাতে মণি নিয়ে কী করে তেল মাখবি?”
রাজকন্যা মণিটা বুড়ির হাতে
দিল, বুড়ি মণিটা কোমরের কাপড়ে গুঁজে হাঁক পাড়ল, রাজার লোকজন ছুটে এসে রাজকন্যাকে
বন্দী করে নিয়ে চলল তাদের রাজত্বে।
বুড়ি রাজাকে বলল, “নিয়ে এস তোমার
ছেলেকে, ওষুধ এনেছি।”
লোকজন গিয়ে রাজার ছেলেকে ধরে
ধরে আনল। রাজার ছেলে চান করে না, ভাত খায়
না, রোগা, দুর্বল, খালি বিড়বিড় করে বলে, “কোথায় গেল? কোথায় গেল?”
রাজকন্যাকে দেখে দুর্বল
শরীরেও লাফিয়ে উঠে রাজার ছেলে বলল, “আরে! এই তো সে! কোথায় পালিয়েছিলে? বাবা, আমি
একেই বিয়ে করব!”
শুনে রাজার কী আনন্দ! রানির
কী আনন্দ! মন্ত্রী, সেনাপতি গোঁফে হাত বোলান বন্ধ করে তা দিতে লাগল, পুরোহিত যজ্ঞ
থামিয়ে বিয়ের মন্ত্রের বই আনতে দৌড়ল।
রাজকন্যা দেখল মহা বিপদ! কী
কুক্ষণেই রূপকুমারকে ছেড়ে বেরিয়েছিল। উপায় নেই দেখে বলল, “মহারাজ, আমি তো এখন বিয়ে
করতে পারব না। আমার মানত আছে, বিয়ে ঠিক হলে এক বছর আমি দেবতার পুজো দেব রোজ, তার পরে
বিয়ে।”
রাজা আর কী করে, বলল,
“আচ্ছা।” তাই শুনে রাজার ছেলে, রানি, মন্ত্রী, সেনাপতি, পুরোহিত, সবাই বলল,
“আচ্ছা।” রাজা বলল, “রাজকন্যার জন্য আলাদা মহল বানিয়ে দাও। সেখানে রাজকন্যা কড়া
পাহারায় থাকবে, পুজো দেবে। এক বছর পরে বিয়ে হবে।”
রাজকন্যা বন্দী রইল।
ওদিকে রূপকুমার ঘুম থেকে উঠে
দেখে রাজকন্যা নেই, মণিটাও নেই। কী হল বুঝতে পারল না, হাহাকার করে ঘুরে বেড়াতে
লাগল জলের শহরের মধ্যে, বাইরে যাবার উপায় নেই, জল থেকে ওঠার উপায় নেই।
রতনলাল ততদিনে বাড়ি ফিরে লোকজন নিয়ে ফেরার
আয়োজন করছে। রূপকুমারের মা বাবা, দেশের রানি আর রাজার খুব আনন্দ। রতনলালের মা
বাবা, রতনলালের বউও খুশি – কিন্তু ওদের একটু মন খারাপও বটে – রতনলাল আবার শিগগির
চলে যাবে...
এদিকে বুড়ি রাজাকে বলেছে, “এবার কথা দাও, তোমার
মেয়ের সঙ্গে আমার ছেলের বিয়ে দেবে?”
রাজা বলেছে, “দেব। তোমার
ছেলে কোথায়? তাকে নিয়ে এস।”
বুড়ি বলেছে, “ছেলে এখন এখানে
নেই। ফিরলেই নিয়ে আসব।”
বুড়ি চলে গিয়েছে, আর আসে না,
রাজা মন্ত্রীকে বললেন, “খোঁজ নাও, বুড়ির ছেলে কোথায় গিয়েছে।”
মন্ত্রী খোঁজ নিয়ে জানাল,
“মহারাজ, বুড়ির ছেলে পেঁচো কখনও বাড়ি আসে, কখনও আসে না। কোন কাজ কর্ম করে না। পথে
পথে ঘুরে বেড়ায়। খায় দায় না, চান করে না।”
শুনে রাজা-রানি সবাই মুষড়ে
পড়ল। এমন ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে হবে? কিন্তু কী আর করা, কথা দেওয়া হয়ে গেছে।
রাজকন্যার মহলে রাজকন্যা রোজ
পুজো করে, আর নিজের মহলে রাজার ছেলে অপেক্ষা করে থাকে, কবে এক বছর পুরবে। জলের
নিচে রূপকুমার একা বন্দী হয়ে আছে, আর রতনলাল দলবল নিয়ে আসছে রূপকুমার আর
রাজকন্যাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে।
ছ’মাস পরে রতনলাল ফিরে এল আবার সেই দিঘির
পাড়ে। তাঁবু কানাত পড়ল আবার, জায়গাটা গমগম করতে থাকল। রতনলাল সারা দিন বসে রইল
জলের পাড়ে, কে জানে কখন বন্ধু আর রাজকন্যা উঠে আসে। কেউ এল না।
পর দিনও তেমনিভাবে কাটল,
তারও পরদিন কেউ এল না। রতনলাল চিন্তায় পড়ল। কী হল বন্ধুর? কোন অসুখ হয়েছে কি? আর
একটা সাপ কি এল? ওরা কি রতনলালের জন্য অপেক্ষা করে করে জল থেকে বেরিয়ে এসে কোন
বিপদে পড়ল? এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখে, একটা কুঁড়েঘর, কিন্তু তাতে কেউ নেই। সেনাধ্যক্ষকে
বলল, “তোমরা এখানেই থাক। আমি দেখি ওদের কোন খোঁজ পাই কি না। রূপকুমার আর রাজকন্যা
যদি আসে, তাহলে ওদের নিয়ে দেশে ফিরে যেও।”
রতনলাল বন্ধুকে খুঁজতে
বেরোল। চলতে চলতে খুঁজতে খুঁজতে আরও প্রায় ছ’মাস কেটে গিয়েছে, এসে পৌঁছল সেই রাজার
রাজত্বে যেখানে রাজকন্যার এক বছরের ব্রত শেষ হবার মুখে। আর ক’দিন পরেই তাদের রাজার
ছেলের বিয়ে। চারিদিকে মহা ধুমধাম, সাজ সাজ রব।
রতনলাল এক প্রজাকে জিজ্ঞেস
করল, “এত উৎসব কিসের?”
প্রজা বলল, “কোথাকার লোক
তুমি? রাজার ছেলের বিয়ে, কিছুই জান না?”
রতনলাল বলল, “আমি বিদেশী,
তাই জানি না। কার সঙ্গে বিয়ে রাজার ছেলের?”
প্রজা বলল, “রাজার ছেলের
বিয়ে এক রাজকন্যার সঙ্গে – সে জলের নিচে থাকত। পেঁচোর মা বুড়ি তাকে ধরে এনে রাজার
ছেলের অসুখ সারিয়েছে। তাই পেঁচোর সঙ্গে রাজার মেয়ের বিয়ে হবে। কিন্তু পেঁচোকে
খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।”
রতনলাল বুঝল তার বন্ধুর
রাজকন্যার সঙ্গেই এ রাজ্যের রাজার ছেলের বিয়ে। বলল, “পেঁচো কে?”
প্রজা বলল, “পেঁচো এক অদ্ভুত
ছেলে। পড়াশোনা শেখেনি, কাজকর্ম শেখেনি, চান করে না, সারা গায়ে মাথায় মাটি মেখে ধেই
ধেই করে নেচে বেড়ায়। কখন কোথায় চলে যায়, কেউ জানে না। বছরে দেড় বছরে একবার মায়ের
কাছে ফিরে আসে, বুড়ি বলে, ‘পেঁচো, আমার কাছে থাক।’ পেঁচো বলে, ‘না,’ কিন্তু কখনও
মন চাইলে বলে ‘হুঁ।’ ক’দিন থাকে, আবার কবে একদিন চলে যায়।”
মন্ত্রীপুত্র বলল, “বেশ
কথা!” বুঝল রাজকন্যাকে উদ্ধার করতে গেলে পেঁচো সাজতে হবে।
পর দিন সকালে রতনলাল জামা খুলে
সারা গায়ে আর ধুতিতে ধুলো কাদা মাখল। মাথার চুলগুলো এলোমেলো
করে, চোখ গোল গোল করে বুড়ির বাড়ির সামনে ধেই
ধেই করে নাচতে লাগল। বুড়ি ঘুম ভেঙে বাইরে
এল। ছানিপড়া চোখে রতনলালের মুখ দেখতে পেল না, ভাবল পেঁচো এসেছে – বলল,
“পেঁচো, এলি? আমি
তোর সঙ্গে রাজার মেয়ের বিয়ে ঠিক করেছি। এবার তুই
বাড়িতে থাক।”
রতনলাল প্রথমে বলল, “না,
না!” তখন বুড়ি বলল, “দেখ তোর জন্য আমি কী জোগাড় করে রেখেছি...” বলে ঘরের মধ্যে
নিয়ে গিয়ে লেপ তোষকের নিচ থেকে সাপের মাথার মণিটা বের করে দিল। রতনলালের কী আনন্দ!
কিন্তু বুড়িকে কিচ্ছু বুঝতে দিল না। বলল, “দে।” বুড়ি রতনলালের হাতে মণিটা দিয়ে
দিল। রতনলাল সেটাকে ওর কোমরের কাপড়ে গুঁজে রাখল।
তার পরে বুড়ি বলল, “চল, তোর
সঙ্গে জলের নিচের রাজকন্যার দেখা করিয়ে আনি। তার পরে রাজার মেয়ের সঙ্গে তোর বিয়ে
হবে।”
দু’জনে চলল রাজকন্যাকে
দেখতে। রাজকন্যার মহলে ঢুকেও রতনলাল পেঁচোর মত ধেই ধেই করে নাচতে লাগল। সেই দেখে
রাজকন্যা ভারি বিরক্ত, কিন্তু বুড়িকে কেউ কিছু বলে না – রাজার ছেলের অসুখ সারিয়েছে
যে! এদিকে রাজা, রানি, রাজার ছেলে মেয়ে সবাই দল বেঁধে রাজার জামাই দেখতে এসেছে।
কিন্তু পরণে জামা নেই, সারা গায়ে ধুলো আর মাটি, চুলগুলো উস্কোখুস্কো, চোখ গোল গোল
করে ধেই ধেই নাচ দেখে সবাই খুব দুঃখ পেয়ে আবার ফিরে গেল।
দিনের শেষে বুড়ি পেঁচোকে
বলল, “চল, ঘরে যাই।”
রতনলাল তখনও ধেই ধেই করে
নাচছে। বুড়িকে বলল, “তুই যা। আমি থাকব।”
বুড়ি জানে পেঁচোকে দিয়ে জোর
করে কিছু করান যায় না। তাই চলে গেল। রাত হল, রতনলাল ধেই ধেই করে নাচে, আর খালি
একবার বাগানে যায়, একবার মহলে যায়, একবার বাইরের রাস্তায় নেচে আসে, আবার ভিতরে
ঢোকে। প্রথমে প্রহরীরা ওকে আটকান’র চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পরে ওর যাওয়া আসায়
বিরক্ত হয়ে ওর দিকে নজরও দিচ্ছিল না। রাত গভীর হল, ক্লান্ত প্রহরীরা একে একে ঘুমিয়ে
পড়ল। রাজকন্যার সখীরাও ঘুমিয়ে, কেবল রাজকন্যার ঘুম নেই। আর ক’দিন পরেই রাজার
ছেলেকে বিয়ে করতে হবে – সেই ভয়ে আর দুশ্চিন্তায় কাঁদছে জানালার কাছে, এমন সময়
সেখানে পেঁচো এসে বলল, “রাজকন্যা আমাকে চিনতে পারছ না? আমি মন্ত্রীপুত্র রতনলাল। রাজপুত্র
রূপকুমারের বন্ধু।”
রাজকন্যা তাকিয়ে দেখে তাই
তো!
রতনলাল বলল, “আমি তোমাকে
নিয়ে যেতে এসেছি। রূপকুমার কি এখনও জলের নিচে?”
রাজকন্যা কেঁদে বলল, “কিন্তু
মণি ছাড়া ওখানে ফিরব কী করে?”
রতনলাল বলল, “চুপ! চুপ! মণি
আমি বুড়ির কাছ থেকে পেয়েছি। এখন চল, সব্বাই ঘুমোচ্ছে, আর দেরি
না করে পালাই।”
দুজনে ছুট্টে চলে গেল
রাজকন্যার মহল থেকে। দূরের গাছতলায় রতনলাল নিজের ঘোড়াটা বেঁধে রেখেছিল, দুজনে মিলে
ঘোড়া ছুটিয়ে পালিয়ে গেল। রাতে চলে, দিনে লুকোয়। এমনি করে আরও অনেক দিন পরে এসে পৌঁছল সেই দিঘির
পাড়ে। গিয়ে দেখে ওদের সৈন্য-সামন্ত লোক-লস্কর অপেক্ষা করে করে ক্লান্ত হয়ে ফিরে
গিয়েছে ওদের শহরে। দিঘির পাড় খালি পড়ে আছে।
দুজনে মণি নিয়ে নামল জলে।
ওদের দেখে রূপকুমারের আনন্দ আর ধরে না। বলে, “কোথায় গিয়েছিলে আমাকে ফেলে?”
মন্ত্রীপুত্র বলল, “এখন এসব
কথা নয়, এক্ষুণি পালাতে হবে। রাজা যদি লোক পাঠিয়ে খোঁজ করে, তাহলে আর বেরোন যাবে
না। যেতে যেতে শুনিস কী হয়েছিল।”
এদিকে, সকালে ঘুম থেকে উঠে
কেউ আর রাজকন্যাকে খুঁজে পায় না, প্রথমে রাজকন্যার মহল, তার পরে মন্দির, তার পরে রাজার
প্রাসাদ, চতুর্দিকে খুঁজে কার খেয়াল হল, পেঁচোও তো নেই! তখন লোক গেল বুড়ির বাড়ি।
সেখানেও কেউ নেই।
সেই থেকে রাজার ছেলে, “কোথায়
গেল, কোথায় গেল,” বলে কেঁদে চলেছে। অসুখ সারেনি বলে রাজা পেঁচোর সঙ্গে নিজের মেয়ে
বিয়ে দেবে না বলে রাজপুত্র খুঁজছে, আর বুড়ি মনের দুঃখে পেঁচোকে খুঁজতে পথে পথে
ঘুরে বেড়াচ্ছে।
শুধু পেঁচো হারিয়ে গেছে বলে
রাজার মেয়ের খুব আনন্দ। ও গান গেয়ে গেয়ে বাগানে ঘুরছে।
ওদিকে রাজপুত্র, রাজকন্যা আর রতনলাল জলের ওপরে
উঠল। ঘোড়া একটাই। তাতেই চড়ল রাজকন্যা আর রাজপুত্র। রতনলাল চলল তলোয়ার হাতে তাদের
পাশে পাশে, ছুটে ছুটে। শেষে বাজারে গিয়ে তিনজনের জন্য তিনটে ঘোড়া কিনে সকলে
তিরবেগে চলল বাড়ির দিকে। সেখানে ওদের জন্য অপেক্ষা করে রয়েছে ওদের মা-বাবারা, আর
রতনলালের দুঃখী বউ।
পথে এক রাতে যখন সকলে একটা
গাছের নিচে বিশ্রাম করছে, রূপকুমার আর রাজকন্যা ঘুমিয়ে পড়েছে – রতনলাল ওদের পাশে পাহারায়,
তখন গাছের ওপর উড়ে এল এক জোড়া ব্যাঙ্গমা ব্যাঙ্গমী পাখী। ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমীরা
মানুষের ভাষায় কথা বলতে পারে। শুধু তাই নয়, ওরা সব জানে, ভবিষ্যতে কী হবে তাও বলতে
পারে।
ব্যাঙ্গমী বলল, “কী সুন্দর
রাজপুত্র রাজকন্যা। ওরা অনেক কষ্ট পেয়েছে। কাল ওরা ঘরে পৌঁছে যাবে, তার পরে ওদের
সব কষ্ট শেষ।”
ব্যাঙ্গমা বলল, “উঁহু, সে
হবার যো নেই। সকালে যখন রাজা জানতে পারবে ছেলে আসছে, রাজা হাতি পাঠাবে। কিন্তু
হাতি পাগল হয়ে রাজপুত্রকে পিঠ থেকে ফেলে মেরে ফেলবে।”
ব্যাঙ্গমী বলল, “কিন্তু
রাজপুত্র যদি হাতিতে না চড়ে ঘোড়ায় চড়ে যায়, তাহলে রাজপুত্র বাঁচবে। তার পরে ওরা
রাজপুরীতে পৌঁছে যাবে, সেখানে ওদের সব কষ্ট শেষ হয়ে যাবে।”
ব্যাঙ্গমা বলল, “উঁহু, সে
হবার যো নেই। যেই রাজপুত্র ঘোড়ায় চড়ে রাজপুরীর সিংহদরজা দিয়ে ঢুকতে যাবে, দরজা
ভেঙে রাজপুত্র মারা যাবে।”
ব্যাঙ্গমী বলল, “কিন্তু কেউ
যদি সেই সিংহদরজা আগেই ভেঙে দেয়, তাহলে রাজপুত্র বাঁচবে। তখন রাজপুত্র আর
রাজকন্যার বিয়ে হবে, ওদের সব কষ্ট শেষ হয়ে যাবে।”
ব্যাঙ্গমা বলল, “উঁহু, সে
হবার যো নেই। বিয়ের ভোজে রাজপুত্র যখন মাছের মুড়ো খাবে, তখন গলায় কাঁটা লেগে মারা
যাবে।”
ব্যাঙ্গমী বলল, “কেউ যদি সেই
মুড়ো কেড়ে নিয়ে খেয়ে নেয়, তাহলে রাজপুত্র বেঁচে যাবে। তার পরে ওদের সব কষ্ট শেষ
হবে।”
ব্যাঙ্গমা বলল, “উঁহু, সে
হবার যো নেই। রাতে যখন রাজপুত্র আর রাজকন্যা ফুলশয্যায় ঘুমিয়ে, তখন এক কেউটে সাপ
এসে রাজপুত্রকে কামড়াবে। রাজপুত্র মারা যাবে।”
ব্যাঙ্গমী বলল, “কিন্তু কেউ
যদি সে ফুলশয্যার ঘরে লুকিয়ে থেকে সাপটা ঢোকামাত্র তলোয়ার দিয়ে কুচি কুচি করে কেটে
ফেলে, তাহলে রাজপুত্র বেঁচে যাবে। তার পরে ওদের সব কষ্ট শেষ হবে। কিন্তু এই সব কথা
কেউ যদি রাজপুত্রকে বলে দেয়, তাহলে সে পা থেকে মাথা পর্যন্ত পাথর হয়ে যাবে।”
ব্যাঙ্গমা বলল, “কিন্তু রাজপুত্র
আর রাজকন্যার প্রথম যে বাচ্চা হবে, তার রক্ত দিয়ে যদি সেই মূর্তিকে চান করান যায়,
তবে সে মূর্তি আবার মানুষ হয়ে যাবে।”
ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমী উড়ে চলে
গেল, গাছতলায় রতনলাল হতভম্ব হয়ে বসে রইল।
পরদিন রাজপুত্র রাজকন্যা আর
মন্ত্রীপুত্র রাজধানীতে পৌঁছল। রাজা খবর পেয়ে হাতিখানা থেকে সবচেয়ে বড় হাতিটা পাঠাল
রূপকুমার আর রাজকন্যার জন্য। রতনলালের জন্য এল সাজান’ ঘোড়া। রতনলাল কিন্তু
রাজপুত্রকে হাতিতে উঠতেই দিল না, বলল, “তুই আমার ঘোড়ায় যা, আমি হেঁটে যাব।” কী আর
করে, বন্ধুর কথা রাখতে রাজপুত্র হাতিতে না চড়ে ঘোড়ায় করেই গেল।
রাজপুরীতে ঢোকার আগে রতনলাল
বলল, “দাঁড়াও, আগে সিংহদরজা ভাঙতে হবে, তবেই রাজপুত্র ভিতরে ঢুকবে।” আবার সবাই
অবাক! রাজা একটু বিরক্তও হল, কিন্তু রতনলাল না হলে রাজপুত্র বেঁচে ফিরত না, সেও
ততক্ষণে সবাই জেনে গিয়েছে, তাই কেউ কিছু বলল না। রাজা হুকুম দিল, সিংহদরজা ভেঙে
ফেলা হল। সবাই ভিতরে ঢুকল।
সারা দিন কাটল হইচই করে।
সন্ধ্যা নামল। রাজপুত্র রাজকন্যার বিয়ে হল। তার পরে বিয়ের ভোজ। সেখানে আর এক
বিভ্রাট। যেই না রাজপুত্রর পাতে মাছের মুড়ো পড়েছে, মন্ত্রীপুত্র এসে সেই মুড়ো তুলে
নিয়ে বলেছে, “এটা আমি খাব।”
এবারে সবাই অসন্তুষ্ট।
কিন্তু রাজপুত্রর বন্ধু বলে কথা, তাই বিরক্ত হলেও কেউ কিছু বলল না। রতনলাল খাওয়া
শেষ করে বলল, “আমাকে অনুমতি দাও, বন্ধু, আমি আসি।”
রূপকুমার, রাজামশাই, রতনলালের
বাবা মন্ত্রীমশাই, এমনকি রতনলালের বউ সবাই বলল, “এখনই যাবে কী! এখনই তো আমোদ শুরু
হবে! নাচ হবে, গান হবে, খেলা হবে রাতের অন্ধকারে আলো জ্বালিয়ে! তার পরে, রাত আরও
গভীর হলে আতসবাজির খেলা দেখাবে লাসানগরের কারিগররা!”
কে কার কথা শোনে। রতনলাল
তখনই চলে যাবে, যাবেই যাবে। কী আর করা, রতনলালকে বাদ দিয়েই সবাই নাচ গানের সভায়
গেল। রাজকন্যা আস্তে আস্তে রূপকুমারকে জিজ্ঞেস করল, “তোমার বন্ধুর কী হয়েছে বল
তো?”
রূপকুমার রাগ রাগ গলায় বলল,
“কী জানি!”
সবাই অনেক রাত অবধি নাচ গান
দেখল, বাজি পটকা দেখল, জাদুকরের জাদু দেখে অবাক হল, কিন্তু রতনলাল কিছুই দেখল না।
সে রাজপুত্র আর রাজকন্যার ফুলশয্যার ঘরে ঢুকে চুপটি করে লুকিয়ে রইল। অনেক রাতে
রূপকুমার আর রাজকন্যা এসে ক্লান্ত দেহে শুয়ে পড়ল, সব আলো নিভে গেল, কেবল একটা
দীপের আলো ঘরের কোনে জ্বলে রইল, আর তলোয়ার হাতে রতনলাল জেগে রইল সাপের অপেক্ষায়।
অনেক রাতে, ঘরের ছাদের কাছে
আলো আসার গর্ত দিয়ে ঘরে ঢুকল একটা ভয়ানক কেউটে সাপ। বিছানার ফুলের মালা বেয়ে ফনা
তুলে নেমে আসতে লাগল সোজা রাজপুত্রর দিকে। তৈরি ছিল রতনলাল, এক লাফে গিয়ে তলোয়ারের
কোপে সাপের মাথা কেটে ফেলল। তার পরে কুচি কুচি করে সাপটাকে কেটে টুকরোগুলো লুকিয়ে
রাখল পানের বাটার মধ্যে, মনে ভাবল, বেরোবার সময় বাটা শুদ্ধ নিয়ে যাব – কেউ জানতে
পারবে না।
সাবধানে পানের বাটা নিয়ে বেরোতে
যাবে, দেখে রাজকন্যার গায়ে সাপের রক্ত পড়েছে। সর্বনাশ! কাল সকালে যদি নতুন বউ দেখে
গায়ে রক্ত! ভয় পাবে! সবাই জানতে চাইবে রক্ত কিসের, কোথা থেকে এল?
সাত পাঁচ ভেবে রতনলাল যেই না
রুমাল বের করে রক্ত মুছতে যাবে, ওমনি রাজকন্যা ঘুম ভেঙে চোখ মেলেই রতনলালকে দেখে
ভয়ে চেঁচিয়ে উঠেছে। রাজপুত্র তাকিয়ে দেখে – বন্ধু!
এবার রাজপুত্র সত্যিই রেগে
গেল। বলল, “তোর মতলবটা কী বলত? আজ সকাল থেকে তুই কী আরম্ভ করেছিস? প্রথমে আমাকে
হাতিতে চড়তে দিলি না, তার পরে রাজপ্রাসাদের সিংহদরজা ভাঙলি, তার পরে আমার মাছের
মুড়ো খেলি, আমার বিয়ের উৎসবে থাকলি না! সব মেনে নিলাম। কিন্তু অন্ধকার রাতে চোরের
মত কেন আমার ঘরে ঢুকেছিস?”
মন্ত্রীপুত্র রতনলাল চুপ।
রূপকুমার বলল, “তুই যদি না
বলিস, তোকে চোর বলে আমি কারাগারে পাঠাব।”
রতনলাল চুপ।
রাজপুত্র বলল, “তুই
বিশ্বাসঘাতক। তোর মাথা কাটব।”
রতনলাল তাও চুপ।
রাজপুত্র তখন বলল, “তুই যদি
আমাকে না বলিস, কেন তুই এ সব করেছিস, তাহলে আমার মরা মুখ দেখবি!”
এইবারে মন্ত্রীপুত্র বলল,
“রূপকুমার, এমন বলিস না! আমি যদি তোকে বলি, তাহলে আমি পাথর হয়ে যাব।”
রাজপুত্র বিশ্বাস করল না।
বলল, “কেন আমাকে হাতিতে চড়তে দিসনি?”
তখন, কী আর করা, রতনলাল
রাজপুত্র আর রাজকন্যাকে সেই রাতের কথা বলতে শুরু করল। যেমনি হাতির কথা বলল, ওমনি রতনলালের
হাঁটু পর্যন্ত পাথর হয়ে গেল।
রাজপুত্র বলল, “আর সিংহদরজা
কেন ভাঙলি?”
রতনলাল যেমনি সিংহদরজা ভাঙার
কারণ বলল, কোমর অবধি পাথর হয়ে গেল।
রাজপুত্র বলল, “কেন আমাকে
মাছের মাথা খেতে দিসনি?”
রতনলাল যেমনি মাছের মাথা
কেড়ে নেবার কারণ বলল, বুক অবধি পাথর হয়ে গেল।
রাজপুত্র বলল, “কেন আমার
ফুলশয্যার ঘরে ঢুকেছিলি?”
রতনলাল বলল, কেমন করে কেউটে
সাপ ঘরে ঢুকেছিল, কেমন করে সেই সাপটাকে কেটে ও পানের বাটার মধ্যে ঢুকিয়ে রেখেছে।
ওমনি গলা অবধি পাথর হয়ে গেল।
রাজপুত্র ছুটে গিয়ে পানের
বাটা খুলে দেখে সত্যিই তাতে সাপের কাটা টুকরো! কেঁদে বলল, “কী করলে তোকে আবার ফিরে
পাব?”
রতনলাল বলল, “একমাত্র উপায়
বন্ধু, তোর প্রথম সন্তানের রক্ত দিয়ে আমাকে যদি চান করাতে পারিস, তাহলেই আমি আবার
প্রাণ ফিরে পাব।”
যেই না বলা, রতনলালের মাথার
চুল অবধি সবই পাথর হয়ে গেল।
দুঃখে, লজ্জায়, রাজপুত্রের
মাথা কাটা যায়, রতনলালের পাথরের মূর্তি রাজপুত্র আর রাজকন্যা ওদের শোবার ঘরের
বাইরেই বাগানে সাজিয়ে রাখল।
মন্ত্রী আর রাজা সারা দেশে
লোক পাঠাল, রতনলাল গেল কোথায়? রতনলালের বউ এসে কেঁদে বলল, “আমার স্বামী তোমাদের
উদ্ধার করে আনল, এবার আমার স্বামীকে এনে দাও...” তার পর থেকে সে দিন রাত মন্দিরে
পড়ে থাকে, আর ঠাকুরের কাছে কাঁদে। বলে, “আমার স্বামীকে এনে দাও।” রাজপুত্র আর
রাজকন্যা কাউকে কিছু বলতে পারে না। ওদের চোখ দিয়েও জল পড়ে।
দিন যায়। একদিন সভায় রাজবৈদ্য বলল, “মহারাজ,
সুসংবাদ, আপনি দাদু হবেন!”
সবাই খুব খুশি। খুশি
রাজপুত্র আর রাজকন্যাও, কিন্তু ওরা দুঃখীও। রাজকন্যা বলল, “বাচ্চা হলে কী করতে হবে
তুমি ভুলে যাওনি তো?”
রূপকুমার বউকে জড়িয়ে ধরে
বলল, “তা কী করে হবে? আমাদের প্রথম সন্তান!”
রাজকন্যা বলল, “তবু, তোমার
বন্ধু তোমার জন্য প্রাণ দিয়েছে, তাকে বাঁচিয়ে তুলতেই হবে।”
ওরা দুঃখ করে, আনন্দও করে।
ন’ মাস পরে, রাতের বেলায় রাজকন্যার
একটা ফুলের মত সুন্দর ছেলে হল। রাজপুরীতে তখন কেউ জেগে নেই। দাই বলল, “রাজামশাইকে
খবর দিই?”
রাজপুত্র বলল, “না, কাউকে
খবর দিবি না।” বলে দাইকে অনেক বকশিস দিয়ে বিদায় করল।
দু’জনে বসে রইল সারা রাত,
বাচ্চাকে কোলে নিয়ে। সারা রাত কাঁদল দু’জনে। তার পর, ভোরের আলো যখন
প্রায় ফোটে, রাজকন্যা কান্না থামিয়ে বলল, “আর দেরি করা উচিৎ নয় – কেউ ঘুম থেকে
ওঠার আগেই রতনলালকে বাঁচিয়ে তুলতে হবে।”
দুজনে বাচ্চাকে নিয়ে বেরিয়ে
গেল বাগানে। ভোরের অল্প আলোতেও রাজপুত্রের হাতে খোলা তলোয়ার ঝকঝক করে উঠল। কিন্তু
সে তলোয়ার রূপকুমার আর চালাতে পারে না।
এমন সময়ে গাছের ওপর ঝটপট করে
উড়ে এল ব্যাঙ্গমা আর ব্যাঙ্গমী। রূপকুমার আর রাজকুমারী শুনল ব্যাঙ্গমা বলছে,
“বাচ্চাটাকে ওরা মারতে পারছে না।”
ব্যাঙ্গমী বলল, “কী করে
পারবে? বাবা মা কী বাচ্চাকে মারতে পারে?”
ব্যাঙ্গমা বলল, “তাহলে এখন
উপায়? মন্ত্রীপুত্র কি কোনদিন মানুষ হতে পারবে না? রাজপুত্রের জীবন বাঁচাতে গিয়ে
মন্ত্রীপুত্র নিজের জীবন দিল, সে দান কি রাজপুত্র ফিরিয়ে দেবে না?”
এ কথা শুনে রূপকুমার আর
রাজকুমারীর মন শক্ত হয়ে উঠল। রাজপুত্র তলোয়ার উঁচিয়ে ধরল।
তখন ব্যাঙ্গমী বলল, “উপায়
আছে একটা। বাচ্চাকে মারতে হবে না।
মন্ত্রীপুত্রর বউয়ের চোখের জল দিয়েই কাজ হবে। মন্ত্রীপুত্রর চোখের জলেই
মন্ত্রীপুত্র আবার মানুষ হয়ে উঠবে।”
রাজপুত্রের হাত থেকে তলোয়ার
পড়ে গেল। দু’জনে ছুটে ফিরে গেল ঘরে। রাজকুমারী বাচ্চাকে আবার তাঁর বিছানায় শুইয়ে
দিল, রূপকুমার শান্ত্রীকে ডেকে বলল, “এখনই যাও, গাড়ি নিয়ে। মন্ত্রীমশাই, আর
রতনলালের মা আর বউকে নিয়ে এস এখানে।”
দেখতে দেখতে গাড়ি ফিরে এল সবাইকে
নিয়ে। ওরা খুব অবাক – এত সকালে রাজপুত্র কেন তাদের ডেকে আনাল?
তিনজনকে বসিয়ে রাজপুত্র সব
কথা খুলে বলল, কী ভাবে দুজনে জঙ্গলে গিয়ে সাপের কবলে পড়েছিল, কী ভাবে রতনলাল সাপ
মেরে ওদের বাঁচায়, কী ভাবে রাজকন্যা জলের বাইরের জগত দেখতে গিয়ে পাশের রাজত্বের
রাজার সৈন্যদের হাতে ধরা পড়ে, কী ভাবে আবার ওদের রতনলালই বাঁচায়, এবং সব শেষে,
ব্যাঙ্গমা ব্যাঙ্গমীর কথা শুনে বার বার রাজপুত্র রূপকুমারকে বাঁচিয়ে, শেষে নিজে কী
ভাবে পাথর হয়ে যায়।
রতনলালের বউ বলল, “আগে বলনি
কেন?”
রাজকন্যা বলল, “কারণ তখন
আমরা জানতাম যে রতনলালকে বাঁচানোর একমাত্র উপায় হল আমাদের বাচ্চার রক্ত দিয়ে ওকে চান
করান’। সে কথা বললে কেউ আমাদের বাচ্চাকে মারতে দেবে না, তাই...”
সকলে তাকিয়ে দেখল রাজপুত্রর
শিশু সন্তান শুয়ে ঘুমোচ্ছে। দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।
রাজকন্যা বলল, “রতনলালকে
বাঁচানোর একমাত্র উপায় এখন তোমার চোখের জল। ওই ওটা রতনলালের মূর্তি নয়, ওটাই
রতনলাল।
রতনলালের বউ ছুটে গিয়ে
মন্ত্রীপুত্রর পাথরের মূর্তিকে জড়িয়ে ধরল। যেমনি ওর চোখের জল মূর্তির গায়ে লাগল,
তখনই রতনলাল বেঁচে উঠে বলল, “বাচ্চাটাকে মেরে ফেললি রূপকুমার?”
এবার রাজকন্যা আর রূপকুমার,
মন্ত্রীমশাই আর রতনলালের মা, সবাই কেঁদে ভাসিয়ে দিল। তার পরে, সত্যি সত্যিই সারা
দেশে আনন্দের জোয়ার এল!
2 comments:
গল্পটা কোথা থেকে কোথায় নিয়ে গেছেন! লালবিহারী দে-র গল্পে প্লটের সুতো একটু আলগা ছিল, যুক্তির বদলে বেশ খানিক অলৌ্কিকতা ছিল, আজকের দিনের মূল্যবোধের সঙ্গে মেলে না এমন খাপছাড়া কিছু বিষয় ছিল। সবকটাকে জুড়ে, নতুন করে ভেবে, গল্পকে প্লটে সাজিয়ে, কথ্য গদ্যে লিখে, আপনি যে জায়গায় তুলে নিয়ে গেছেন, এটাই আমার সব থেকে ভালো লাগল।
আরও লিখুন। এই গল্পগুলোও নতুন করে লেখার খুব প্রয়োজন আছে। এবং এটা সত্যি!
Dibyo hoyeche tobe gorata to kichuta jana tarpor andhi-sandhi kor-e achena mor niyech-e...
Post a Comment