Saturday, February 11, 2017

রক্তরহস্য


প্রথম খণ্ড


Why did we not know about Avro before?                 12 Sep, 8pm (Cairo Official time zone)
Sudesh
To Bidesh
দাদা,
কী রে, চমকালি তো? কত দিন ধরে বলছি, একটা বাংলা লেখার সফটওয়্যার খুঁজে বের কর, বের কর। কলকাতায় বসে এত দিনে পারলি না, আমি আসোয়ানে বসে পেয়ে গেলাম। এই প্রোগ্রামটার নাম অভ্র। ব্যবহার করা খুব সোজা, ডাউনলোড করে ইনস্টল করে নে, তাহলে এখন থেকে আর বিজাতীয় অক্ষরে বাংলা লিখতে হবে না। তার চেয়ে বড় কথা, আমার চিঠিগুলো মা সরাসরি পড়তে পারবে, কাউকে পড়ে শোনাতে হবে না।
আমি এখন আর আসোয়ান ড্যামে নেই। এখন কায়রো এয়ারপোর্টে। আজ ভোরবেলাই ফোনে ডেকেছেন মিঃ শুল্‌জ্‌। রুমানিয়াতে একটা কাজ আমরা পেয়েছি। নীলসেন আর শুল্‌জ্‌ দুজনেই ঠিক করেছেন আমিই নাকি কাজটার জন্য সবচেয়ে যোগ্য ইঞ্জিনিয়ার। কাল রাতেই স্মিড্‌ আর য়োরগেন্‌সেন্‌ রওয়ানা হয়ে আজ দুপুরের মধ্যে আসোয়ান পৌঁছেছে, চার্জ বুঝিয়ে কোম্পানির প্লেনে আমি এসেছি কায়রো। আজ রাতের মধ্যেই কোপেনহ্যাগেন। কালকের মধ্যে জেনে যাব কাজ কী।
তুই নিশ্চয়ই এখন বাড়ি ফিরে অন-লাইন হয়েছিস। সুতরাং এখুনি জানতে পারবি আমার খবর। কিন্তু আমি তোর উত্তর পাবার আগেই প্লেনে উঠে যাব। এই কয়েকটা লাইন লিখতে লিখতেই প্লেনে ওঠার ডাক পড়েছে, এটা ‘সেন্ড’ করেই ল্যাপটপ বন্ধ।
ইতি,
বুড়ো
পুঃ বৌদিকে বলিস, চার বছরে কায়রোতে আসতে পারল না, এখন ইউরোপ ঘোরার চান্স আসছে। ঈশকে আমার ভালবাসা দিস। মা-কে প্রিন্ট-আউট দিস। বাবার কথা মনে পড়ছে। আজ বাবা থাকলে কত গর্ব করত। অভ্র ডাউনলোড করিস কিন্তু — বাংলায় লিখিস। আর এ-বি-সি-ডি দিয়ে বাংলা লিখলে পড়ব না।

Re: Why did we not know about Avro before?                                12 Sep, 5.36 pm (IST)
Bidesh
To Sudesh
বুড়ো,
দ্যাখ, তোর কথামত অভ্র download করে নিয়েছি। ঘণ্টা দুয়েক practice-o করেচি। এ তো অসাধারণ রে! বাংলায় e-mail লিখতে পারব কোনদিন ভাবিইনি! এখনও সরগর হয়নি, তাই বানান মাঝে মাঝে ভুল হচ্ছে। মা তোর চিঠি পেয়ে কুব thrilled. আমরাও। তোর বৌদি বলেছে কোনও চিন্তা নেই, মিশর যাওয়া যাবে যখন তখন, কিন্তু তোর ঘাড়ে চেপে ইউরোপ ঘুরে আসা যাবে। তুই কি রুমানিয়াতেই থাকবি? জেট ল্যাগ কাটলে উত্তর দিস।
দাদা

Re: Re: Why did we not know about Avro before?                             12 Sep, 8.40pm (CET)
Sudesh
To Bidesh
দাদা,
জেগে আছিস? আমি ভালয় ভালয় পৌঁছে গেছি, মা কে জানিয়ে দিস। কায়রো কোপেনহ্যাগেন যাত্রায় বিশেষ পুব পশ্চিম হেলদোল নেই, শুধু উত্তরে যাওয়া, তাই জেট ল্যাগ হয় না। শুধু লম্বা যাত্রার ক্লান্তি। রুমানিয়ার কাজ সম্বন্ধে কিচ্ছু জানি না। কাল এয়ারপোর্টে গাড়ি এসেছিল, তার ড্রাইভার ক্রিস্টেন আমার ন্যাওটা। আমাকে পেয়ে যেমন খুশী, তেমনই দুঃখ, আমি চলে যাব বলে। ড্রাইভাররা অনেক খবর শোনে, ওর কাছে জানলাম যে গত কয়েক মাস ধরে এই কাজটা নিয়ে নাকি আমাদের কোম্পানির সব ওপরওয়ালারা খুব একসাইটেড। এবং এও নাকি প্রথম থেকেই স্থির ছিল যে সবচেয়ে কম্পিটেন্ট এঞ্জিনিয়ার হিসেবে এ কাজের দায়িত্ব আমাকেই নিতে হবে। শুনে আমার বেশ কলার তুলে নাচতে ইচ্ছে করল।
কোপেনহ্যাগেনে যে ফ্ল্যাটে কোম্পানি এবারে আমাকে থাকতে দিয়েছে, সেটাতে এর আগে আমি থাকিনি। এটা আরও উঁচু পদের অফিসারদের জন্য। এর অর্থ কি আমার প্রোমোশন হল? নাকি কয়েক দিনের জন্য বলে যেটা খালি আছে সেটাতেই থাকতে দিল, বুঝছি না। যাকগে যাক, এখন তো ঘুমোই।
ভাল কথা, প্রোমোশনের কথাটা এখনি মাকে বরং জানাস না, তার পরে না পেলে দুঃখ পাবে।
ইতি।

Re: Re: Re: Why did we not know about Avro before?                      12 Sep, 7.20 am (IST)
Bidesh
To Sudesh
বুড়ো,
গোটা চিঠিই মাকে দিলাম — কাল সারা রাত মা ঘুমোয়নি। জেগে বসেছিল তুই কখন কোপেনহ্যাগেন পৌঁছবি সেই চিন্তায়। তাই আমি সকালে কম্পিউটার চালান মাত্র এসেছে, এবং তখন আর cut paste করার সময় নেই।
আমি এখন অফিস দৌড়চ্ছি। মেল করিস, পঁরে কথা হবে।
দাদা

Boudi bhalo achho?                                                            13 Sep, 2.53pm (CET)
Bidesh
To Arpita (boudi)
বৌদি,
এই চিঠিটা তোমাকে লিখছি তার কয়েকটা কারণ আছে। প্রথম কারণ এই যে গত কয়েক মাসে তোমাকে আলাদা করে কোনও চিঠি লিখিনি। দ্বিতীয়ত, তুমি আজকাল আমাকে আর চিঠি লেখই না, তাই এই খবরটা তোমাকেই দিচ্ছি।তুমি মা আর দাদাকে জানিও। তৃতীয় কারণ হল এই যে এর মধ্যে ইতিহাসের গল্প আছে, তুমি মজা পাবে।
আমাকে একটা দারুণ কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, জান? এত প্রেস্টিজিয়াস কাজ যে আমি জেনে থেকে আর বসতে পারিনি, শুধু পায়চারি করে বেড়াচ্ছি।
রুমানিয়াতে অনেক প্রাচীন মধ্যযুগীয় প্রাসাদ, দুর্গ, কেল্লা এ সব আছে। তার মধ্যে যেগুলো বিখ্যাত সেগুলো সারিয়ে সাজিয়ে-গুছিয়ে এখন মিউজিয়াম করে রাখা আছে— সারা পৃথিবীতেই তো এই নিয়ম — ট্যুরিস্টরা যাতে টিকিট কেটে ঢুকে দেখতে পারে। রুমানিয়াতে এমন একটা বিখ্যাত কেল্লার নাম ব্র্যান কাস্ল্‌। এর চেয়ে বেশি বলতে পারব না, কিন্তু একটা হেল্প করতে হবে বৌদি। আমাদের ডিরেক্টর মিঃ শুল্‌জ্‌ সারাক্ষণ বলেন — ইতিহাস যে জানে না, সে মানুষটা নাকি গবেট। উনি যখন এই ব্র্যান কাস্ল্‌-এর কথা বললেন, তখন ওঁর হাব ভাব দেখে মনে হল, আমার বোধহয় ব্যাপারটা জানা উচিত, সুতরাং এটা তোমার হোমওয়রক, বৌদি, প্লিজ ব্র্যান কাস্ল সম্বন্ধে আমাকে একটু জানিয়ে দিও।
ব্যাপারটা হল এই যে ব্র্যান থেকে প্রায় ২০০ কিমি দূরে আর একটা কেল্লা আছে, যেটা বহু বছর ধরে পরিত্যক্ত। রুমানিয়ার সরকার ঠিক করেছে, যে এই কেল্লাটাকেও রেস্টোর করে সারিয়ে-সুরিয়ে ট্যুরিস্ট অ্যাট্রাকশন বানাবে। এই কেল্লা আর ব্র্যান কাস্ল্‌-এর ইতিহাস নাকি কাছাকাছি। একই কাউন্ট নাকি দুটোরই মালিক ছিলেন। কেল্লাটা নাকি প্রায় ধ্বংসস্তূপ হয়ে গেছে। সেখান থেকে টেনে তুলে ওটাকে আবার আগের জেল্লায় ফিরিয়ে আনতে হবে। যে কারণেই হোক, সারা ইউরোপ এবং অ্যামেরিকার বিখ্যাত সব আরকিটেক্ট, ইন্টিরিয়র ডিজাইনাররা নাকি লাইন দিয়েছিল কাজটা পেতে। কিন্তু কন্ট্র্যাক্ট পেয়েছি আমরাই। এবং আমার ওপর দায়িত্ব পড়েছে কাজটা করার। ভাবতে পার! আমার রথের চাকা এখন যুধিষ্ঠিরের মত, মাটি থেকে দু ইঞ্চি ওপরে রয়েছে।
রথের কথায় বলি, কোম্পানি আমাকে নতুন গাড়ি দেবে। আমাকে জিজ্ঞেস করেছে কী গাড়ি — যে লিস্ট ধরিয়েছে, দেখে তো আমার হাত কাঁপতে শুরু করেছে। তবে সিলেক্ট করতে দেরী হয়নি। ছোটবেলার শখ নিজের মার্সিডিজ হবে— ওরা অফার করেছে, ওমনি একেবারে লাফিয়ে নিয়ে নিয়েছি।
এই ফ্ল্যাটটা এখন আমার। অর্থাৎ এমন এক পোস্ট, যে আমি কোপেনহ্যাগেন ছেড়ে গেলেও এই ফ্ল্যাট আমারই থাকবে।
বৌদি, মাইনেও বেড়েছে। অনেকটা বেড়েছে। দাদাকে বলবে, নতুন জমিতে বাড়ি করতে আর কোনও দিকে ছাঁটকাট করতে হবে না।
ঈশকে আমার ভালবাসা দিও।
ইতি,
বুড়ো

Re: Boudi bhalo achho?                                                             13 Sep, 11 pm (IST)
Arpita (boudi)
To Sudesh
বুড়ো/ঠাকুরপো,
তুমি কি ভ্লাড ড্রাকুল, বা ড্রাকুলা সম্বন্ধে কিছু জান?
বৌদী

Re: Re: Boudi bhalo achho?                                                     13 Sep, 11.03 pm (CET)
Bidesh
To Arpita (boudi)
ড্রাকুলা মানে কি ওই বাচ্চাদের ভয় দেখানোর জন্য বানানো রক্তচোষা বাদুড়ের গল্প? সে আর জানার কী আছে? নাকি আমি জানি না এমন কিছু আছে?
বুড়ো

Re: Re: Re: Boudi bhalo achho?                                                   14 Sep, 3.19 pm (IST)
Arpita (boudi)
To Sudesh
বুড়ো,
তোমাদের দুই ভাইকে নিয়ে আমি কী করি বল তো! তোমরা ড্রাকুলার গল্পও জান না? কাল দেখলাম তোমার দাদা ড্রাকুলার নামই শোনেনি। তোমরা যখন ছোট ছিলে গ্রামের স্কুলে লাইব্রেরীও ছিল না? কোনও টিচার কোনও দিন ব্রাম স্টোকারের নামও বলেননি! কী আশ্চর্য!
গল্পটা বলব না, নিজে পড়বে। ইংরেজ উকিল জোনাথান হারকার, তার স্ত্রী মিনা, ডা সিওয়ার্ড, আর্থার হোমউড, ভ্যান হেলসিং — এদের আশ্চর্য কাহিনীর উৎস ছিল ট্র্যান্‌সিলভেনিয়ার বিখ্যাত ব্র্যান কাস্ল্‌ যার মালিক কাউন্ট ড্রাকুলা, সব রকম অশরীরীর অধীশ্বর, এবং কাহিনী ছিল ওই চার জন তাদের কী করে সমন সদনে পাঠাল তার গল্প। পড়লে গায়ে কাঁটা দেয়। You must read it, বুড়ো।
এ সব গল্প কথা, কিন্তু ব্র্যান কাস্ল্‌-এর আসল মালিক কাউন্ট ভ্লাদ ড্রাকুলও খুব ভাল লোক ছিলেন না। বীর ছিলেন, কিন্তু অনেক যুদ্ধে অনেক রক্তগঙ্গা বইয়েছিলেন। সেই জন্যই ব্রাম স্টোকার সহজেই ড্রাকুল নামকে ড্রাকুলা বানিয়ে গল্পের ভিলেন বানিয়েছিলেন। আষাঢ়ে গপ্পো সন্দেহ নেই, কিন্তু সাংঘাতিক লেখা, ১৮৯৭ থেকে এমনি এমনি “The most famous horror story ever told” আখ্যা পায়নি।
ইতি,
বৌদি

Boudi — Dracula-r deshe chollam                                               15 Sep, 8.53 pm (CET)
Bidesh
To Arpita (Boudi)
মা, বৌদী,
চলেছি একা, কোন অজানায়! গাড়িতে অজস্র গানের কালেকশন নিয়ে বেরিয়েছি কাল সকালে। সকলে বলেছিল এখানকার যা রাস্তা তাতে দিন রাত যখন খুশি গাড়ি চালিয়ে যেখানে খুশি চলে যাওয়া যায়, কিন্তু আমি তা করছি না। সকালে চালাতে শুরু করব রোজ, যেখানে ভাল লাগবে সেখানে সেখানে থেমে, কফি খেয়ে সারা দিন চলে সন্ধেতে যেখানে পৌঁছব, সেখানেই আস্তানা গাড়ব সে রাতের মত। ছবির মত দেশ! এ দেশে গাড়ি চড়ে যাবার আনন্দই আলাদা।
ইউরোপ-এর সুবিধা হল এই যে প্রায় সব শহরেই ছোটো ছোটো কিন্তু সুন্দর হোটেল মোটেল বা ইন আছে। অ্যামেরিকার মত মিথ্যে চাকচিক্যভরা না, কিন্তু আন্তরিক এবং comfortable। আজ আছি উইটস্টক শহরে। ছোট্ট সাত কামরার হোটেল, পেনশন সোনেওয়ল্ড্‌। আজ রাতে আমি একমাত্র গেস্ট, কিন্তু ডাইনিং রুম আর বার একেবারে ভরা।
সারা দিন গাড়ি চালিয়ে ক্লান্ত — এখন ঘুমোচ্ছি। পরে আবার চিঠি দেব।
বুড়ো।

বুড়ো, সাবধান                                                                          16 Sep, 7.06 am (IST)
Bidesh
To Sudesh
বুড়ো,
মা বলেছে তোকে বলতে যে বেশি মদ খেয়ে গাড়ি চালাস না। তোর চিঠি আমরা সব্বাই মন দিয়ে পড়ছি। মার্সিডিসের ছবি দেখে ঈশ খুব একসাইটেড। বার বার বলছে গাঈঈঈঈ গাঈঈঈঈ।
ইতি,
দাদা।

Re: বুড়ো, সাবধান                                                                     16 Sep, 8.40 am (CET)
Sudesh
To Bidesh
মা,
কোন চিন্তা কোর না, এ সব দেশে ওরকম করা যায় না, আর আমি যে বিশেষ মদ খাই না, একা থাকলে তো একেবারেই না, তা তো তোমরা জানই। এখুনি বেরোব, আজ সারা দিন গাড়ি চালাব।
ইতি,
বুড়ো

Pouchhe gechhi                                                                  19 Sep, 8.00 pm (CET)
Sudesh
To Bidesh
দাদা, বৌদি, মা,
গত ক’ দিন চিঠি লেখার সময় পাইনি। ছুটোছুটি, দৌড়োদৌড়িতে কেটে গেছে। ফোনে খানিকটা বলেছি, এখন বাকি ডিটেল দিচ্ছি।
গতকাল গিয়ে পৌঁছেছিলাম ব্র্যান। এখানেই সেই বিখ্যাত ব্র্যান কাস্ল্‌, কুখ্যাত কাউন্ট ভ্লাদ ড্রাকুলের আস্তানা বলে খ্যাত। আমার থাকার কথা ছিল ব্র্যান-এই। কিন্তু দুটো কারণে সেখানে থাকছি না। এক হল এখান থেকে আমার ভাঙা কাস্ল্‌ নাকি প্রায় ২০০ কিমি দূরে। রোজ এত দূর থেকে তো কাজ করতে যেতে পারব না! আর দ্বিতীয় হল আমার আসার খবর আমার আগেই এখানে পৌঁছে গেছে। এখানকার লোকেদের ধারণা হয়েছে যে আমি নাকি ওদের রুজিরুটির মূলে কুঠারাঘাত করতে এসেছি। ব্র্যানের একমাত্র রোজগার হল ট্যুরিজম। আর লোকে আসে ড্রাকুলার দুর্গ দেখতে। এখন যদি ২০০ কিমি দূরে আরেকটা ড্রাকুলার দুর্গ থাকে, তাহলে তো ওদের রোজগার কমে যাবে। হোটেলে ঢুকে এতই বিশ্রী ব্যবহার পেলাম, যে ঠিক করলাম এখানে থাকা যাবে না। কোপেনহ্যাগেন-এ যোগাযোগ করলাম, শুলজ্‌ রাজি হলেন। আমি তাই আরও খানিকটা এগিয়ে এসেছি এখন আছি ক্লুজ ন্যাপোকায়। জার্মান নাম ক্লজেনবার্গ —ক্লুজ ন্যাপোকা এখানকার ডিস্ট্রিক্ট হেড কোয়ার্টার মত একটা জায়গা, তুলনায় বড় শহর, এবং ব্র্যান-এর মত এখানকার লোকেরা ব্র্যান কাস্ল্‌ নিয়ে মাথা ঘামায় না।
এই জায়গাটাও আমার কাজের জায়গা থেকে অনেকটাই দূর। প্রায় ১২৫ কিমি। শুলজ্‌ বলেছেন আগামী দু-এক দিনের মধ্যে জার্মানি থেকে এক জন জুনিয়র আর্কিটেক্ট আসবেন আমার অ্যাসিস্ট্যান্ট হয়ে, তিনি নাকি এই চত্বরটা চেনেন ভালো। তত দিন আমার কাজ হল ব্র্যান কাস্ল্‌ দেখে ড্রাকুলার টেস্ট এবং চরিত্র সম্বন্ধে কিছু আইডিয়া তৈরি করা, যাতে সেগুলো নিয়ে যেতে পারি নতুন জায়গায়। নতুনটা আবার তৈরি করার পরে ব্র্যানের কার্বন কপি হবে না, কিন্তু দেখে যেন মনে না হয় একেবারে অন্য জায়গা!
এই ব্যাপারটাই আমার কাছে অদ্ভুত ঠেকছে। বৌদী, কী আশ্চর্য দেখ, ১২১১ থেকে যে দুর্গের existence, কত রকমের ইতিহাস যেখানে লেখা হয়েছে নিশ্চয়ই, কিন্তু এই বিরাট আটশো বছরের ইতিহাসে, দু’ দফায় মাত্র ছয়-ছয় বারো বছর রাজত্ব করেছিলেন ভ্লাদ ড্রাকুল, তাঁর কথাটাই লোকে মনে রেখেছে। আমাদের মানসিকতায় অন্যায়, অপরাধ, নিষ্ঠুরতার এতই প্রবল প্রভাব। অবশ্য অনেক পড়াশোনা করেছি এ ক’ দিন ইন্টারনেট খুলে, লোকটার সম্বন্ধে অনেক ভাল কথাও লেখা আছে কিন্তু।
এখন এই পর্যন্ত... খেতে যাচ্ছি, পরে আবার লিখব।
ভাল কথা, খেয়াল হল লিখিনি, আমি যে কাস্ল্‌ নিয়ে কাজ করতে যাব, তার নাম ওরডুগাহ্‌। অদ্ভুত নাম।


বুড়ো
Re: Re: Re: Re: Boudi bhalo achho?                                            20 Sep, 3.19 pm (IST)
Arpita (boudi)
To Sudesh
বুড়ো,
তোমার চিঠি পড়ে খুব অবাক হয়ে ভাবলাম, কখনও কেউ ভেবে দেখেছে, ওরডুগাহ্‌, ব্র্যান, এ সব শব্দের অর্থ কী? খুঁজে দেখলাম সহজেই পাওয়া যায়। তুর্কীদের তৈরি ব্র্যান কাস্ল্‌ এর ব্র্যান মানে গেট বা ফটক, আর ওরডুগাহ্‌ মানে ক্যাম্প! অর্থাৎ ওরা নিশ্চয়ই প্রথমে ব্র্যান তৈরি করে পরে ওরডুগাহ্‌ বানিয়েছিল। ওরডুগাহ্‌-এর কোন রেফারেন্স পেলাম না। যে কারণেই হোক, ইতিহাসের পাতা থেকে তার অস্তিত্ব মুছে গেছে। কেন, কে জানে।
আবার ভ্লাদ ড্রাকুল, বা ভ্লাদ দি ইম্‌পেলার, বা ভ্লাদ টেপেস, ইনিই বা ব্রান কাস্লএর সঙ্গে এমন ওতপ্রোত জড়িয়ে পড়লেন কী করে? কেন? ড্রাকুলের চেয়ে অনেক মডার্ন, ব্রান-এর সঙ্গে অনেক বেশি কাছের থেকে জড়িত কুইন মারীর কথা কেন আসে না?
তোমার এই অ্যাসাইনমেন্টটা নিয়ে আমি খুব উত্তেজিত বোধ করছি।
ইতি
বৌদি।
পুনশ্চঃ এবার মায়ের কথা রাখ, বিয়ে থা কর। “পরীক্ষা পাশ করি”, “চাকরী পাই”, “বিদেশ গেছি, দেখি থাকতে পারি কি না...” এসব অনেক তো হল, সাকসেসও কম পাচ্ছ না। মার বয়স হয়েছে, আর “বিয়ে করব না” এমন ধনুক-ভাঙা পণ তো করনি কখনও?

Re: Re: Re: Re: Re: Boudi bhalo achho?                                       20 Sep, 8.15 pm (CET)
Sudesh
To Arpita (boudi)
এই বার মনে পড়েছে কেন দু’ বছর তোমার সঙ্গে চিঠিতে যোগাযোগ রাখিনি।
বুড়ো

A lot of happenings…                                                             22 Sep, 6.02pm (CET)
Sudesh
To Bidesh
দাদা,
গত দু দিনে অনেক ঘটনা ঘটে গিয়েছে। মধ্য ইউরোপে আজকের যুগে এমন বর্বরোচিত আচরণ দেখতে পাব ভাবিনি। এ রকম ঘটনা মধ্য প্রাচ্যে ঘটলে আমরা আশ্চর্য হই না, কিন্তু তথাকথিত সভ্য দেশে দেখব ভাবিইনি।
প্রথমত আমি এখন আর ক্লুজ ন্যাপোকায় নেই। ২০ তারিখই ওখানকার হোটেলের মালিক এসে আমাকে যা বললেন তাতে আমি হতবাক। বললেন, এখানকার লোকের নাকি বিশ্বাস যে কাউন্ট ড্রাকুলা নাকি মারা যাননি। সেই চোদ্দশো কত সাল থেকে এখনও বেঁচে আছেন, এবং যে কোন দিন ওঁর আবির্ভাব ঘটতে পারে! ওরা বিশ্বাস করে যে ড্রাকুলা এখনও আসছেন না, কারণ ওঁর বাসস্থানের অভাব। আমি যদি ওরডুগাহ্‌ কাস্ল্‌ আবার করে তৈরি করি, তাহলে তিনি নিগ্‌ঘাত আবার আবির্ভূত হবেন! আমি বললাম, “ব্র্যান কাস্ল্‌ই তো ওঁর থাকার জায়গা। ওখানে না থেকে তিনি এখানে আসবেন কেন?” উত্তর পেলাম, কাউন্ট নাকি চিরকালই ব্র্যান-এর চেয়ে ওরডুগাহ্‌কে ওঁর শান্তির বাসস্থান হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এমনকি ১৪৬২-র পর থেকে যখনই ওঁর আবির্ভাব হয়েছে, তখনই নাকি ওই ওরডুগাহ্‌ কাস্ল্‌-এই ওঁকে প্রথম দেখা যায়। অর্থাৎ ব্র্যান ওঁর শাসনের পীঠস্থান হলেও ওরডুগাহ হল ওঁর শান্তির আসন। আমি মনে মনে ভাবলাম, শবাসন! কিন্তু বুঝলাম লোকটা খুব সিরিয়াসলি কথাগুলো বলছে। লোকটা আবার শুধু হোটেলওয়ালা নয়, ক্লুজ নাপোকার চেম্বার অব কমার্সের হত্তাকত্তা। তাই বেশি তর্কাতর্কিতে না গিয়ে বললাম, “আমাকে কী করতে বল?”
ভদ্রলোক নির্দ্বিধায় বললেন, “আপনি এখান থেকে চলে যান। ওরডুগাহ্‌ আমাদের দরকার নেই!”
আমি হতবাক! আমার ধারণা ছিল ব্র্যান সমতুল্য একটা ট্যুরিস্ট অ্যাট্রাকশন পেলে গোটা এলাকাটারই একটা হিল্লে হয়, তা নয়, আমাকে সটান বলা হল,“চলে যাও!”
পরদিন আমার একজন নয়, দু’জন অ্যাসিস্ট্যান্ট এসে হাজির। একজন রুমানিয়ান। নাম আইগর। অন্যজন অ্যাগনেস। জার্মান। আইগর আমারই মত আর্কিটেক্ট, কিন্তু অনেকটাই জুনিয়র, আর অভিজ্ঞতাও আমার চেয়ে কমঅ্যাগনেস আমার প্রায় সমবয়সী, কোনদিন আর্কিটেকচার পাশ করেছিল, কিন্তু ওর অভিজ্ঞতা এবং স্পেশালাইজেশন হল ইন্টিরিয়ার ডিজাইনিং-এ। অ্যাগনেস জার্মান হলেও ওর পূর্বপুরুষরা এক সময় নাকি এই চত্বরেই থাকত, তাই ওরা দু’জন লোক্যাল কাসটম আর বিলিফ ভালই বোঝে। ওরা আমার সমস্যা বুঝে অনেকটাই ঘোরাঘুরি করে ফিরে আমাকে জানাল যে আশপাশের আম-জনতা সত্যিই বিশ্বাস করে যে কাউন্ট ড্রাকুল অমর, তিনি কিছুদিন পর পর এই ওরডুগাহ্‌ থেকেই উত্থান করেন। আমরা যেখানেই যাই এই সমস্যা অতিক্রম করেই কাজ করতে হবে। কিন্তু রুমানিয়ার সরকার আমাদের কাজ দিয়েছে, সুতরাং লোকে খুব আপত্তি করবে না।
আজ সকালে আমরা এসে পৌঁছেছি অ্যাগ্নিটা গ্রামে। ওরডুগাহ্‌ এখান থেকে মাত্র ৩৫ কিমি। এখানে আপাতদৃষ্টিতে কোন সমস্যা নেই। গ্রামের লোক বেশ হাসিখুশি, ওয়েলকামিং। একটা হোটেল পেয়েছি, Pensiunea Rustic তার নাম ভাবা যায় না, কী সুন্দর। ছবি অ্যাটাচ করে পাঠালামআমি একটা স্যুইট নিয়েছি। তার এক দিকের জানলা দিয়ে পাহাড় আর অন্য দিকে বারান্দা (terrace) থেকে নদী দেখা যায়। এখানেই পড়ে থাকতে মন চায়।
কাল যাব ওরডুগাহ্‌ দেখতে। উত্তেজনায় আমার রক্ত টগবগ করে ফুটছে।
বুড়ো
ঈশ কেমন আছে রে?

A lot of happenings…2                                                           24 Sep, 11.03 am (CET)
Sudesh
To Bidesh
দাদা, বৌদি, মা,
কাল খুব ক্লান্ত হয়ে ফিরেছিলাম। সারাদিন তিন জন কাটালাম ওরডুগাহ্‌ কাস্ল্‌-এ। এটা কাস্ল্‌ না, ধ্বংসাবশেষ। কোটি কোটি ডলার খরচ করে এই কাস্ল্‌-এর মেরামত, এর ব্যবহারযোগ্যতা, অন্দর-বাহির সারাতে অন্ততঃ বছর দুয়েক থেকে তিনেক লাগবে। কাল দিন গেল ছবি তুলতে। অজস্র ছবি তুলে হেড অফিস পাঠাব, যাতে ওরাও কাজের বহরটা বুঝে রুমানিয়ার সরকারের সঙ্গে নেগোশিয়েট করতে পারে। বিরাট কাজ, আমার মতে আর একজন আর্কিটেক্ট থাকলে ভাল হত। অ্যাগনেস ইন্টিরিয়ার ডিজাইনার, কাজের এই পর্যায়ে ওর না থাকলেও চলবে।
অ্যাগনেস আর আইগর ক্যামেরা আর ছবি আমার চেয়ে ভাল বোঝে, কাল ফিরে এসে দুজনে অত রাত্তির থেকেই প্রায় সাড়ে চারশ ছবি নিয়ে বসে গেছে — আজ সকালে খাবার ঘরে দেখা হল, দুজনেই তৈরি, আবার এডিটিং-এ বসবে। কাজ শেষ করে আমাকে ডাকবে, দেখা যাবে কোন-কোনগুলো আমরা হেড অফিস পাঠাব নীলসেন আর শুল্‌জ্‌-এর জন্য।
কাল রাত্তিরে ভীষণ ক্লান্তি সত্ত্বেও ইনটারনেট থেকে ডাউনলোড করে রাখা ব্রাম স্টোকারের ড্রাকুলা পড়তে শুরু করে আর থামতে পারি না! সে কী সাংঘাতিক লেখা বৌদি, ভাবতেও পারবে না রাত্তির দু’টো অবধি একটানা পড়ে ফেললাম! বেশি দূর এগোইনি, তবে জান, এমন একটা গল্প আমি বাংলায় পড়েছিলাম একবার। গ্রামে আমাদের বাংলা স্যরের কাছ থেকে বই এনে। মনে আছে হেমেন রায়ের লেখা গল্প ছিল। নামটা মনে ছিল না। তবে পড়তে পড়তে ভাবলাম তোমাকে চমকে দেব — তাই যখন ইনটারনেট খুঁজে বুঝলাম হেমেন রায় বিশালগড়ের দুঃশাসন ড্রাকুলাকে নকল করেই লিখেছিলেন, তখন হতাশ হলাম।
এখন সকাল এগার’টা। একটু আগে আইগর ফোন করে বলল ওর শরীর চলছে না। তাই একটু ঘুমিয়ে নিয়ে আবার ছবি নিয়ে বসবে। আমি ওকে বলেছি বেশ কথা, আমি এই ফাঁকে গ্রামের দিকে ঘুরে আসি একটু।
পরে আবার লিখব।
বুড়ো।

A lot of happenings…3                                                           29 Sep, 6.02 pm (CET)
Sudesh
To Bidesh
দাদা,
ক’দিন কাজের চাপে লিখতে পারিনি। তবে তোদের ই-মেইল-এর এক এক লাইন উত্তরে বুঝেইছিস যে ভালই আছি।
এ ক’দিনে আমাদের প্ল্যান প্রোগ্রাম অনেকটাই এগিয়েছে। এ ছাড়া কিছু অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ঝামেলাও এসে পড়েছে, সেগুলোও সামলাচ্ছি। প্রোমশন হওয়া মানে শুধু মাইনে বাড়া নয়, ইঞ্জিনিয়ারিং-এর সঙ্গে সঙ্গে বস্‌গিরিও করতে হচ্ছে। তোরা কেমন আছিস? বৌদিকে বলিস, মাঝখানে ড্রাকুলা পড়া একটু স্লো হয়েছিল, কিন্তু আবার চালু হয়েছে
বুড়ো।

Phirchhi, apatoto kaaj shesh                                                   12 Oct, 2.30 pm (CET)
Sudesh
To Bidesh
দাদা,
আপাততঃ কাজ শেষ। আজ রওয়ানা দিচ্ছি কোপেনহ্যাগেন। একটু পরেই আমরা তিনজনেই আমার গাড়িতে যাত্রা শুরু করব। এখন এখানে আর কোন কাজ নেই। গত কাল জরীপ টিম ওদের কাজ শেষ করে ফিরে গেছে। এখন আমার কাজ পুরনো ওরডুগাহ্‌-এর যত রেকর্ড আছে সেগুলো নিয়ে বসে যথাসম্ভব আগের মত করেই নতুন কাস্ল্‌-এর ডিজাইন কনস্ট্রাকশন করব।
সে কাজের জন্য রুমানিয়াতে থাকতে হবে না। কোপেনহ্যাগেন গিয়েই করতে হবে। রাস্তায় সুযোগ হলে চিঠি দেব। নইলে একেবারে কোপেনহ্যাগেন গিয়ে লিখব।
বুড়ো

3 great bits of news                                                               12 Oct, 1.09 am (CET)
Sudesh
To Arpita (boudi)
বৌদি,
এই চিঠিটা তোমাকে লিখছি কারণ তুমি লিখেছিলে ওরডুগাহ্‌ কাস্ল্‌এর কোন রেফারেন্স পাওনি। সত্যি বলতে কী, আমিও পাইনি। তাই আমার ধারণা ছিল নতুন কাস্ল্‌ একেবারে আমার নিজেরই সৃষ্টি হবে। তাই গত ক’দিন আমি রুমানিয়া, বাভারিয়া, জার্মানির বিভিন্ন কাস্ল্‌-এর কনস্ট্রাকশন, প্ল্যান, স্ট্রাকচার নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেছিলাম। নীলসেন আর শুল্‌জ্‌কে বলে নিয়েছিলাম, যে এই এত্তোবড় প্ল্যান আমার একার দ্বারা হবে না।
আজ সকালে শুল্‌জ্‌ ডাকলেন ওঁর অফিসে। সত্যিই লোকটা শ্রদ্ধা করার মত। রিসার্চ করা কাকে বলে ওঁর কাছ থেকে শিখতে হয়। আমাকে প্রায় সাতাশটা ছবি দিয়েছেন ওরডুগাহ্‌ কাস্ল্‌-এর! সবকটাই হাতে আঁকা — বিভিন্ন ধরণের ছবি — বিভিন্ন সময়ের। প্ল্যান বলে তেমন কিছু নেই — কিন্তু কেল্লাটা দেখতে কেমন ছিল, কত বড় ছিল, কটা ফ্লোর ছিল, এ সব বেসিক ইনফরমেশন রয়েছে।
আমি হাঁ করে চেয়ে রয়েছি, বললেন, “সবই তো ইনটারনেটে ওঠেনি, তাই লাইব্রেরী জিনিসটার এখনও ভ্যালু রয়েছে।” আপাতত এই সব ছবি আমার জিম্মায়, খুব কড়া স্বরে বলা হয়েছে আমার অফিসের বা অন্য কেউ যেন ঘুণাক্ষরেও না জানতে পারে এ সব ছবি পাওয়া গিয়েছে।
দ্বিতীয় খবরটা হল এই যে খবর এসেছে যে এ বছর ইউরোপে শীতের প্রকোপ একটু বেশিই পড়বে। এই সঙ্গে জানা গিয়েছে যে ব্র্যান, ওরডুগাহ্‌ - এ সব চত্বরে বরফ পড়া শুরু হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে এবারে হয়ত আগামি এপ্রিলের আগে ওখানে কিছু করাই যাবে না।
এর থেকে আসছে তৃতীয় ভাল খবরটা। যেহেতু এখন সব কাজটাই কাগজে কলমে, তাই আমাকে কোপেনহ্যাগেনে বসে থাকতে হবে এমন বাধ্য-বাধকতা নেই (বড় বস হওয়ার আরও একটা সুবিধা)। যেটুকু কাজ আমি দেশে ফিরেই করতে পারব। শুল্‌জ্‌ আমাকে বলেছেন, চাকরি পাবার পর থেকে এই প্রথম আমি ৪ মাস দেশে কাটাব একটানা। কোনও প্রয়োজনে যাতে আমি চট করে ফিরতে পারি, সেটা ম্যানেজ করতে পারলেই হবে।
পয়লা নভেম্বর রওয়ানা দেব। আপাতত ফেব্রুয়ারির ২৭শে ফেরার টিকিট করা আছে। সুতরাং, দাদাকে বলো, কষা মাংস, ডাব চিংড়ি, চিতলের মুঠিয়া, বাটি চচ্চড়ি, রাবড়ি, ভাপা দই, নলেন গুড়ের মিষ্টি ইত্যাদি সবই চাই, আর তুমি আর মা-ও দেরি না করে রেসিপির খাতাগুলো ঝেড়েঝুড়ে বের করে রাখো
ঈশের জন্য অনেক খেলনা আনছি। এ দেশে বাচ্চাদের খেলনা দেখলে ইয়ে হয়ে যেতে ইচ্ছে করে!
ইতি,
বুড়ো।

Re: 3 great bits of news                                                           13 Oct, 9.09 pm (IST)
Bidesh
To Sudesh
বুড়ো,
গ্রেট নিউজ। শুনে থেকে মা আর বৌদি উত্তেজনায় ছটফট করছে। শোন, কোপেনহ্যাগেন থেকে কী কী নিয়ে আসবি তার একটা লিস্ট পাঠাব কাল অফিস থেকে। সময়ওতো নেই। তাড়াতাড়ি জোগাড় করবি।
দাদা

Re: 3 great bits of news                                                           15 Oct, 7.00 am (IST)
Bidesh
To Sudesh
বুড়ো,
আমরা সবাই ঠিক করেছি তোকে নিতে এয়ারপোর্ট যাব। মা বলেছে যাবেই যাবে — আমি তো যাবই — তাই অর্পিতা বলল ওই বা কেন বাদ যাবে? অর্থাৎ সকলেই যাব। একটা গাড়ি ভাড়া করে নেব, ছোট গাড়িতে তোর গাবদা সুটকেস আর আমরা ৪জন আঁটব না।
ফ্লাইট ডিটেল জানাস।
দাদা



দ্বিতীয় খণ্ড


Reached Safely 15 Feb, 9.34 pm (CET)
Sudesh
To Arpita (boudi)
বৌদি,
ভালোয় ভালোয় এসে পৌঁছেছি। রাত্তিরে বাড়ি ফেরা এক ঝকমারি। এর পর থেকে খেয়াল রাখতে হবে এত রাতে এসে পৌছন' চলবে না। এ তো আর মা-বৌদির ম্যানেজড ঘর-দুয়ার না, যে চার মাস পরে ফিরলেই বা কী, আর চার বছর পরে ফিরলেই বা কী! সাফ-সুতরো সব নিজেকেই করতে হয়। যদিও জ্যানিটর সার্ভিস আছে...এয়ারপোর্টে মা বড্ড কান্নাকাটি করছিল। আশাকরি তারপরে শরীর খারাপ হয়নি। ঈশের জন্যও আমার মন খারাপ করছে। কাকা-কাকা বলে গলা জড়িয়ে ধরছিল বারবার। ওর সঙ্গে কথা বলে একটা ভিডিও পাঠালাম। এরপর স্কাইপে কথা বলব।আজ এই পর্যন্ত।
বুড়ো
Re: Reached Safely 15 Feb, 10.10 pm (IST)
Arpita (boudi)
To Sudesh
বুড়ো,
সত্যি কটা দিন কী ভাল কাটল, তাই না? তুমি চলে যাবার পরে বাড়িটা ফাঁকা। ঈশ খুব কান্নাকাটি করেছে, কিন্তু সেই জন্যই আবার দেখলাম মা আর অতটা কাঁদছেন না। আচ্ছা, একটা কথা এবার ভেবে দেখ। এই বাড়ি ঘর-দোর কতদিন আর নিজে নিজে সামলাবে? রাত্তিরবেলা ফিরে ধুলো ঝেড়ে ঘুমোতে যাবার মত কষ্টকর আর কী আছে? এবার একটু ভাবো। এই সব ধকল শেয়ার করার জন্য কেউ যদি সঙ্গে থাকে তাহলে কি খুব খারাপ হবে?
বৌদি।

Re: Re: Reached Safely
17 Feb, 11.30 pm (CET)
Sudesh
To: Arpita (boudi)
বৌদি,
আমি শক্‌ড্‌! তুমি আজকের যুগের মেয়ে হয়ে বাড়ি সাফ করার জন্য বিয়ে করতে বলছ? সেই মেয়েটার কি আর কোন আইডেন্টিটি তুমি ভাবতে পারলে না? সত্যি কথা বলতে কি, দেশে চার মাস খুবই আনন্দে কাটিয়েছি, except মায়ের ওই পৌঁছনমাত্র আটান্নটা আর দৈনিক গড়ে চোদ্দটা ছবি দেখিয়ে, "দেখ তো পছন্দ হয় কি না?" জিজ্ঞেস করাটা বাদে। ওটা বাদ দাও। আর তাছাড়া এখন আমার ভয়ানক কাজের চাপ। আমার সমস্ত প্ল্যান, ড্রয়িং, যা কিছু আমি পাঠিয়েছিলাম দেশ থেকে, সবই নীলসেন আর শুল্‌জ্‌ খুঁটিয়ে দেখেছে। আর এখন আমার চলছে পরীক্ষা! বাপরে! প্রায় কোন কিছুই বুড়ো শুল্‌জের চোখ এড়ায় না! প্ল্যানের স্ট্রাকচারাল ডিটেল বল, গ্রাউন্ড ইউটিলাইজেশন বল, বিউটি বল, ঐতিহাসিক ডিটেল বল, সবই গুলে খেয়ে লোকটা একেবারে ফিনিশড দুর্গটা চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছে যেন। রাত জেগে ড্রয়িং আর প্ল্যান কারেক্ট করছি। এর মধ্যে আবার অ্যাগনেসকে রাখতে হচ্ছে 'লুপে'। সুতরাং প্রত্যেকটা প্ল্যান আমাদের ভেবে ভেবে করতে হচ্ছে। কিছু একটা শেষ করেই আগে অ্যাগনেসকে পাঠাও, সে কিছু বললে সে রকম চেঞ্জ কর, তারপরে শুল্‌জ্‌কে মেইল কর! গত তিন দিন রাত দু'টো তিনটে বেজে যাচ্ছে ঘুমোতে যেতে। তাতেও কি শান্তি আছে? বুড়ো শুল্‌জ্‌ ঘুমোয় রাত্তির নটায়, ওঠে ভোর পাঁচটায়। সকাল আটটার মধ্যে অফিস ঢোকে। সকাল নটায় আমাকে হাজির হতে হয়। ডেকে পাঠান এগারোটা থেকে যে কোনও সময়ে। তারপরে চলে ম্যারাথন।গত ক'দিন বোধহয় ঘুমটা কম হওয়ার জন্য একটু ক্লান্ত লাগছে। আজ তাই তাড়াতাড়ি শোব। ভাগ্যে শুল্‌জ্‌ বেশি কাজ দেননি। শেষ হয়ে গিয়েছে তাড়াতাড়ি। এখন অ্যাগনেস দেখে হ্যাঁ বললেই আজ আমার ছুটি।মা ভাল আছে? আর ঈশ?
বুড়ো

Re: Re: Re: Reached Safely
17 Feb, 10.38 pm (IST)
Arpita (boudi)
To: Sudesh
বুড়ো,
এতদিন পশ্চিমে থেকেও তোমার মনোভাব এখনও আমাদের পিতৃতান্ত্রিকতা থেকে বেরোতে পারল না? বিয়ে করতে বলেছি তোমার যাতে ঘর সাফ করার লোক পাও? শেয়ারিং কথাটার কোন অর্থ শেখোনি? দিনের শেষে, বেড়ান'র শেষে, খালি বাড়িতে ঢুকে অন্ধকারে একা-একা আলো জ্বালতে ভালো লাগে? নিঃশব্দ বাড়িতে একা সন্ধে কাটিয়ে রাতে ঘুমোতে যেতে ভালো লাগে? বিয়ে করলে বউ ঘর সাফ করবে কেন? তুমিও করবে, সেও করবে। দুজনে একসঙ্গে বেড়াতে যাবে, একসঙ্গে সিনেমা দেখবে, রান্না করবে... আর কী কী করবে সেটা বৌদি হবার খাতিরে তোমাকে শিখিয়ে দেবার অধিকার আমার আছে, কিন্তু সেগুলো পরে হবে। আগে পাত্রী জোগাড় কর। মা বলছিলেন, এত দিনে যদি মেমসাহেবও একটা জোগাড় করে উঠতে পারত... ব্যস, অনুমতি হয়ে গেছে, শ্বেতবর্ণা, বিড়ালাক্ষী, বা আবলুশ কাঠ, স্প্রিং-এর মত চুল, যাই আনো, মা আনন্দই পাবে। শুধু বোধহয় হিজাব, নাকাব আর বোরখা হলে খুব সুনজরে দেখবেন না।বাড়িতে চিঠি লেখার সময় যদি না-ও পাও, বেশি না ঘুমিয়ে কাজ করবে না। তাতে শরীর অসুস্থ হবে। শুল্‌জ্‌কে বলবে তিনি তোমাকে চার মাসের জন্য দেশে পাঠিয়ে মোটেই কোন বিশেষ দয়া করেননি। প্রায় আট ঘণ্টা দৈনিক কাজ করিয়েছেন। সুতরাং কোপেনহ্যাগেন ফিরে কেন এত কাজের চাপ?ঈশ তোমার ভিডিও রোজ দেখে। স্কাইপ করার সময় না পেলে আরও কয়েকটা পাঠিও। মা-ও দেখেন। মাকেও দু'টো কথা বলে দিও। খুশি হবেন।
ইতি,
বৌদি।

No time to breathe
 21 Feb, 7.18 am (CET)
Sudesh
To: Bidesh
দাদা,
ভাল আছি। নিঃশ্বাস ফেলার সময় নেই। গত দু'দিন অফিস থেকে বাড়ি যাইনি।
বুড়ো

Re: No time to breathe
21 Feb, 10.04 am (IST)
Bidesh
To: Sudesh
Alright.
I am at office. In meeting now. Take care.
Re: No time to breathe
21 Feb, 4.04 pm (IST)
Bidesh
To: Sudesh
বুড়ো,
একটা অদ্ভুত ব্যাপার হয়েছে। তোকে জানাচ্ছি। তুই সকালে email করার পরেই দেখি আর একটা mail এসেছে, একটা কোন আইগর অ্যালেকজান্দ্রেস্কু পাঠিয়েছে, তার subject line হল — about your brother Sudesh। প্রথমে খুলে বুঝিনি, কারণ সে কয়েক পাতা লম্বা চিঠি, আর কাজের চাপও ছিল অঢেল। তারপরে এক্ষুনি খুলে দেখি সে এক আশ্চর্য চিঠি। তার মধ্যে তোর বিরুদ্ধে নানা আলিগেশন... চিঠিটা ফরওয়ার্ড করলাম, একটা সামারিও দিচ্ছি।এই আইগরের বক্তব্য হল তুই নাকি অ্যাগনেস বলে কোন একটা জার্মান মেয়ের সঙ্গে লিভ-টুগেদার করছিস, কিন্তু তুই জানিস না সে মেয়েটা নাকি সাংঘাতিক বিপজ্জনক, সে আইগরকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু আইগর তাকে পাত্তা না দেওয়াতে, সে তোকে হাত করেছে। তুই নাকি সেই মেয়েটার ওস্কানিতে ওকে চাকরি থেকে তাড়িয়েছিস। আমি ঘাবড়ে গিয়ে তোর বৌদিকে ফোন করলাম, শুনলাম তুই নাকি ওই দুটো নাম আগে লিখেছিস — ওরা তোর সঙ্গে কাজ করে। ছেলেটা লিখেছে ওর চাকরি গেছে তাতে ওর আপত্তি নেই, কিন্তু ও তোর ভাল চেয়েই এ কথা লিখেছে। আমি কি করব বুঝতে না পেরে তোকেই লিখলাম।

Re: Re: No time to breathe
21 Feb, 3.16 pm (CET)
Sudesh
To: Bidesh
Now I am in meeting. Will write soon. Don't do anything. Don't tell anybody. Don't worry about me.

About Igor Alexandrescu
 21 Feb, 7.43 pm (CET)
Sudesh
To: Bidesh
দাদা,
আশাকরি এর মধ্যে কাউকে কিছু জানাসনি। ব্যাপারটা খুব বাজে পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে দেখছি। তোর মনে আছে, অ্যাগ্নিটা থেকে একটা চিঠিতে লিখেছিলাম এখন প্রোমশন পেয়ে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ঝামেলা সামলাতে হচ্ছে? সেই ঝামেলাই ছিল আইগর। দ্বিতীয় দিন সকাল থেকেই হঠাৎ বলতে শুরু করল যে অ্যাগনেসকে তাড়াতে হবে। তুই ধারণা করতে পারবি না, সে কী নাছোড়বান্দা, এক্ষুনি শুল্‌জ্‌কে লিখতে হবে, এক্ষুনি অ্যাগনেসকে বলতে হবে তুমি ফিরে যাও। যাকে বলে উইথ ব্যাগ অ্যান্ড ব্যাগেজ। আমি যত বলি, যথাযথ কারণ না পেলে তাড়াব না, তত আরও চেপে ধরে। শেষে বলল, মেয়েটা নাকি বিপজ্জনক, ওকে রাখলে আমাদের সক্কলের সমূহ বিপদ, আমি মেয়েটাকে না তাড়ালে ও রিজাইন করবে। আমি তখন বললাম, তোমার কনসার্ন আমি শুল্‌জ্‌কে জানাচ্ছি, তারপরে তুমি চাইলে রিজাইন কোর। বলে শুল্‌জ্‌কে সমস্তটা লিখে পাঠালাম। শুল্‌জ্‌ প্রথমে আমাকেই বকাবকি করলেন, কারণ ওরা দু'জনেই আমার সাবর্ডিনেট, কিন্তু আইগর কিছুতেই মানবে না। আমাকে বলল, রাত জেগে ওর সঙ্গে এক সঙ্গে কাজ করেই ও বুঝেছে অ্যাগনেস কী বস্তু, ও কিছুতেই আর অ্যাগনেসের সঙ্গে কাজ করবে না। আমি তখন থেকে শেষ অবধি ওদের আর একসঙ্গে কোন কাজ করতে দিইনি।এরপর তো আমি বাড়ি ফিরেছি, আইগর আর অ্যাগনেস রয়ে গিয়েছে কোপেনহ্যাগেনে। এবার আইগর শুল্‌জ্‌কে বলেছে, অ্যাগনেসের সঙ্গে কাজ করবে না। শুল্‌জ্‌ দিয়েছেন ধমক, তখন নীলসেনকে বলেছে। নীলসেন ঠাণ্ডা মাথার মানুষ, আইগরকে ডেকে অনেক বুঝিয়েছেন, তখন আইগর আর কিছু না বলে উঠে গেছে। দু-চার দিন পরে অ্যাগনেস শুল্‌জ্‌কে বলে যে ও আগের দিন যে যে ডিজাইন নিয়ে কাজ করেছে, সেগুলো পরদিন এসে দেখে কম্পিউটারে নেই। ভাগ্যিস ব্যাকআপ নিয়ে রেখেছিল। সে দিন আর সেটা কেউ ভাবেনি, কিন্তু পরদিনও একই ব্যাপার, তার পরদিনও। কিন্তু কাজ আটকাচ্ছে না কারণ অ্যাগনেস ব্যাকআপ রাখছে। তিন দিন এমন হবার পরে শুল্‌জ্‌ অর্ডার দেন ব্যাপারটা তদন্ত করে দেখতে। শেষে কম্পিউটার সিকিউরিটি এসে দু' দিন ধরে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে পায় রোজ আইগর এই কাণ্ড করছে। শুল্‌জ্‌ আইগরকে ডেকে এনে প্রবল ধাতানি দিলে আইগর স্বীকার করে, যে ও ভেবেছিল এইভাবে অ্যাগনেসের সব কাজে বাধা দিলে অ্যাগনেসকে স্যাক করা হবে। এই শুনে নীলসেনের মত মাথা ঠাণ্ডা লোকও আর শান্ত থাকতে পারেননি, শুল্‌জের সঙ্গে আলোচনা করে আইগরকে চাকরি থেকে বিদায় করেন। এটা হয় আমি দেশে ফেরার কয়েক দিনের মধ্যেই। সুতরাং বুঝতেই পারছিস, ওর চাকরি যাওয়ার পেছনে আমার কোনও হাত নেই।যাই হোক, অনেক বাজে কথা লিখতে হল আইগরের কল্যানে, আর একটা কথা জানাই, তোর ফরওয়ার্ডেড চিঠি দেখে বুঝলাম আইগর তোর ই-মেইল আইডি জানে। সেটা আমি শুল্‌জ্‌ আর নীলসেনকে জানিয়েছি। দু'ঘণ্টার মধ্যে আমাদের সিস্টেম থেকে জানিয়েছে যে আইগর চাকরি ছেড়ে যাবার আগে সিস্টেম হ্যাক করেছিল। তখনই নিশ্চয়ই তোর ই-মেইল পেয়েছে। এটা এদেশের আইন অনুযায়ী খুবই গর্হিত অপরাধ। সুতরাং কোম্পানি ওর বিরুদ্ধে পুলিশে নালিশ করেছে। ল'ইয়ারের সাজেশন ওর চিঠি এলে আর না খুলেই রেখে দিস। ডিলিট করিস না। তাহলে ওর এগেনস্টে অ্যাকশন নিতে সুবিধে হবে।
ইতি
বুড়ো

Re: About Igor Alexandrescu
21 Feb, 11.04 pm (IST)Bidesh
To: Sudesh
বুড়ো,
তোর চিঠি আসার আগেই আর একটা মেইল এসেছে। সেটা এসেছে একই সঙ্গে আমার আর তোর বৌদির নামে। অর্পিতার ই-মেইলও তো তোর অফিসের ডাটাবেসে আছে। যা হোক, এর পরে আর কোন মেইল এলে আমরা খুলব না।আমরা এখন অনেকটা নিশ্চন্ত। মাকে কিছু জানাইনি।
দাদা

এই সুন্দরীটি কে?
21 Feb, 11.50 pm (IST)
Arpita (boudi)
To: Sudesh
ওহে,
বলি ওই সুন্দরীর ছবি পাঠাও একটা। মাকে নিশ্চিন্ত করি। এমন একটা মেয়ে, যাকে দেখে তোমার আইগর পাগল হয়ে গেল, সে নিশ্চয়ই দারুণ দেখতে?

Re: এই সুন্দরীটি কে?
21 Feb, 10.32 pm (CET)
Sudesh
To: Arpita (boudi)
ধ্যাৎ, তোমার তামাশার কোনও মাথামুণ্ডু নেই। এদিকে আমার মাথার ঘায়ে কুকুর পাগল অবস্থা... কাজের অন্ত নেই, তার ওপর পুলিশ এখন আমার পেছনে পড়েছে, কারণ কাল সন্ধে থেকে আইগরকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। তাই তারা আমাকেই জিগেস করতে লেগেছে আমি কী জানি না জানি।অ্যাগনেস আমার জুনিয়র কোলিগ। এই নিয়ে আর কোনও উৎসাহ দেখিও না, মাকেও কিছু বলতে যেও না। ওকে বিয়ে থা করতে আমার বয়ে গেছে।
বুড়ো

আমিই দেখে নিয়েছি। 
22 Feb, 9.30 am (IST)
Arpita (boudi)
To: Sudesh
বুড়ো,
থাক তোমাকে আর কষ্ট করতে হবে না, আমিই দেখে নিয়েছি। না, তোমার আইগরের মত কোন বেআইনি কাজ করিনি। তোমাদের অফিসের ওয়েবসাইটেই সবার নাম রয়েছে, সেখানে দেখলাম অ্যাগনেস বেয়ার (Bauer উচ্চারণ কী?) — তার সম্বন্ধে সব ইনফরমেশন এবং ছবি। সত্যিই সুন্দরী। নীল চোখ কি?
বৌদি।

তোমাকে নিয়ে পারা যায় না, সত্যি!
22 Feb, 8.10 am (CET)
Sudesh
To: Arpita (boudi)
বৌদি,
তুমি পারও বটে। যাই হোক, তোমার ঔৎসুক্য মেটাই। প্রথমত Bauer উচ্চারণ 'বাউ-এয়ার'। উ আর এ-র মধ্যে কোন গ্যাপ নেই। আর চোখের রং ঠিক নীল না, বেগনে আভা আছে। সুন্দরী যদি মনে কর তবে সুন্দরী, তবে beauty তো beholder এর চোখে।কাজে চললাম।বাজে কথা আর বলতে হবে না।
বুড়ো

Re: তোমাকে নিয়ে পারা যায় না, সত্যি!
22 Feb 1.49 pm (IST)
Arpita (boudi)
To: Sudesh
বেগুনি! আমি কোনদিন বেগুনি চোখ দেখিনি। আমাকে কাছ থেকে একটা ছবি তুলে পাঠাবে, লক্ষ্মীটি!

Re: Re: তোমাকে নিয়ে পারা যায় না, সত্যি!
 22 Feb 12.13 pm (CET)
Sudesh
To: Arpita (boudi)
:-P

Work load
24 Feb 8.00 am (CET)
Sudesh
To: Bidesh
দাদা,
কাজের চাপ প্রচণ্ড। মাথা তোলার সময় নেই। তাই এখন একটু ইররেগুলার। টেনশন করিস না। সব ঠিক আছে।
বুড়ো
Re: Work load
 24 Feb, 6.30 pm (IST)
Bidesh
To: Sudesh
বুড়ো,
Take care. আমরা ঠিক আছি। মা ভাল আছে। বৌদি জিগেস করছে কাজের লিস্টে কি অ্যাগনেসকে ডেটিং করা ইনক্লুডেড?

Confidential
27 Feb, 5.34 am (CET
)Sudesh
To: Arpita (boudi)
একটা সিরিয়াস বিষয় তোমার সঙ্গে আলোচনা করতে চাই। দুটো বিষয়ে তোমার commitment চাইছি। এক, আমি না বললে ব্যাপারটা তুমি কারওর সঙ্গে আলোচনা করবে না। ২, ব্যাপারটা নিয়ে ইয়ার্কি ফাজলামি করবে না।
বুড়ো
Re: Confidential
27 Feb 11.11 am (IST)
Arpita (boudi)
To: Sudesh
বলো। কী বিষয়? পাঁজি দেখতে হবে? ব্ল্যাঙ্কেট কথা দিলাম না, তবে হ্যাঁ, অনর্থক পেছনে লাগব না, আর তুমি না বললে চেষ্টা করব কাউকে না বলতে।

Re: Re: Confidential
27 Feb, 5.53 am (CET)
Sudesh
To: Arpita (boudi)
বৌদি,
কথাটা কী ভাবে শুরু করব বুঝছি না। তুমি অলরেডি বুঝে গেছ কথাটা অ্যাগনেস সম্বন্ধেই। অ্যাগনেস মেয়েটা খুব ভাল। আমার চেয়ে বয়েস অন্ততঃ বছর আষ্টেক কম, ব্রিলিয়ান্ট আরকিটেক্ট, স্পেশালাইজ করে ইনটিরিয়রে। এটা ওর প্রথম চাকরি, কিন্তু অলরেডি নজরে পড়ার মত কাজ করছে। অন্ততঃ শুল্‌জ্‌ আর নীলসেন বেশ ইম্প্রেসড। আমিও, কিন্তু তুমি বলবে আমি পক্ষপাতিত্ব করছি। প্রথম চাকরিতেই আইগর জাতীয় যে রকম আপদের মুখে পড়তে হয়েছিল, তার ফলে আমি যখন ছুটিতে বাড়িতে, তখনই আমার সঙ্গে ই-মেইলএ একটা বন্ধুত্ব-মতন তৈরি হয়েছিল, যেটা আমি কোপেনহ্যাগেনে ফেরার পর থেকে আরও অনেকটাই বেড়েছে।ছবি পাঠালাম। দেখতে শুনতে ভাল সে তো তুমি আগেই বলেছিলে, আমিও মানি। কিন্তু মা কি রাজি হবে? শেষ অবধি ম্লেচ্ছ-টেচ্ছ বলে বেগোড়বাই করবে না তো? আর একটা ব্যাপার আছে, সেটা হল পাঁজি দেখতে নাও হতে পারে। অর্থাৎ এমন হতেই পারে যে আমরা শেষ অবধি বিয়েটা করলামই না।
Re: Re: Re: Confidential
 27 Feb, 10.30 am (IST)
Arpita (boudi)
To: Sudesh
মেয়েটা কি আজকাল তোমার বাড়িতেই থাকে?
Re: Re: Re: Re: Confidential
 27 Feb, 5.58 am (IST)
Sudesh
To: Arpita (boudi)
তুমি না, কী রকম যেন একটা... এ রকম কথা মনে হল কেন হঠাৎ?
Re: Re: Re: Re: Re: Confidential
 27 Feb, 10.42 am (IST)
Arpita (boudi)
To: Sudesh
এত ভোরে উঠে চিঠি লিখছ কাল থেকে, তাই। বলো না, আছে এখন তোমার বাড়িতে? ক' দিন হল?

Re: Re: Re: Re: Re: Confidential
27 Feb, 1.18 pm (IST)
Arpita (boudi)
To: Sudesh
হুঁ। বোঝা গেল যে এ প্রশ্নের উত্তর পাব না, সুতরাং আন্দাজ করে নিতে হবে। আমার কতগুলো সাজেশন আছে। প্রথম হল, বিয়ে যদি না হয়, মাকে জানানো সমস্যা হতে পারে। কিন্তু তোমার ইচ্ছে হতে পারে তোমার জীবনসঙ্গিনীকে মায়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে। তখন কী বলবে সেটা জানিও।তোমার জীবন পশ্চিমী হয়ে যাবে এটা আমি আন্দাজ করেছিলাম। দেশে ফিরে তুমি সেটল করবে না, তা আমি বুঝেছি অনেক আগেই। এবং সে ক্ষেত্রে এমন একজনের সঙ্গে তোমার জীবন কাটানো উচিত যে ভবিষ্যতে দেশে ফিরতে চাইবে না। ছেলে মেয়ে হলে তারা তো আরোই ফিরতে চাইবে না।শুধু মাঝে মাঝে ভয় হয়, আইগর কী দেখে বলেছিল মেয়েটা ভাল না? ওর ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড কিছু জান?

Igor
27 Feb, 9.08 am (CET)
Sudesh
To: Arpita (boudi)
বৌদি,
হঠাৎ আমাদের চিঠিগুলো কেমন গাছে না উঠতেই এক কাঁদি মার্কা হয়ে গেল। বিয়ে-থা, সংসার, ছেলে-মেয়ে, কোথায় কী! তোমার আগের চিঠির উত্তর দিইনি ইচ্ছে করে না, অ্যাগনেসের ঘুম ভেঙে গিয়েছিল, আমাকে না দেখতে পেয়ে স্টাডিতে খুঁজতে এসেছিল। আমরা এখনও লিভ টুগেদার করছি না, তবে গত দু'রাত আমরা আমার বাড়িতে ছিলাম। আমি ওর বাড়িতে থাকিনি এখনও, ও একা থাকে না, একজন গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে শেয়ার করে। কোথাও বেড়াতে যেতে পারলে হত, তবে আমাদের এখন কোনও ছুটিছাটা নেই, আর কাজের এই প্রেশারে আমাদের শুল্‌জ্‌ ছুটি দেবেও না। এখন অফিস পৌঁছে গেছি, সুতরাং আর কথা নয়, শুধু — আইগর তো পাগল, ও আর নেই। ওর কথায় তোমরা এখনও নেচো না।ভাল কথা, এ দেশে লোকে ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে মাথা ঘামায় না। যেমন অ্যাগনেস আমাকে আজ অবধি জিজ্ঞেসও করেনি আমার মা-বাবা, দাদা-বৌদির কথা। আমি কথায় কথায় জেনেছি, ওর বাবা জার্মানিতে গাইনিকলজিস্ট। ডাক্তার।
বুড়ো
Re: Igor
27 Feb, 6.23 pm (IST)
Arpita (boudi)
To: Sudesh
বুড়ো,
যাই হোক, তুমি জীবনে সুখী হও, এটাই আমরা সবসময় চাই। তোমার দাদা ফেরার সময় হল। দাদাকে জানাবো তো?
Re: Re: Igor
27 Feb, 2.35 pm (CET)
Sudesh
To: Arpita (boudi)
না, না, বৌদি, এক্ষুনি জানিও না।
Keep this confidential too
 28 Feb, 5.39 am (IST)
Arpita (boudi)
To: Sudesh
বুড়ো,
দাদাকে কিছু বলো না, আমি তোমাকে কনফিডেনশিয়ালি একটা কথা জানিয়ে রাখছি। দাদাদের ব্যাঙ্কে সাংঘাতিক একটা স্ক্যাম ধরা পড়েছে। তোমার দাদার ক্যাডারের অন্তত তিনজন, একজন ওদের ওপরের র‍্যাঙ্কের, এবং আরও কত জন যে ইনভলভড, তার হিসেব নেই। তুমি তো দাদাকে জান, কোন অন্যায় সহ্য করতে পারে না, তাই কত বস্‌ যে ওর ওপর চটা তার ইয়ত্তা নেই। একবার একজনকে বলেছিল, লিখে দিন, আমি টাকা দিয়ে দিচ্ছি — সে কাউকে বেআইনি অনেক লক্ষ টাকা পাইয়ে দেবার ব্যাপার ছিল — ব্যস, দু দিন পরে ট্রানসফার অর্ডার। ভাগ্যিস, বুদ্ধি করে কনভারসেশনটা রেকর্ড করে রেখেছিল, সেটা জানতে পেরে আবার দু দিনের মধ্যেই ট্রানসফার অর্ডার ক্যানসেল। কিন্তু এবার ওই ভদ্রলোকই একজন ডিসিপ্লিনিং অথরিটি। আগামি কাল থেকে এনকোয়ারিতে আসবেন দাদারই ব্রাঞ্চে। যারা জড়িত, তাদের সবাইকে তো সাসপেন্ড করা হয়েছে আজ, এবং সেই সঙ্গে তোমার দাদাকে বলা হয়েছে, ওই ডিসিপ্লিনিং অথরিটিকে সবরকম কোঅপারেশন দিতে। তোমার দাদা বলছে ওই লোকটাও নির্ঘাৎ ওই স্ক্যামেও আছে, সে-ই যদি এনকোয়ারি করে, কী আর পাওয়া যাবে? তার ওপর সে তোমার দাদার ওপর চটা। কাল রাতে ঘুমোয়নি। আজ সকালে দাড়ি কামাতে গিয়ে গাল কেটেছে বিশ্রী রকম। তোমাকে জানিয়ে রাখলাম। কিছু বলো না যেন। আর শোন, আমাকেও উত্তর দিও না। তোমার দাদা আমার পাসওয়ার্ড জানে। কখনও আমার ই-মেইল পড়ে না যদিও, কিন্তু কী দরকার?
ইতি
বৌদি
Password Change...
28 Feb, 11.33 am (IST)
Arpita
To: Sudesh
ঠিক বলেছ, আমার খেয়াল হয়নি যে দাদা যদি ভুল করেও আমার ই-মেইল দেখে, তাহলে তোমাকে লেখা চিঠিও পড়ে ফেলবে। ফোনে কথা শেষ হওয়া মাত্র পাসওয়ার্ড বদলে দিয়েছি। তোমার দাদা আজ রবিবারেও কাজে গেছে। এই মাত্র ফোন করেছিল। ডিসিপ্লিনিং অথরিটি ওই লোকটা একা আসছে না। আরও তিনজন থাকবে। সবশুদ্ধ চারজনের টিম। বাকিরা বিদেশকে পছন্দ করে। এবার তোমার দাদা একটু স্বস্তি পাচ্ছে।আচ্ছা, ফোনে কী বললে, ভাল করে বুঝতে পারলাম না। তোমারও দাড়ি কামাতে গিয়ে গাল কেটেছে?

গাল না, গলা
28 Feb, 10.56 am (CET)
Sudesh
To: Arpita (boudi)
কেটেছে। আজ না, কবে আমি ঠিক জানি না, তবে গত ক'দিন দাড়ি কাটতে গিয়ে খচ খচ করে লাগছে। আজ রবিবার বলে ভাল করে দেখলাম, এমনিতে তো সক্কালে উঠে ঘুম চোখে দাড়ি কামিয়ে কাজে দৌড়োই। জায়গাটা বেশ লাল হয়ে রয়েছে, আর কখনও খোঁচা লেগেছিল তার দাগ। তুমি বলেছিলে, বাড়িতে একজন থাকলে ভাল হয়, সেটা হাড়ে-হাড়ে টের পেলাম। অ্যাগনেস সঙ্গে সঙ্গে একটা মলম লাগিয়ে দিল, তার পরে অনেক ভাল। একা থাকলে তো মলম কিনতে দোকানে দৌড়তে হত।আমাদের কাল ছুটি, জান? কেন বলতো? কাল ২৯শে ফেব্রুয়ারি বলে। নীলসেন আর শুল্‌জের জন্মদিন। আমি জানতাম না। চার বছর আগে যখন লীপ ইয়ার ছিল, তখনও আমি এখানে জয়েন করিনি। ২৬শে ফেব্রুয়ারি আমার ইন্টারভিউ শেষ হয়েছিল, বলেছিল ১লা মার্চ জয়েনিং। তাই কাল সন্ধেবেলা জানলাম যে দুই বুড়ো শুধু একসঙ্গে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হননি, প্রায় এক সঙ্গে জন্মেওছিলেন! এবং যেহেতু সেটা একটা অদ্ভুত ডেট, তাই চার বছর অন্তর অন্তর এই দিনটা ছুটি দেওয়া হয়।আমরা আজ Nyhavn (উচ্চারণ নিহান) যাব। আমি আর অ্যাগনেস। নিহান এখানকার ওয়াটারফ্রন্ট, ক্যানাল আর এনটারটেনমেন্ট এলাকা। সামুদ্রিক খাবার পাওয়া যায় ভাল।দাদার জন্য দুশ্চিন্তা রইল। জানিও কী হল। এখান থেকে কিছু করা যাবে না, জানি, কিন্তু কিছু যদি লাগে, জানিও।
ইতি
বুড়ো

Back from Nyhavn
28 Feb, 9.15 pm (CET)
Sudesh
To: Arpita (boudi)
বৌদি,
এই ফিরলাম। মোবাইলে মেইল আসে, জানি লেখোনি কিছু, কিন্তু ফিরেই ই-মেইল খুলে দেখলাম তুমি সত্যিই কিছু লেখোনি। মানে খারাপ কিছু হয়নি আশাকরি। আজ একটা দারুণ দিন কাটালাম। ছবি অ্যাটাচ করে দিলাম, দেখ। প্রথম তিনটে বাড়ির ছবি হান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যানডারসেনের। আজ জানলাম এখানে ওরা হান্স ক্রিশ্চিয়ান বলে না, বলে এইচ সি অ্যানডারসেন। হান্সক্রিশ্চিয়ান বললে এক-সঙ্গে বলে! এই বাড়িগুলোর মধ্যে ২০ আর ৭৬ নম্বর সবচেয়ে বিখ্যাত। তার পরে দেখ রাস্তার ধারে আমরা লাঞ্চ খাচ্ছি। এখানে ফেব্রুয়ারির শেষে বেশ ঠাণ্ডা, তাই রেস্টুর‍্যান্ট থেকেই পা ঢাকার জন্য কম্বল দিয়েছিল। অ্যাগনেস-এর সমস্যা হয়নি, কিন্তু আমি একটু বাদে ঠকঠক করে কাঁপতে লেগেছিলাম। তাই আর ওস্তাদি না করে ভিতরে গিয়ে বসেছি।এইচ সি অ্যানডারসেন-এর ব্যাপারে আমার ইনটারেস্ট দেখে অ্যাগনেস বলেছে, আমাকে কাল Odense নিয়ে যাবে (এরা বলে ওউড্‌ন্সা — উচ্চারণ করতে দাঁত ভাঙে না, জিভে গিঁট্টু পড়ে যায়)। ওখানে অ্যানডারসেন মিউজিয়াম আছে, আর ওঁর ছোটবেলার বাড়ি।
বুড়ো

No Odense tomorrow
28 Feb, 11.04 pm (CET)
Sudesh
To: Arpita (boudi)
অ্যাগনেস এই মাত্র ফোন করে জানাল, কাল যাওয়া হবে না। কারণ অ্যানডারসেন-মিউজিয়াম আর তাঁর ছোটবেলার বাড়ি — এ সবই সোমবার বন্ধ থাকে, মঙ্গল থেকে রবি খোলা। তাই আমরা কাল ন্যাশনাল মিউজিয়াম যাব।

Re: No Odense tomorrow
29 Feb, 6.10 am (IST)
Arpita (boudi)
To: Sudesh
এর মানে অ্যাগনেস কাল রাতে তোমার বাড়ি ছিল না।তোমার দাদা আজ সাত তাড়াতাড়ি অফিস যাবে, তাই আমি ছয় তাড়াতাড়ি উঠে রান্না বসাচ্ছি। তোমার চিঠির ছবি ডাউনলোড হয়েছে, পরে দেখব।

Re: Back from Nyhavn
 29 Feb, 7.58 am (IST)
Arpita (boudi)
To: Sudesh
তোমার দাদাকে এক ঝলক তোমার কালকের ছবি দেখালাম, জিজ্ঞেস করল, "ওই মেয়েটা কে?" বললাম, "এই সেই অ্যাগনেস।" ভুরু নাচিয়ে চলে গেল। আমি কিছু আর বলিনি, সুতরাং কিছু জিগেস করলে, আমি জানি না, আমার দোষ নেই।খুব এনজয় করলাম তোমার ছবি আর বেড়ানোর গল্প। আজও ভাল করে ঘুরে এসে ছবি পাঠিও। মাকেও দেখাব।এখন চান করে ঠাকুরকে জল দিচ্ছেন।বৌদি

Re: Re: No Odense tomorrow
29 Feb, 8.32 am (CET)
Sudesh
To: Arpita (boudi)
অ্যাগনেস রোজ রোজ আমার বাড়ি থাকে না।আমি এখন কফি বানিয়ে হাফ প্যান্ট আর গেঞ্জি পরে কম্পিউটারের সামনে বসে ভুঁড়ি চুলকোতে চুলকোতে তোমাকে চিঠি লিখছি। যাই বল, বাড়িতে একটা মহিলা থাকলে এমনভাবে থাকা যায় না। এক যদি না সে বিয়ে করা বাঙালি, অথবা অন্ততঃ ভারতীয় বউ হয়। লিভিং টুগেদারের পাশে একটা কাটা পড়ল। সকালে উঠে ইনটারনেট ঘেঁটে দাদার ব্যাঙ্কে কোনও ঘাপলা বা ঘোটালার কথা পেলাম না। কী হয়েছে জানাবে?আমি এখন ব্রেকফাস্ট বানিয়ে খাব। কী খাব জান? চিঁড়ে দুধ! গুড় আর কলা দিয়ে। এবারে আসার আগে আমাদের বাজার থেকে ভাল কোয়ালিটির গুড় আর চিঁড়ে কিনে এনেছি। মাকে বলে দিও না যেন। তাহলে বলবে ছোটোবেলা থেকে কোনদিন খাইনি, এখন সাহেব দেশে গিয়ে দেশের ভাল জিনিসের মর্ম বুঝছি।বিকেলে ফিরে আবার মেইল করছি।
বুড়ো

Re: Re: Re: No Odense tomorrow
29 Feb, 2.46 pm (IST)
Arpita (boudi)
To: Sudesh
বুড়ো,
জানই তো দাদা কাজ সম্বন্ধে আমাকে কিছু বলেই না। নেহাত এবারে ঝামেলা হচ্ছে, তাই আমি শুনেছি। যা বুঝেছি, তোমার দাদা কোনভাবেই ইনভলভড না। দু'চার জন এ-জি-এম আর ক্লার্ক, ইমপ্লিকেটেড। তোমার দাদার যা রেপুটেশন তাতে কেউ বলবে না বিদেশ কিছু করেছে। তবে ওর টেনশনের জায়গা একটাই, যে ডিসিপ্লিনারি অথরিটি হিসেবে যে আসছে, তার সঙ্গে আগে ঝামেলা হয়েছে, আর মানুষটা নিজে খুব সৎ না। যাই হোক, সমস্যা তো বটেই। যারা বিপদে পড়েছে, তারা সাসপেন্ডেড হয়ে এখন দিনে পাঁচবার করে দাদাকে ফোন করছে, আর অফিশিয়াল ইনস্ট্রাকশন অনুযায়ী তোমার দাদা তাদের সঙ্গে কথাও বলতে পারে না, সেটা আরও একটা সমস্যা। এখন বাড়ির ল্যান্ডলাইনেও কলার আই-ডি লাগানো হয়েছে।তুমি নিশ্চয়ই এখন প্ল্যাটিনাম ব্লন্ড সুন্দরীর সঙ্গে, তাই পথে চলা অজস্র পুরুষের হিংসের শিকার হচ্ছ। আমি ঘুমোতে গেলাম। পরে এসে ছবি পাঠিও, দেখব।
বৌদি।

Re: Re: Re: Re: No Odense tomorrow
 29 Feb, 11.39 pm (CET)
Sudesh
To: Arpita
বৌদি,
ফিরেছি। দারুণ কাটল। আমি তো এত দিন কোপেনহ্যাগেনের কোম্পানিতে চাকরি করেও থাকিনি কোনওদিন শহরটায়। সারা দিন মিউজিয়ামে কাটিয়ে সন্ধেবেলা যখন বেরিয়েছি, অ্যাগনেস বলল এত তাড়াতাড়ি ফিরবে না। জানতে চাইল আমি বোডেগা দেখেছি কখনও? দেখিনি তো বটেই, জানিও না বস্তুটা কী। শুনে বলল, চল। নিয়ে গেল যেখানে সেটা একটা ইংল্যান্ড হলে বলতাম পাব। মানে বার। কিন্তু কী দারুণ জায়গা। এটার নাম কাফে সমারস্টেড্‌, এর মালিক একজন তাইওয়ানের মহিলা। তিনি নাকি কোপেনহ্যাগেনে বিখ্যাত। এই পাব্‌টাকে লোকে ভালবেসে বলে "গোইং হোম পাব" — অর্থাৎ দিনের শেষে ফেরার পথে বাড়ি যেতে ইচ্ছে না হলে লোকে এখানে আসে। একটা দারুণ ভডকা ড্রিঙ্ক খেলাম। তার নাম ফিলুর। তুমি আসলে খাওয়াব। সেই সঙ্গে ক্রোকে মঁসিয়ে স্যান্ডউইচ। মুখে স্বাদ লেগে আছে।ছবি পরে দেখবে। এখন চান করে ঘুম। কাল অফিস আছে।
ইতি
বুড়ো

Re: Re: Re: Re: Re: No Odense tomorrow
1 Mar, 9.47 am (IST)
Arpita (boudi)
To: Sudesh
বাঃ, বেশ। ঘুমনোর সময় পাচ্ছ জেনে ভাল লাগল! অফিস গিয়েছ তো?
;-P

Re: Re: Re: Re: No Odense tomorrow
1 Mar, 11.30 pm (IST)
Arpita (boudi)
To: Sudesh
কী হল? এতক্ষণে তো অফিস থেকে ফেরা উচিত ছিল?

Re: Re: Re: Re: No Odense tomorrow
 2 Mar, 11.09 am (IST)
Arpita (boudi)
To: Sudesh
কী ব্যাপার? সাড়া শব্দ নেই?

Sarashobdo
2 Mar, 9.32 am (CET)
Sudesh
To: Arpita (boudi)
তোমার খালি সন্দেহ। অ্যাগনেস কাল সকালে রুমানিয়া গেছে। শুল্‌জ্‌ ওকে আরও কিছু ছবি তুলে আনতে পাঠিয়েছেন। যেহেতু আমি ক্যামেরা নিয়ে হিমশিম খাই, আর ওখানে এখনও খুব ঠাণ্ডা, তাই আমাকে না পাঠিয়ে ওকেই পাঠানো হয়েছে।আইগরের পরিবর্তে কাউকে পাওয়া যায়নি এখনও। শুল্‌জ্‌ আর নীলসেন নতুন রিক্রুটমেন্টের ব্যাপারে খুব পিটপিটে, তার ওপর আইগরের ব্যাপারে বেশ ঘাবড়েছে দু'জনে। তাই আর কাউকে চট করে নিতে চাইছে না। কাল আমি বলেছি, আমার ওপর দিয়ে ধকল খুব যাচ্ছে, আমার খুব টায়ার্ড লাগে আজকাল, ইত্যাদি, তাই ওরা যেন তাড়াতাড়ি কাউকে বহাল করে।কাল কাজের চাপ ছিল খুব, তাই চিঠি লিখিনি।এখানে কয়েকটা ছবি দিলাম, মিউজিয়াম আর কাফে সমারস্টেডের। অ্যাগনেসের ক্যামেরায় ছবি আছে অনেক, সেগুলো পরে দেব।বুড়োপুঃ দাদার খবর কী? সব ঠিক আছে? ঘোটালার কী হল?

Re: sarashobdo
 2 March, 1.58 pm (IST)
Arpita (boudi)
To: Sudesh
যাঃ, বসে ছিলাম কখন উত্তর আসে ভেবে, ছবি দেখে খুশি হলাম, কিন্তু অ্যাগনেস নেই জেনে একটু দুঃখ হচ্ছে। কিন্তু তার চেয়ে জরুরি কথা — তোমার শরীরের যত্ন নাও। এত বছর ইজিপ্টের মত গরম, ব্যাকওয়ার্ড দেশে থেকে তুমি এতবার শরীরের কথা লেখনি — কিন্তু এবারে কোপেনহ্যাগেন আর রুমানিয়াতেই তোমার এত শরীর কেন খারাপ হবে? ডাক্তার দেখাও। দরকার হলে ইনভেস্টিগেশন করাও। আর যদি বল, তাহলে একবার বাবাকে জিজ্ঞেস করে দেখি, কোনও হোমিওপ্যাথি ওষুধ যদি সাজেস্ট করে?ইতি,বৌদি।

Re: sarashobdo
2 March, 4.35 pm (IST)
Arpita (boudi)
To: Sudesh
বুড়ো,
তোমার জন্য অপেক্ষা না করে আমি বাবার সঙ্গে কথা বলেছি। বাবা অবাক। তুমি জার্মানির পাশের দেশে আছ, সেখানে হোমিওপ্যাথির জন্মস্থান। বাবা বলছে ওখানেই সবচেয়ে ভাল চিকিৎসা হয়। যাই হোক, বাবা বলল, gelsemium খেতে। তুমি কী ওখানে হোমিওপ্যাথি কিনে খেতে পারবে? না কি এখান থেকে পাঠাব?
বৌদি

Homeopathy
2 March, 6.56 pm (CET)
Sudesh
To: Arpita (Boudi)
বৌদি,
ভয় নেই। আমি ডাক্তার দেখিয়েছি। আমাদের অফিসের ডাক্তার পেডেরসেন খুব ভাল ডাক্তার। উনি দেখছেন, বলেছেন এমন কিছু সমস্যা নয়। তুমি আমাকে একেবারে বাচ্চা ভাব। অত বাচ্চা আমি নই।দাদার কোনও খবর দিলে না? সব ঠিক আছে?অ্যাগনেস রুমানিয়া থেকে ফোন করেছিল। ওর মনে হচ্ছে ও একা পেরে উঠছে না। তাই আমাকে বলেছে যেতে। তবে শুল্‌জ্‌ নাকচ করে দিয়েছেন, বলেছেন আমার এই বাদামী চামড়ায় ওই ঠাণ্ডা পোষাবে না, তাই আমি যাব না। উনি এখান থেকে একজন সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ারকে পাঠিয়েছেন। সুতরাং দেখ, আমার স্বাস্থ্য নিয়ে সব্বাই খুব চিন্তিত।
ইতি
বুড়ো

Re: Homoeopathy
2 March, 11.21 pm (IST)
Arpita (Boudi)
To: Sudesh
সবাই চিন্তিত, কিন্তু তুমি নিজে কি চিন্তিত? হাবেভাবে তো সন্দেহ হয়। যা হোক, অ্যাগনেসের সঙ্গে ছুটি কাটাতে পারলে না, তাতে দুঃখ পেও না, ভবিষ্যতে আবার সুযোগ পাবে।দাদা ঠিক আছে। অফিসের সিচুয়েশন ভাল না, তবে ওর কিছু হবে না। খাটনি বেশি চলছে, টেনশনে আছে, এই যা।
বৌদি

Re: Re: Homoeopathy
2 March, 8.05 pm (CET)
Sudesh
To: Arpita (Boudi)
বৌদি,
মনে কোরো না, এই ঠাণ্ডায় রুমানিয়াতে ছুটি কাটানো যেত। কাজের যা বহর দেখছি, এই প্রোজেক্ট শেষ হবার আগেই না ভ্যানিশ করে যাই।
যাকগে, মা-কে আবার এসব কথা বলতে যেও না, মা বলবে ছেলে অলুক্ষুণে কথা বলছে।দাদার খবরে নিশ্চিন্ত।

Re: Re: Re: Homoeopathy
3 March, 9.13 am (IST)
Arpita (Boudi)
To: Sudesh
তা মাকে একটা চিঠি দিলেই তো হয়, কতদিন চিঠি লেখনি জানো? গত কিছু দিন তো অ্যাগনেস অ্যাগনেস করেই গেলে। এদিকে মা'কে জানানো বারণ। ফলে মাকে কোন চিঠি দেখাতেও পারিনি। এবার সন্দেহ করতে শুরু করেছে, কারণ আমি যে প্রায়ই ডেস্কটপে বসে লিখছি দেখছে তো।

Kelo koreche
3 March, 7.00 am (CET)
Sudesh
To: Arpita
এক্ষুণি লিখছি। প্রিন্ট আউট নিয়ে দিয়ে দিও।

Onek din likhini
3 March, 7.18 am (CET)
Sudesh
To: Bidesh
দাদা,
অনেক দিন লেখা হয়নি কাজের চাপে। এখন শীতকাল বলে আমি কোপেনহ্যাগেনেই রয়েছি, কারণ বড় সাহেব (শুল্‌জ্‌) বলেছেন আমি রুমানিয়ার পাহাড়ী ঠাণ্ডা সহ্য করতে পারব না। তবে কাজের কমি নেই। আমার জুনিয়ররা সাইট থেকে কাজ পাঠাচ্ছে, সেগুলো আমাকেই এখানে অফিসে বসে স্টাডি করে শুল্‌জের সঙ্গে প্ল্যান বানাতে হচ্ছে। মাঝে মাঝে নীলসেনও এসে জুটছেন। এই দুই বুড়ো যে কী রকম তুখোড় ইঞ্জিনিয়ার, ভাবা যায় না। মাথায় সাংঘাতিক বুদ্ধিও বটে। সারাক্ষণ আমার পেছনে রয়েছেন। রাত্তির ২টোর সময়েও ই-মেইল, সকাল ৫টাতেও। একই দিনে। অবশ্য আমার কাছ থেকে সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দাবি করেন না, তবে লজ্জা করে, বয়সে আমার চেয়ে প্রায় চল্লিশ-পঞ্চাশ বছর বড় এক এক জন।যাই হোক, একটা ভাল খবর আছে, বলি। এখন আমরা প্ল্যান সাবমিট করতে চলেছি — অর্থাৎ চাইছি আগামী এক মাসের মধ্যে প্ল্যান সাবমিট করব। এবার রুমানিয়ার সরকার প্ল্যান স্যাংশন করবে। এতে বেশ কয়েক মাস সময় যাবে। দু'তিনটে ডিপার্টমেন্ট, লোক্যাল অথরিটি... এই সময়ে আমি আবার দেশে ফিরতে পারব। কারণ একবার কনস্ট্রাকশন শুরু হলে হয়ত বছর দুই, বা তিনেক আমি আর ছুটি পাব না, পেলেও একটানা দু'তিন দিনের বেশি নয়। বেশিরভাগ সময়টা আমাকে কনস্ট্রাকশন সাইটেই থাকতে হতে পারে।সুতরাং, আর বেশি দেরী নয়, মাস খানেকের মধ্যেই ফিরব দেশে!
বুড়ো

Re: Fw: Onekdin likhini
 3 March, 4.09 pm (CET)
Arpita (Boudi)
To: Sudesh
বুড়ো,
মা তোমার চিঠি পড়ে খুব উৎসাহিত। তিনজন ঘটককে ফোন করে ফেলেছেন — এবারে ছেলে এসে মাস ছয়েক থাকবে, কোনও ভাবেই উনি তোমাকে আর একা ফিরতে দিতে রাজি নন। আমি বলেছি বোলো না। তাহলে আমার ঘাড়ে মাথা থাকবে না।বৌদি

ghotok batil koro
3 March, 8.14 pm (CET)
Sudesh
To: Arpita (Boudi)
বৌদি,
খবরদার, তাহলে কিন্তু আমি দেশেই ফিরব না বলে দিচ্ছি। ব্রেজিল চলে যাব ছুটি কাটাতে।আজ অ্যাগনেস ফিরেছে। ভীষণ আপসেট দেখাল। এসেই শুল্‌জের ঘরে ঢুকেছে, আমি শুল্‌জের সঙ্গে মিটিং করব বলে বসে আছি, কিন্তু ওদিকে অ্যাগনেস আর বেরোয় না। একটু বাদে নীলসেনও ঢুকেছে গিয়ে। সবাই চলে গেছে, আমি প্রায় সাড়ে ছটায় ফোন করেছি, আমাকে কি থাকতে বলেন? তখন শুল্‌জ্‌ বলছে, স্যরি, স্যরি, অ্যাগনেস একটা সমস্যা নিয়ে এসেছে, তাই তোমার কথা ভুলেই গেছিলাম, তুমি বাড়ি চলে যাও, কাল কথা হবে।আমি চলে এসেছি, একটু আগে অ্যাগনেস ফোন করেছে। ও আসছে, আমরা এখানেই ডিনার করব। হয়েছে এই, যে ও রুমানিয়াতে যাবার দিন দুয়েকের মধ্যে ওখানে গিয়ে হাজির হয়েছে আইগর। প্রথম দিকে কোনও সমস্যা করেনি, কিন্তু তার পরে, বিশেষ করে ওলসেন ওকে সাহায্য করতে যাবার পর থেকে উঠে পড়ে লেগেছে ওর বিরুদ্ধে। প্রথমে ওলসেনকে ভড়কাবার চেষ্টা করেছে। রাতে ওলসেনের ঘরে এসে বুঝিয়েছে, অ্যাগনেস খুব বিপজ্জনক মেয়ে, ওর সঙ্গে কাজ না-করাই উচিত। সেখানে সুবিধে করতে না পেরে তার পরে গিয়েছে লোক্যাল লোকেদের কাছে। আগেই বলেছি, ওখানকার লোকেরা খুবই গাঁইয়া, এবং ভূত-প্রেত, ভূডু, ইত্যাদি বিশ্বাস করে। অ্যাগ্নিটা গ্রামের লোকেরা এককাট্টা হয়ে বলেছে, "বিদেয় হও।" হোটেল থেকেও বলেছে পত্রপাঠ, বোরিয়া-বিস্তারা নিয়ে চলে যাও। ফলে ও ওখান থেকে গিয়েছে ক্লুজ ন্যাপোকায়। সেদিন রাত্তিরেই নাকি শুল্‌জ্‌ সব জেনে ওকে বলেছেন, ফিরে এসো, ওখানে থেকে কাজ নেই। পরদিন ভোরবেলা, ও গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছে, হোটেলের গেট দিয়ে বেরোনোর সময় গাড়ির ব্রেক ধরেনি, সজোরে গিয়ে মেরেছে পাঁচিলে, ভাগ্যিস গাড়ির স্পিড বেশি ছিল না — তাই কারও কোনও ক্ষতি হয়নি। পুলিশ এল, মেকানিক এল, দেখা গেল রাত্তিরে হোটেলের পার্কিং-এই কেউ গাড়ির নিচে গিয়ে নাট-বল্টু খুলে সমস্ত ব্রেক-ফ্লুইড বের করে দিয়েছে। ভাগ্যিস বোকার মত সমস্তটা বের করেছে, যদি আদ্ধেক খুলে রাখত, তাহলে আস্তে আস্তে বেরোত, আর মাঝরাস্তায়, পাহাড়ের গা বেয়ে পড়ে যেত গাড়ি। ভাবো কী কাণ্ড।এবারে ব্যাপারটা আর শুধু পাগলের কারবার ভাবা যাচ্ছে না, অ্যাগনেস ওখানে আইগরের নামে পুলিশ কমপ্লেন লিখিয়ে এসেছে। কিন্তু আইগরের পাত্তা নেই। ও যে হোটেলে ছিল, সেখান থেকে মালপত্র নিয়ে পালিয়েছে।তারপরে কাণ্ড হয়েছে, এই ঘটনার পরে শুল্‌জ্‌ আর নীলসেন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যতদিন না আইগর ধরা পড়ছে, ততদিন অ্যাগনেসকে এই প্রোজেক্টে রাখা যাবে না। রুমানিয়ান পুলিশ আর ডেনমার্কের পুলিশ যদি ওকে ধরতে না পারে? ও যদি জার্মানি চলে যায়, তাহলে ওখানে তো আর ধরা যাবে না। কোথায় কী ভাবে ও আবার অ্যাগনেসকে আক্রমণ করবে, তার তো ঠিক নেই। কে আর পাহারা দিয়ে রাখবে? তাই ওঁরা অ্যাগনেসকে রুমানিয়ার থেকে দূরে প্রোজেক্ট দিয়েছেন, ওকে যেতে হবে ক্যানাডা।বুঝতেই পারছ, এরকম একটা দারুণ প্রোজেক্ট হাতছাড়া হওয়াতে অ্যাগনেস ভীষণ আপসেট। ফোনে বলেছে চাকরী ছেড়ে দেবে। আমি বলেছি এমন বোকামি না-করতে। ও বলছে, ওর যা ট্যালেন্ট বা কোয়ালিফিকেশান, তাতে ও রুমানিয়ার কোনও কোম্পানিতে চাকরী নেবে যাদের শুল্‌জ্‌ সাবকন্ট্র্যাক্ট দেবে। তাতে এই প্রোজেক্টে ওর নামও থাকবে, আমার কাছাকাছি থাকতেও পারবে। আমার মতে সেটা বোকামি হবে, আজ দেখি ও আসলে ভাল করে বুঝিয়ে বলি। বছর খানেক বাইরে কাটিয়ে আসলে ওর পক্ষে খারাপ হবে না, ও কিছুদিন না থাকলে আইগরও চেপে যাবে বা ধরা পড়বে, তারপরে আবার ফিরে আসতে পারবে।আচ্ছা, দরজায় বেল, এল বুঝি...
বুড়ো

Re: ghotok batil koro
4 March, 10.15 am (IST)
Arpita (Boudi)
To: Sudesh
দরজায় বেল, এল বুঝি...গেল না?বুড়ো,তোমার বান্ধবীর কাহিনী শুনে আমি আর দাদা দুজনেই ঘাবড়েছি। এই আইগর কোনওরকম ভাবে তোমার কোনও ক্ষতি করতে চাইবে না তো? মানে ওর রাগটা কি শুধুই অ্যাগনেসের ওপরে, নাকি এই প্রোজেক্টের ওপরেই? তুমি তো আগে লিখেছিলে ও রুমানিয়ান। আর অনেক রুমানিয়ানই চাইছে না ওই প্রোজেক্টটা হোক। তাই না?এমনিতে অ্যাগনেস যদি চাকরী না ছাড়ে, ক্যানাডা চলে যায়, তাহলেই সবদিক থেকে মঙ্গল। দেখ, কী হয়, জানিও।
বৌদি।

Re: ghotok batil koro
4 March, 12.11 pm (IST)
Arpita (Boudi)
To: Sudesh
কী হে? কাজে গেছ' দু'জনে? নাকি রয়ে গেছ বাড়িতেই?

Re: ghotok batil koro
4 March, 4.09 pm (IST)
Arpita (Boudi)
To: Sudesh
কোনও খবর দিচ্ছ না? অ্যাগনেস চলে গেছে? মন খারাপ?

Re: ghotok batil koro
5 March, 10.11 am (IST)
Arpita (Boudi)
To: Sudesh
বুড়ো,কাল সারাদিন তোমার কোনও খবর পাইনি। কী হল জানিও। অ্যাগনেস ঠিক আছে? আইগরের কোন সন্ধান পাওয়া গেল?এক লাইন লিখে জানিও সব ঠিক আছে কি না।

Re: ghotok batil koro
5 March, 1.23 pm (IST)
Arpita (Boudi)
To: Sudesh
বুড়ো,তোমার কোনও খবর নেই কেন? এত কাজের চাপ? এক লাইন লিখে জানাও।

Re: Work load
5 March, 2.13 pm (IST)
Bidesh
To: Sudesh
বুড়ো,
তুই এখন অফিসে আছিস জানি, কিন্তু ওদিকে তোর বৌদি হেবি টেনশন করছে, আমাকে অফিসে কাজ করতে দিচ্ছে না। তুই-মেইল পেলেই বৌদিকে হয় মেইল কর, নইলে ফোন কর। স্কাইপ করলেও চলবে, খুব ব্যস্ত থাকলে অন্তত একটা লাইন লিখে দে, প্লিজ। আমার এদিকে মাথার ঘায়ে কুকুর পাগল অবস্থা। পরে লিখব।
দাদা

Re: Work load
5 March, 4.03 pm (IST)
Bidesh
To: Sudesh
বুড়ো,
বৌদি ফোন করেছিল, বলল তুই এখনও কোনও উত্তর দিসনি। আমি অফিসের ফোন থেকে তোর মোবাইলে ফোন করলাম, বেজে গেল। এবারে আমারও টেনশন হচ্ছে। তুই ইমিডিয়েটলি জানা তুই কেমন আছিস।
দাদা

Everything alright
6 March, 7.16 am (CET)
Sudesh
To: Bidesh
দাদা,
সব ঠিক আছে। কাল তোর ফোন এসেছিল, কিন্তু তখন আমি ধরার অবস্থায় ছিলাম না। ফোনটা অন্য ঘরে ছিল। যাই হোক, আজ সন্ধেবেলা ফোন করব, তখন কথা হবে।
ইতি
বুড়ো

Re: Fw: Everything alright
6 March, 11.46 am (IST)
Arpita (boudi)
To: Sudesh
বুড়ো,
দাদা তোমার মেইল অফিস থেকে ফরওয়ার্ড করেছে, তাই পড়ে জানতে পারলাম তুমি ঠিক আছ। শোনো, এরকম ইরেস্পনসিব্ল কাজ আর কক্ষনও করবে না। তিন-দিন চার-দিন হয়ে গেল, তোমার কোন খবর নেই, একটা ই-মেইল না, ফোন করলে ধরছ না, স্কাইপে কল করলে বেজে যাচ্ছে, স্কাইপ মেসেজ উত্তর দিচ্ছ না... মা তো একেবারে ফ্র্যান্টিক হয়ে গিয়েছিলেন। ব্লাড প্রেশার বেড়ে ডাঃ ব্যানার্জিকে ডাকতে হল। কী হয়েছিল তোমার? অ্যাদ্দিন ছিলে কোথায়? আশা করি অ্যাগনেসের সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিলে — একমাত্র সেই কারণেই তোমাকে আমি ক্ষমা করতে পারি।আজ উইদাউট ফেল স্কাইপ করবে। আজ তো রবিবার। আজ নিশ্চয়ই অফিস যাবে না?
বৌদি

Re: Everything alright
7 March, 11.12 am (IST)
Bidesh
To: Sudesh
বুড়ো,
আবার তোকে ফোন করলাম, বেজে গেল। Call me as soon as possible. It is urgent. ওই আইগর একটা ই-মেইল করেছে, লিখেছে, তুই অসুস্থ। Hospitalised. সত্যি কি? আমি খুব ওরিড বোধ করছি। আইগরের মেইল ফরোয়ার্ড করলাম — বলেছে তোকে নাকি ব্লাড ট্রানসফিউশন করতে হয়েছে? আরও লিখেছে যে এসবের পেছনে ওই মেয়েটাই দায়ী। ও নাকি আজকাল তোর ফ্ল্যাটে তোর সঙ্গেই থাকে? Let me know at the earliest.
Dada

Re: Re: Everything alright
7 March, 2.24pm (CET)
Sudesh
To: Bidesh
দাদা,
আইগর একটা পাগল, সে কী সব উলটো-পালটা বলেছে তাই নিয়ে এত ভাবলে চলে? তবে হ্যাঁ, অ্যাগনেস আমার বাড়িতে রাতে কয়েকদিন ছিল। এই নিয়ে খুব কিছু উত্তেজিত হয়ে ভাবার নেই। আজ রাতে স্কাইপ করব।
বুড়ো

Re: Re: Re: Everything alright
7 March, 12.01 pm (IST)
Bidesh
To: Sudesh
বুড়ো,
তুই যদি আমাদের না জানাস কী হয়েছে, তাহলে কিন্তু আমরা ভয়ানক রেগে যাব। আমি লক্ষ করছি, আজকের সবকটা ই-মেইল তুই করেছিস তোর অফিস টাইমে। সেটা কী করে সম্ভব?
দাদা

No subject
7 March, 3.42 pm (IST)
Bidesh
To: Arpita
চিঠি পড়ে ফোন কোরো। কী করা যায় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এর পরেই মিঃ শুল্‌জ্‌-এর চিঠিটা ফরওয়ার্ড করছি। পড়ে দেখ। আমার আজ কেমন খটকা লাগছিল বলে আমি শুল্‌জ্‌কে চিঠি লিখেছি ডিরেক্টলি।বুড়োর শরীর খুব খারাপ — আমাদের জানায়নি পর্যন্ত। হাসপাতালে ভর্তি। রক্ত দিতে হয়েছে। এ সব পড়ে আমার তো হাত-পা কাঁপতে লেগেছে। শুল্‌জ্‌ লিখেছে আমাদের কারোর এক্ষুনি যাওয়া উচিত। কিন্তু অফিসের এই অবস্থা, এমন সময়ে আমি যদি বিদেশ যাই, তাহলে তো রক্ষে থাকবে না। কী করা যায় বলো তো?

Re: No subject
7 March, 4.49 pm (IST)
Arpita
To: Bidesh
ফোনে কথা বলার পরেও একটা কথা মনে হল। যেতে একজনকে হবেই। তোমার অফিসের সমস্যা আছে, আমার বাড়ি আছে, ঈশ আছে। তার ওপর, ব্যাপারটা না বুঝে মা'কে কিছু জানানো যাবে না। আমার মাথায় একটা আইডিয়া এসেছে। তুমি বাড়ি এসো, তার পরে কথা হবে।

We need some help
7 March, 8.22 pm (IST)
Arpita
To: Snehashis
শানু,আমরা একটা সাংঘাতিক সমস্যায় পড়ে তোকে মেইল লিখছি। তুই জানিস তোর জামাইবাবুর ভাই, আমার দেওর, কোপেনহ্যাগেনে চাকরি করে, ইঞ্জিনিয়ার? ও ওখানে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে আমরা খবর পেয়েছি। হাসপাতালে ভর্তি। অফিস থেকে বলেছে কেউ যেন আসে। আমরা এখনও তোর জামাইবাবুর মাকে জানাইনি। ফলে ব্যাপারটা হাশ্‌-হাশ্‌ চুপিচুপি করতে হচ্ছে। তোর জামাইবাবুর অফিসে একটা সাংঘাতিক সমস্যা হয়েছে, এখানকার কাগজে আজ বেরিয়েছে, জানি না তোদের ওদিকে কিছু জেনেছিস কি না। এমনই একটা সমস্যা, তাতে তোর জামাইবাবুর পোস্টে কেউ এখন কোনও কারণেই দেশের বাইরে যেতে পারবে না।তুই তো ড্রেসডেনে আছিস। কোপেনহ্যাগেন কী খুব দূর? তুই একবার গিয়ে দেখে আসতে পারবি? তারপরে আমরা যদি দরকার হয়... দাঁড়া, তোর জামাইবাবু লিখতে চাইছে।ভালবাসা নিস, যত তাড়াতাড়ি পারিস খবর দিস।টুকুদি
স্নেহাশিস,
আমি তোমাকে সেই কবে একবার দেখেছি, বিয়েতে আর বউভাতে, তাই সাহস করে ডাকনামে ডাকলাম না। আসলে আমাদের ব্যাঙ্কটা একটা সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তাই আমার পক্ষে এখন দেশ ছেড়ে যাওয়াটা একেবারেই সম্ভব না। এর মধ্যে এমন একটা ঘটনা ঘটে গেল, যে আমরা কিছু বুঝতেই পারছি না। বুড়ো একেবারে সুস্থ স্বাভাবিক ছিল, এই সেদিন রুমানিয়া থেকে ফিরল। এর মধ্যে কী যে ঘটে গেল। আজও ওখানকার সকালে আমাকে ই-মেইল করল, আজ সন্ধেবেলা স্কাইপ করবে, আর আমাদের সন্ধেবেলা, ওদের বস আমাকে ফোন করে জানাল যে ওর কন্ডিশন ডিটিরিওরেট করেছে, ওকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া যাবে না, আমরা কেউ যেন এক্ষুনি কোপেনহ্যাগেন যাই।ভাই, তুমিই একমাত্র যে অত কাছে আছ। এ বিপদে তোমাকেই বলছি, যদি সম্ভব হয় একবারটি দেখে আসতে পারবে? তোমার যাতায়াত, থাকা খাওয়ার খরচা আমি দেব, এ-কথা স্বাভাবিক, সুতরাং, যদি তুমি যেতে পার, খুব ভাল হয়। ও যে হাসপাতালে আছে তার নাম হল Rigshospitalet, ওর বস আমাদের জানিয়েছে, হাসপাতাল নাকি বড়, যে কোনও ট্যাক্সি এয়ারপোর্ট থেকে নিয়ে যাবে।
ইতি,
বিদেশ, তোমার সম্পর্কে জামাইবাবু
পুঃ অ্যাই, শানু, আমরা কিন্তু কাউকে কিচ্ছু বলিনি, তুই আবার ছোটমামাকে বা মামীমাকে কিছু বলিস না যেন। নইলে মামীমা মাকে ফোন করবে, আর মা ফোন করবে আমার শাশুড়িকে। ওই জেনারেশনের কাছে খবর পৌঁছলে আর কনট্রোল করা যায় না।
টুকুদি

Re: We need some help
7 March, 8.00 pm (CET)
Snehashis
To: Arpita
টুকুদি, জামাইবাবু,
তোমরা কোনও চিন্তা কোর না। আমি এখন আর ড্রেসডেনে নেই, আমি এখন হামবুর্গে। হামবুর্গ কোপেনহ্যাগেনের খুবই কাছে, আর আমাকে অফিসের কাজে মাসে দু'মাসে একবার যেতেই হয়। আমি টিকিট করে নিয়েছি, কাল ভোরে বেরিয়ে যাব। ট্রেনে ঘণ্টা ছয় সাতেকে পৌঁছনো যায়, কোন চিন্তা নেই।
Rigshospitalet বড় হাসপাতাল, ইন ফ্যাক্ট ডেনমার্কের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল, অত হাইলি স্পেশালাইজড হসপিটাল ও দেশে আর নেই।ওখান থেকে জানাব কী হচ্ছে।
শানু

Re: We need some help
 8 March, 6.17 pm (CET)
Snehashis
To: Arpita
টুকুদি, জামাইবাবু,
আমি এই মাত্র হাসপাতাল থেকে বেরিয়েছি সুদেশ আর ডাক্তারবাবুর সঙ্গে দেখা করে। সুদেশকে খারাপ দেখলাম না। ডাক্তারবাবু বললেন, ওর অসুখটা ওঁরা খুব কঠিন মনে করছেন না, কিন্তু কোনও কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না বলেই একমাত্র দুশ্চিন্তা করছেন। আমার মনে হল তোমরা জান না, কিন্তু গত বেশ কয়েক দিন ধরেই সুদেশের শরীরটা একটু দুর্বল হয়ে রয়েছে। ওদের অফিসের ডাক্তার বুঝতে না পেরে Rigshospitalet-এ পাঠান। এখানে পরীক্ষা করে দেখা যায় যে সুদেশের ভাল রকম রক্তাল্পতা হয়েছে। তারই কারণ কেউ খুঁজে পাচ্ছে না। ডাক্তার বললেন, রক্তাল্পতা হয় তিনরকম কারণে — কারওর যদি রক্ত কম তৈরি হয়, বা যদি বেরিয়ে যায়, বা নষ্ট হয়ে যায়। রক্ত তৈরি হচ্ছে কম এমন ভাবার কারণ নেই। এখন পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে রক্ত কোনও ভাবে নষ্ট হচ্ছে কি না। ওর শরীরে নানা জায়গায় কিছু ক্ষতচিহ্ন দেখা গেছে, যেখান থেকে কখনওই ও রক্ত যেতে দেখেনি, তবে ডাক্তার বললেন, রক্তাল্পতা হলে অনেক সময়ে শরীরের সরু ধমনী ফেটে এমন ছোট ছোট হেমারেজ হতে পারে।তোমরা ওর দেখাশোনার জন্য দুশ্চিন্তা করছিলে, আমি দেখলাম ওর সঙ্গে একটি মেয়ে রয়েছে, তার নাম অ্যাগনেস। ওর কোলিগ। মেয়েটা চাকরী থেকে ছুটি নিয়ে দিনরাত ওর পাশে রয়েছে। খুব ডিভোটেড মনে হল। তোমরা চিন্তা করো না।আমাকে আজ হামবুর্গ ফিরতে হবে, তবে আমি পরের সপ্তাহেই আবার ফিরব। এই ধর ১৪ই বা ১৫ই।
ইতি,
শানু
Sent from my iPhone

Re: Re: We need some help
8 March, 11.21 pm (IST)
Arpita
To: Snehashis
শানু,
কী বলে ধন্যবাদ দেব তোকে জানি না। হ্যাঁ রে, ডাক্তার কী বললেন, সেরে যাবে তো? খুব কঠিন অসুখ কি? অ্যাগনেস মেয়েটা খুব ভাল। চাকরী থেকে ছুটি নিয়ে বুড়োর দেখাশোনা করছে... আচ্ছা, বুড়ো কী বলল? ওর কথা তো কিছু লিখলি না। তোকে চিনতে পারল? আমাদের কাউকে কী যেতে হবে? কী যে সর্বনাশ হল কে জানে। চার বছর ইজিপ্টে ছিল, তখন তো কোনও অসুখ সেরকম হয়নি!

Re: Re: Re: We need some help
9 March, 7.13 am (CET)
Snehashis
To: Arpita
টুকুদি,
আমি ফিরেছি হামবুর্গ। সুদেশ এমনি ভালই আছে, একটু দুর্বল। আমাকে চিনতে পেরেছে। মানে, আমি কে বলার পরে বুঝতে পেরেছে। বিদেশে আমিও অসুস্থ হয়েছিলাম। এখানে সার্ভিস ভাল, কিন্তু সত্যিই দেখাশোনা করার লোক পাওয়া যায় না। এই অবস্থায় সারাক্ষণ কেউ কাছে থাকলে বড়ো ভালো লাগে। মেয়েটাকে আমার বেশ লেগেছে। ওরা কি বিবাহিত? আমার জিজ্ঞেস করা সম্ভব ছিল না। এ দেশে পট করে ব্যক্তিগত প্রশ্ন করা যায় না।ডাক্তার আমাকে এ-ও বলেছেন, যে সুদেশ হয়ত ইজিপ্ট থেকেই কোন ট্রপিক্যাল অসুস্থতা নিয়ে এসেছে, যার প্রকাশ এখন হচ্ছে। সেটা অবশ্য আন্দাজ, ওদের ট্রপিক্যাল ডিজিজ স্পেশালিস্ট এসে দেখে গেছেন, উনিও যাকে বলে ইন-দ্য-লুপ। সকালে আমি ডাক্তারকে ফোন করেছিলাম, কাল ওরা সুদেশকে ছেড়ে দেবে। এ যাত্রা একটা ফাঁড়া কাটল তোমাদের।
ইতি,
শানু।

Sent from my iPhone
Urgent
11 March, 11.03 am (IST)
Bidesh
To: Snehashis
ভাই স্নেহাশিস,
আমি তোমার টুকুদির স্বামী তোমার জামাইবাবু — বিদেশদা। আমাদের আবার একটা সঙ্কট হয়েছে। গত দিন দুয়েক আমরা সুদেশ, মানে বুড়োর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছি, মনে হয়েছে, ওর কন্ডিশনটা একটু ইম্প্রুভ করেছে। কিন্তু আজ এক্ষুনি ওর বসের মেইল এল। বুড়ো নাকি খুবই অসুস্থ। আমরা কেউ যেন এক্ষুনি যাই। তুমি কি আর এক বার যেতে পারবে?কী করব, কাকে কী বলব, কিছুই বুঝছি না। টুকুদিও তোমাকে মেইল করছে।
ইতি,
বিদেশদা।

Re: Urgent 11 March, 7.32 am (CET)
Snehashis
To: Bidesh, Arpita
বিদেশদা,
আমি Rigshospitalet-এ ফোন করেছিলাম। ডাক্তারের সঙ্গে কথা হয়েছে। অবস্থা ভাল না। আমি ফ্লাই করছি। 10.40-এ ফ্লাইট।দেখো, এখন যা অবস্থা, তোমরা কেউ যদি আসতে পার, ভাল হয়।
শানু
Sent from my iPhone
No Subject
11 March, 1.24 pm (IST
)Arpita
To: Snehashis
শানু,
ভাই তুই কী ভালো রে। ভগবান তোর ভালো করবে দেখিস।একটা কাজ গিয়েই করবি। ওই অ্যাগনেস মেয়েটাকে বিদেয় করবি। দরকার নেই ওই মেমসাহেবের ওখানে থেকে। তার চেয়ে হাসপাতালের নার্সরা যা পরিচর্যা করবে সেই যথেষ্ট।
টুকুদি।

Fw: Urgent
11 March, 1.24 pm (IST)
Bidesh
To: Snehashis
শানু,
তোমার দিদির মাথায় ঢুকেছে, বুড়োর গার্লফ্রেন্ড অ্যাগনেসই কোনও ভাবে বুড়োর কন্ডিশনের জন্য দায়ী। তোমাকে লিখতে পারে। জানই তো, টুকুর মাথায় কিছু ঢুকলে আর বেরোয় না। তাই জানিয়ে রাখছি, তুমি এই নিয়ে আর কিছু লিখতে যেও না। টুকু কোনও মেইল লিখলে 'ঠিক আছে' লিখে দিও।আমার আজ আবার একটা হিয়ারিঙে যেতে হবে হেড অফিস। তোমার দিদির মেইল খোলা থাকবে, ওকে জানিও।
ইতি,
সুদেশদা।
Re: Urgent
11 March, 11.15 am (CET)
Snehashis
To: Arpita, Bidesh
টুকুদি, বিদেশদা,
আমি এখন কোপেনহ্যাগেন এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে ট্যাক্সি করে হাসপাতাল যাচ্ছি। ফোনে তোমাদের মেইল দেখলাম। টুকুদি, তুমি ভেব না, আমি যদি গণ্ডগোল বুঝি, অ্যাগনেসকে বিদায় করে দেব।
ইতি,
শানু।
Sent from my iPhone
Re: Re: Urgent
11 March, 4.03 pm (IST)
Arpita
To: Snehashis
Cc: Bidesh
শানু,
কোনও গণ্ডগোল খোঁজার দরকার নেই। ওই মেয়েটাকে ওখানে রাখার কোনও দরকার নেই। তুই গিয়ে পত্রপাঠ বিদেয় দিবি, বুঝলি? পত্রপাঠ।
টুকুদি

Re: Urgent
11 March, 3.09 pm (CET)
Snehashis
To: Bidesh, Arpita
টুকুদি, বিদেশদা,
হাসপাতাল থেকে লিখছি। আমি এখন সবে সুদেশকে দেখে আই-টি-ইউ থেকে বেরোলাম। ওখানকার ইন-চার্জ আমাকে যা বলল, তার পরিপ্রেক্ষিতে বলছি — সুদেশ ভাল নেই। কী হয়েছে, ওরাও বলতে পারছে না, তোমরা আমাকে যেমন বলেছিলে, গত দিন দুয়েকে অনেকটাই উন্নতি হয়েছিল, কিন্তু কাল রাত থেকে আবার অবস্থার অবনতি হয়েছে। এখন পুরোপুরি অজ্ঞান।আমি এখন যাচ্ছি ডাক্তারবাবুর সঙ্গে দেখা করতে, আবার জানাচ্ছি কী বলেন।
শানু।
Sent from my iPhone

Re: Re: Urgent
11 March, 7.40 pm (IST
)Arpita
To: Snehashis
ওই মেয়েটা বিদেয় হয়েছে কি না?

Re: Re: Re: Urgent
11 March, 3.30 pm (CET)
Snehashis
To: Arpita, Bidesh
টুকুদি, বিদেশদা,
আমি এই মাত্র এখানকার হেমাটোলজির হেড ডাঃ Eric Holm-এর সঙ্গে দেখা করে নামছি। উনি কোনও আশা দিলেন না। আমাকে জিজ্ঞেস করলেন আমি কে হই। বললাম যখন, একটু অবাক হলেন। বললেন, ওঁর আত্মীয় স্বজন কেউ আসেনি দেশ থেকে? তারপরে বললেন, জানিয়ে দিন, ওঁরা যদি কেউ আসতে চায়, কারণ আমি জীবনের কোনও আশা দিতে পারছি না। এই মোমেন্টে আমরা ব্লাড দিচ্ছি, কিন্তু কাল রাতে এতটাই রক্তাল্পতা হয়েছিল, যে দুবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, ফলে হার্ট এখন খুবই দুর্বল। হার্ট দুর্বল বলে চট করে ব্লাডও দেওয়া যাচ্ছে, না, সব মিলিয়ে ক্রিটিক্যাল অবস্থা।টুকুদি, তুই কেন অ্যাগনেস মেয়েটার ওপর এত রেগে গেছিস আমি জানি না, কারণ আমি নিজে মেয়েটাকে যা দেখেছি, শি ইজ রিয়েলি আ গুড সোল। সুদেশের খুব দেখাশোনা করছিল। যাই হোক, মেয়েটা এখন আর এখানে নেই। আজ সকালে ওদের বস মিঃ শুল্‌জ্‌ এসে ওকে বলেছেন, ও যেন চলে যায়, ওকে আমার সামনেই বলেছেন, ওর ক্যানাডা যাওয়া পাকা, রওয়ানার ব্যবস্থা করতে শুরু করে যেন। বাড়ির লোক হিসেবে আমার সঙ্গে কথা বলে আমি কে জেনে অবাক হলেন (আসলে এরা বৌদির মামাতো ভাই কনসেপ্টটা ঠিক বোঝে না)। তারপরে বললেন, অফিস থেকে কেউ না কেউ এখন রাউন্ড দ্য ক্লক থাকবে। মনে হল সুদেশকে খুবই পছন্দ করেন।আমি এখন হাসপাতালের ক্যান্টিনে বসে আছি। আমার অফিসে জানিয়েছি, আমার এ-মাসে কোপেনহ্যাগেন-এর কাজ যা আছে তার যতটা পারা যায় এ-যাত্রাই সেরে নিতে চাই। তাহলে আমি কটা দিন এখানে থেকে যেতে পারব। দু'বেলা হাসপাতালে ঘুরেও যেতে পারব।
ইতি
শানু
Sent from my iPhone

Re: Re: Re: Re: Urgent
11 March, 8.12 pm (IST)
Arpita
To: Snehashis
শানু,তুই বড্ড ভালো ছেলে। কিন্তু যাই হোক, ক্যানাডা, বা যেখানেই পাঠাক, তুই বলে দিস ওই মেয়েটা যেন আর কোন ভাবেই বুড়োর কাছেপিঠে পৌঁছতে না পারে।
টুকুদি

About Agnes
 11 March, 8.15 pm (IST)
Bidesh
To: Snehashis
শানু,
টুকু যাই বলুক, তুমি কিন্তু ওই অ্যাগনেসের ব্যাপারে কিছু করতে যেও না। মিছিমিছি অশান্তি হবে। আমি এসব বলেছি, সেও টুকুদিকে বলতে হবে না।ভাল কথা, তুমি কিন্তু তোমার সব খরচের হিসেব রাখবে। না বলবে না।
বিদেশদা।

Re: About Agnes
11 March, 3.48 pm (CET)
Snehashis
To: Bidesh
বিদেশদা,
চিন্তা করো না। আমি অ্যাগনেসের সঙ্গে কিছুই করতে যাব না। আর পয়সা-কড়ি নিয়ে একেবারে ভাববে না, আমি সবটাই অফিসের কাজের ফাঁকে ফাঁকে করছি, সুতরাং আমার নিজের পকেট থেকে কোনও খরচই হচ্ছে না। এখন যেটা ভাবতে হবে তা হল ভালোয় ভালোয় ছেলেটাকে সারিয়ে সুরিয়ে বাড়ি কী ভাবে নিয়ে যাওয়া যায়।আমার অফিস এই চিঠি লেখার মধ্যেই ফোন করেছিল। জানিয়েছে আমার প্ল্যানে ওদের আপত্তি নেই। সুতরাং আমি খুব নিশ্চিন্ত। ওরাই আমার জন্য কাছে একটা ভদ্রস্থ হোটেল জোগাড় করেছে। আমি এখন ওখানে গিয়ে ঘর দখল করছি। পরে জানাব।
ইতি,
শানু।
Sent from my iPhone

Condition of Sudesh
11 March, 5.24pm (CET)
Snehashis
To: Bidesh
বিদেশদা,
এই চিঠিটা আমি ইচ্ছে করেই টুকুদিকে লিখছি না। আমি হোটেলে এসে পৌঁছন' মাত্র আমাকে হসপিটাল থেকে ফোন করে জানাল যে সুদেশের অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। আবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। কোনও রকমে রিভাইভ করা হয়েছে। ওরা এখন আর কোনও আশাই রাখছে না।আমি আবার হাসপাতালে যাচ্ছি।
Sent from my iPhone

Jamaibabu chhuti peyechhe
 11 March, 10.09 pm (IST)
Arpita
To: Snehashis
শানু,
একটা ভাল খবর। তোর চিঠিগুলো পড়ে আমি তোর জামাইবাবুকে না জানিয়ে ঘণ্টা দুয়েক আগে ব্যাঙ্কের এক্সিকিউটিভ ডিরেকটর রামানুজনকে সব জানিয়ে ই-মেইল করেছিলাম। ভদ্রলোক এক্ষুনি ফোন করেছিলেন। বলেছেন তোর জামাইবাবু যেন কালকেই রওয়ানা হয়ে যায়, ছুটির দরখাস্ত ই-মেইল করে ওঁকে ডাইরেক্টলি পাঠাতে, উনি সব ব্যবস্থা করবেন।বিদেশ ওই কম্পিউটার থেকে টিকিট করছে। হলেই তোকে জানাচ্ছি। ভাল লোক সব জায়গায় থাকে, জানিস, এখন মনে হচ্ছে কেন যে আগেই ওঁকেই-মেইল করলাম না!
টুকুদি

Re: Condition of Sudesh
11 March, 10.38 pm (IST)
Bidesh
To: Snehashis
শানু,
টুকুদির চিঠিতে জেনেছ। আমি টিকিট করে নিয়েছি। কাল (১২ই মার্চ) রাত নটা দশে আমি কলকাতা ছাড়ব। বম্বে থেকে লুফৎহানসা ধরে পরশু ১৩ই প্রথমে ফ্রাঙ্কফুর্ট, তার পরে পরশুই সকাল দশটা পঞ্চাশে কোপেনহ্যাগেন। তুমি ১৩ই অবধি থাকলে আমি নেমে তোমাকে ফোন করব। তোমার ফোন নম্বর আমার কাছে আছে।ইতিবিদেশদা।পুঃ আমি বুঝছি আশা আর নেই। কিন্তু এখনই টুকুদিকে কিছু জানাচ্ছি না। তুমিও জানিও না। ওরা দু'জন মহিলা একটা বাচ্চাকে নিয়ে একা থাকবে।

Re: Re: Condition of Sudesh
 11 March, 6.34 pm (CET)
Snehashis
To: Bidesh
বিদেশদা,
টুকুদিকে আমিও এখন কিছু জানাচ্ছি না।
আমি এখন হাসপাতালে — আই-টি-ইউ-এর ওয়েটিং রুমে। এখানে আমার সঙ্গে সুদেশের দু'জন সহকর্মী আছেন। অফিস থেকে যাদের বলেছে থাকতে। অ্যাগনেস আসেনি, কিন্তু এ-ও শুনলাম ওদের মুখে যে ও নাকি ক্যানাডা যায়নি, চাকরি থেকে রিজাইন করেছে। সেটা সুদেশের কারণেই বলে মনে হচ্ছে, কিন্তু এখানে তো দেখিনি।তুমি যে ফ্লাইটে টিকিট কেটেছ, সেটা খুব ভাল ফ্লাইট। আমি দেশ থেকে ফেরার সময় ওটাই প্রেফার করি। মুম্বাইতে টার্মিনাল চেঞ্জ করতে হয়, তবে ৩ ঘণ্টা সময় থাকবে। আর ফ্রাঙ্কফুর্টে মাত্র ১ ঘণ্টা সময় পাবে — কিন্তু তাতে অসুবিধা নেই। কারণ ওখানে একই টার্মিনাল থেকে এখানকার ফ্লাইট ছাড়বে।তোমার ফ্লাইট আসবে কোপেনহ্যাগেন-এ টার্মিনাল ৩-এতে। ওই টার্মিনালেই মেট্রো স্টেশন। ১০ মিনিট অন্তর অন্তর ট্রেন। ট্রেনে তুমি যাবে কোপেনহ্যাগেন সেন্ট্রাল স্টেশন। ১৩ মিনিট লাগবে (এ সব দেশে ১৩ মিনিট মানে ১৩ মিনিট; ১২ও না, ১৫ও না)। ভাল কথা, টিকেট মেশিনে ক্রেডিট কার্ড নেবে, নয়ত খুচরো পয়সা। নোট নেবে না। তবে আজকাল তো সবই ইন্টার্ন্যাশনাল ক্রেডিট কার্ড।হোটেলের নাম Hotel Kong Arthur, Norre Soegade 11 Copenhagen. স্টেশন থেকে কাছেই। আমার ঘরে তুমি এসে উঠবে। আমি না থাকলেও আমি রিসেপশনে বলে যাব। আর আমি থাকলে তো কথাই নেই। তুমি অন্য কোনও হোটেল বুকিং করতে যেও না।ট্যাক্সি করতে যেও না, মিছিমিছি অনেক পয়সা খরচ। সময়ও বেশিই লাগবে।
ইতি
শানু।
Sent from my iPhone

Jamaibabu jacche
12 March, 00.03 am (IST)
Arpita
To: Snehashis
জামাইবাবু আজ রাতে রওয়ানা দেবে। সকাল থেকে প্যাকিং শুরু করব। আমার মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। এত দিন আমার শাশুড়ি আর ছেলেকে তো আমরা কিছুই বলিনি। কিন্তু এবার বলতে হল। মায়ের তো বুঝতেই পারছিস খুব খারাপ অবস্থা। হ্যাঁরে শানু, কোনও আশাই কি নেই?

Re: Jamaibabu jacche
11 March, 10.19 pm (CET)
Snehashis
To: Arpita
টুকুদি,
অবস্থা খুবই সঙ্কটজনক। তবে আশা নেই কী করে বলি। ধৈর্য ধরো। সাহস করো। আমি এখন হাসপাতালেই আছি।
শানু।
Sent from my iPhone

Re: Re: Jamaibabu jacche
12 March, 07.13 am (IST)
Arpita
To: Snehashis
আজ সকালে কী খবর রে, শানু?

Doctor happy you are coming
12 March, 09.30 am (CET)
Snehashis
To: Arpita, Bidesh
বিদেশদা, টুকুদি,
আমি কাল রাত প্রায় ১২টায় হোটেল ফিরেছি। আজ সকালে এই মাত্র ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করলাম। বিদেশদা আসছে জেনে খুব খুশী হলেন। এর মধ্যে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। ডাক্তারকে আজ আর অতটা চিন্তিত দেখাল না। গত কাল সারা দিনে প্রায় ২.৫ লিটার রক্ত দিয়েছে। রক্তের হিসেবে অনেক রক্ত। বললেন গত কয়েক সপ্তাহে এমন অনেক বার রক্ত দিতে হয়েছে সুদেশকে। তবে বললেন, বয়েস কম, হার্ট অ্যাটাক হওয়া সত্ত্বেও শরীর শক্ত, তাই বোধহয় আর বিশেষ ভয় নেই। কিন্তু দুশ্চিন্তার কারণ এই, যে ওরা ধরতেই পারছে না কেন এমন অবস্থা হয়েছে। ডাক্তারের চিন্তা একমাত্র এই, যে বার বার এমন হঠাৎ হঠাৎ রক্তশূন্য কেন হয়ে যাবে শরীর? এর কারণ না জানা গেলে ভবিষ্যতে কখনও এমন হলে হঠাৎ কী করে রক্ষা পাবে, ইত্যাদি।যাই হোক, আমি কিন্তু আবার মনে করছি যেন একটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে।
শানু।
Sent from my iPhone

Waiting for Frankfurt flight
13 March, 1.56 am (IST)
Bidesh
To: Snehashis, Arpita
কলকাতা-বম্বে ভালোয় ভালোয় কাটল। এখন টার্মিনাল চেঞ্জ করে ফ্র্যাঙ্কফুর্টের ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করছি।
Sent from Android phone

Re: Waiting for Frankfurt flight
13 March, 1.56 am (IST)
Arpita
To: Bidesh
দুগ্‌গা দুগ্‌গা। ভালোয় ভালোয় ছেলেটাকে নিয়ে ফিরে এসো। মা খুব কান্নাকাটি করছিল। শেষে ডাঃ ব্যানার্জীকে ফোন করলাম, বললেন, ঘুমের ওষুধটা আর একটা দিতে। এখন দেখে এলাম, ছটফট করতে করতে একটু ঘুমিয়েছে।আমি এই শুলাম। প্লেনে উঠে জানিও। তখন হয়ত ঘুমিয়ে পড়ব, উত্তর দিতে পারব না। তবুও।

Re: Re: Waiting for Frankfurt flight 13 March, 1.56 am (IST)BideshTo: Arpitaসবাই মিলে জেগে থেকে লাভ নেই। ঘুমিয়ে পড়ো।Sent from Android phone

Re: Re: Re: Waiting for Frankfurt flight 13 March, 1.57 am (IST)ArpitaTo: Bideshঘুম এলে তো ঘুমোবো।

No subject
13 March, 6.12 am (CET)
Snehashis
To: Bidesh
বিদেশদা,
তুমি এখনও ফ্লাইটে। ফ্র্যাঙ্কফুর্ট পৌঁছওনি। তাই জানাচ্ছি, আমি এক্ষুনি হাসপাতাল থেকে ফোন পেয়ে ওখানে যাচ্ছি। আমার মনে হচ্ছে খবর ভাল না।আমি হাসপাতাল গিয়েই আবার জানাচ্ছি।
Sent from my iPhone

No Subject
13 March, 7.30 am (CET)
Snehashis
To: Bidesh
বিদেশদা,
আপনার প্লেন এখনও ফ্র্যাঙ্কফুর্ট পৌঁছয়নি। আমি আপনার প্লেন অ্যাটেন্ড করব। আপনি নেমে কোনও দিকে যাবেন না, ইমিগ্রেশন পেরিয়ে আমাকে ফোন করবেন, আমি বলে দেব কোথা দিয়ে কী ভাবে বেরোবেন। আমার সঙ্গে গাড়ি থাকবে। আপনাকে ট্রেন ইত্যাদি করতে হবে না।
শানু।
Sent from my iPhone

Re: No subject
13 March, 8.31 am (CET)
Bidesh
To: Snehashis
শানু, তুমি হাসপাতাল কেন গেছ? কিছু হয়েছে কি? কী হয়েছে? আমি ফ্র্যাঙ্কফুর্ট এসেছি, কোপেনহ্যাগেনের ফ্লাইটের গেট দিয়েছে। যাচ্ছি। তুমি এখন কোথায়?
Sent from Android phone

Frankfurt
13 March, 8.34 am (CET)
Bidesh
To: Arpita
ফ্র্যাঙ্কফুর্ট এসেছি। প্লেন থেকে নেমে কোপেনহ্যাগেনের প্লেন ধরতে যাচ্ছি। শানু কিছু জানিয়েছে রাতে?
Sent from Android phone

Re: Frankfurt
13 March, 1.00 pm (IST)
Arpita
To: Bidesh
আমাকে কিছু জানায়নি। আমি ভোর থেকে কম্পিউটার খুলে বসে আছি। ঈশকে স্কুলে পাঠাইনি। মা সকাল থেকে কিছু খাননি। ঠাকুরঘরে বসে আছেন কখন থেকে জানি না। আমি ৫টায় উঠে থেকে ওখান থেকে ওঠাতে পারিনি।

Re: Re: Frankfurt
13 March, 8.49 am (CET)
Bidesh
To: Arpita
শানু আমাকে ঘণ্টাখানেক আগে মেইল লিখেছে হাসপাতাল যাচ্ছে। কেন জানায়নি। বলেছে এয়ারপোর্ট এসে আমার সঙ্গে দেখা করবে। কী হল কে জানে। আমি মিনিট দশেক আগে ল্যান্ড করেছি। ফোন খুলতেই ওর চিঠি। তোমাকে ফরোয়ার্ড করলাম। ওকে জানিয়েছি, এখনও উত্তর পাইনি। আমি এখন নতুন ফ্লাইটের অপেক্ষা করছি।
Sent from Android phone

Re: Doctor happy you are coming
13 March, 1.47 pm (IST)
Arpita
To: Snehashis
শানু,
জামাইবাবু জানাল তুই সকালে হাসপাতাল গিয়েছিস। তোর মেইল ফরওয়ার্ড করেছে। কেন? কোনও সমস্যা হয়েছে?

Re: No subject
13 March, 9.00 am (CET)
Bidesh
To: Snehashis
শানু,
আমি একটু পরেই বোর্ড করব। প্লেন এসে গিয়েছে। আর কোনও খবর আছে কী?
Sent from Android phone

Re: Re: Frankfurt
13 March, 9.01 am (CET)
Bidesh
To: Arpita
আমি খুব শিগগির বোর্ড করব। শানুর কোনও খবর নেই।
Sent from Android phone

Detailed news
13 March, 9.09 pm (CET)
Bidesh
To: Arpita
কী আর লিখব। আর কিছু লিখেই বা কী হবে। বেশিরভাগ কথা তো ফোনেই হল। সারাদিন নানা ডাক্তারের সঙ্গে কথা হল। এ দেশের নিয়ম অনু্যায়ী, পোস্ট মর্টেম না করে বডি দেবে না। ডাক্তাররা ওর মৃত্যু নিয়ে খুবই পাজ্‌ল্‌ড্‌। কিছু বুঝতেই পারছে না। গতকাল রাতে ৩টের সময়েও ও ভালোই ছিল। অন্ততঃ হঠাৎ কিছু ঘটে যাবে এমন কোনও সম্ভাবনার কথা কেউ মাথায়ই আনেনি। রাত তিনটের পরে নার্স রাউন্ড শেষ করে চলে যায়। অফিসের যে ছেলেটা ওর ঘরে ছিল, তাকে নার্স বলেছিল যে বুড়ো ঠিকই আছে। ছেলেটা স্মোকার। নার্স চলে গেলে একটা সিগারেট খেতে বেরোয়। এই সব হাসপাতালে সিগারেট খেতে যাওয়া প্রায় অগ্যস্ত যাত্রার মত। তার পর সে ফিরেছে তখন প্রায় ৪টে বাজে। এখানেই একটা অদ্ভুত ব্যাপার হয় - ও এসে দেখে দরজাটা বন্ধ। ও ভেবেছে কেউ ঘরে নেই বলে নার্স দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। অত রাতে কাউকে আর ডাকাডাকি না করে ওয়ার্ডের বাইরেই ওয়েটিং রুমে গিয়ে বাকি রাতটা কাটিয়েছে। সকাল ৬টায় কিন্তু নার্স রাউন্ডে এসে দেখে দরজা খোলা, বুড়ো মৃতপ্রায়। তৎক্ষণাৎ আবার ওকে আই-টি-ইউ-তে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু আর কিছু করা যায়নি।আমরা এখন হোটেলে ফিরে এসেছি। শানু সঙ্গেই আছে। আজ রবিবার। তাই ওর কোনও কাজ নেই। আমি আগামীকাল আবার হসপিটালে যাব। ওদের ব্যাপার-স্যাপার বুঝে আবার যেতে হবে ইন্ডিয়ান এমব্যাসি। আজ ফোনে সব জানিয়েছি, কিন্তু কাল গিয়ে অফিশিয়াল কাজকর্ম শুরু করতে হবে। হোটেল থেকে অনেক দূর। শানুর সকালে কিছু অফিসের কাজ আছে, সেটা শেষ করে ফিরে আমাকে নিয়ে যাবে। ওর একটা ভাড়া করা সেলফ ড্রাইভ গাড়ি আছে। বুড়োর অফিস আমাকে বুড়োর গাড়িটা দিতে চেয়েছিল, কিন্তু আমার তো ডেনিশ লাইসেন্স নেই। শুনে ওদের বস শুল্‌জ্‌ আমাকে বললেন, যখন দরকার হবে বলবে, আমার অফিসের শোফার আর গাড়ি থাকবে। তোমার কোনও অসুবিধে হলে আমাকে জানাবে। বলেছেন, শানু আর আমার দুজনেরই হোটেল বিল ওদের অফিস মেটাবে। শানু বলার চেষ্টা করেছিল সেটার দরকার নেই, কারণ ওর অফিস থেকে হোটেলের বিল মেটানো হবে, শুনলেনই না। আমাদের সামনেই অফিসের অ্যাকাউন্টস ডিপার্টমেন্টে ফোন করে ইন্সট্রাকশন দিয়ে দিলেন। শুল্‌জ্‌ আর নীলসেন দুজনেই বুড়োকে সাংঘাতিক পছন্দ করতেন বলে মনে হল।
কোথা থেকে কী হয়ে গেল।
Sent from Android phone

Today's news
14 March, 8.15pm (CET)
Bidesh
To: Arpita
সারা দিন তো ক্ষেপে ক্ষেপে সব খবরই পেয়েছ। মা কেমন আছে? সকালের পরে ডাক্তার ব্যানার্জী আর এসেছিলেন? নতুন কোনও ওষুধ দিয়েছেন? না খেতে চাইলে জোর করে খাওয়াও। বুড়ো চলে গেছে বলে আমাদের সকলেরই খুব কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু মা'র তো আমিও আছি, তুমিও আছ, ঈশও আছে। এই সব বলো।আজ মোটামুটি সব কাজই সুষ্ঠুভাবে হয়েছে। ইন্ডিয়ান এমব্যাসী খুব সাহায্য করেছে। সব ব্যবস্থা করে দেবে। এদিকে বুড়োর পোস্ট মর্টেম হয়ে গিয়েছে, বডি চলে গিয়েছে আন্ডারটেকারের কাছে। ওরা আমাকে ফোন করেছিল, আমি বলেছি বুড়োকে যাতে প্লেনে ইন্ডিয়া নিয়ে যাওয়া যায়, তেমনভাবে যেন কফিন-বন্দী করে। পোষাক সম্বন্ধে জানতে চেয়েছিল, আমি বলেছি, ট্র্যাডিশনাল বাঙালি পোষাক এখানে আমি জোগাড় করতে পারব না, ওরা ওদের মতোই পোশাক পরিয়ে দিক, তবে স্যুট পরাতে বারণ করেছি, কারণ আমরা তো দাহ করার সময় স্যুট পরিয়ে নিয়ে যাব না।কাল বুড়োর বাড়ি যাব, ওর জিনিসপত্র গোছগাছ করতে হবে।ও, রামানুজন কন্ডোলেন্স পাঠিয়েছেন, তোমার কথাও লিখেছেন, ফরওয়ার্ড করলাম।
Sent from Android phone

I have to leave
15 March, 12.26 pm (CET)
Snehashis
To: Arpita
টুকুদি,জামাইবাবু এখন সুদেশের বাড়িতে। আমার সঙ্গে ফোনে কথা হল। আমাকে জার্মানি ছুটতে হবে এক্ষুনি। অফিস থেকে ডাক এসেছে। এখানে যদিও সবই প্রায় শেষ হয়ে এসেছে, সুদেশের অফিসও খুবই হেল্প করছে, তবু এই সময় আমি থাকলে ভাল হত। কিন্তু উপায় নেই। অফিস এমার্জেন্সি। আমি পরে যোগাযোগ করব।ইতিশানু।
Sent from my iPhone

Re: I have to leave
15 March, 5.12 pm (IST)
Arpita
To: Snehashis
শানু,তোকে কী বলব? তুই অনেক করলি ভাই। নিজের কাজ ফেলে রেখে তো আর থাকতে পারবি না, আমিও বলতে পারব না। ভালোয় ভালোয় যা। বিদেশদা বাকিটা সামলে নেবে। ও ঠিক পারবে। মেনে তো নিয়েছে, বোঝা যাচ্ছে চিঠি পড়ে।
চিঠি দিস। আমিও দেব।
ইতি,
টুকুদি।

Re: Re: I have to leave
15 March, 2.30 pm (CET)
Snehashis
To: Arpita
টুকুদি,
জামাইবাবু কিন্তু অতটা সামলাতে পারেনি। তোমার সঙ্গে যখন কথা বলছে, হয়ত চিঠিতেও, all business, কিন্তু একা যখন তখন চুপি চুপি কাঁদতে দেখেছি। একদিন আমি বাথরুম থেকে বেরিয়ে দেখি চোখ মুছছে তাড়াতাড়ি - যাতে আমি বুঝতে না পারি, আর কাল রাতে আমাকে বলল, রাস্তা থেকে হেঁটে আসছে, ফিরে আসতে দেখি চোখ লাল। আমি যখন থাকব না, নিয়মিত চিঠি লিখো, ফোন করো। আর আমাকে জানিও কিছু হলেই।
Sent from my iPhone

Re: Re: Re: I have to leave
15 March, 7.48pm (IST)
Arpita
To: Snehashis
শানু,
ঠিক আছে। আমি অবশ্য এখন সারাক্ষণ কম্পিউটার চালু রাখছি, আমার মেইলের ইনবক্স খুলে রাখছি, যাতে দিনে রাতে কখনওই চিঠি এলেই উত্তর দিতে পারি। মোবাইল তো সারাক্ষণ সঙ্গে — চানে গেলেও নিয়ে যাচ্ছি। বিদেশ আমার সঙ্গে খুবই শক্ত বিহেভ করছে। বরং এখানে অনেক বেশি অবস্থা খারাপ। আমার শাশুড়িকে সামলাতে পারছি না। ঈশ এখনও অত বোঝে না, কিন্তু ওকেও তো কিছু একটা বলতে হবে। কাকুর শরীর খারাপ বলেছি, কিন্তু ওকেও বলতে হবে বিদেশ ফেরার আগেই। ডেডবডি তো বাড়িতেই আসবে। সব মিলিয়ে একেবারে জেরবার অবস্থা। আর জানিসই তো, আমারও ভাই-বোন নেই, আর ওদের তো আর কোন কাজিন-টাজিনও নেই। ওই দুই ভাই। ফলে বাড়িতে কেউ আসছেও না, বিদেশের দু'একজন কোলিগ আর প্রতিবেশী ছাড়া।তুই ভাবিস না, কাজে যা, কিছু হলে তোকে জানাব, আর কাকেই বা জানাব, বল?

Something strange
15 March, 9.34 pm (CET)
Bidesh
To: Arpita
আজ একটা অদ্ভুত জিনিস হল। আমার আইগরের সঙ্গে পরিচয় হল। আইগর এমন কিছু কথা বলল, যা শুনে আমি সম্পূর্ণ বোকা হয়ে গিয়েছি। আইগর কী বলল জান? বলল অ্যাগনেস মেয়েটা নাকি বুড়োকে খুন করেছে। আমি প্রথম থেকে বলি, নইলে খুব হিজিবিজি হয়ে যাবে, তুমি বুঝতে পারবে না।
সকালে আমি তো বুড়োর ফ্ল্যাটে গিয়েছিলাম ওর জিনিসপত্র গোছগাছ করতে, ওদের গাড়িতেই, ড্রাইভার এসেছিল ক্রিস্টেন — বুড়োকে খুব ভালবাসত। কেঁদে ভাসিয়ে দিল। বেশ বয়স্ক লোক। রিটায়ার করতে আর বেশি বাকি নেই।বুড়োর জামাকাপড় আমরা তো ঠিকই করেছিলাম কোনও চ্যারিটি বা সেরকম কিছুতে দিয়ে দেব। এমন চ্যারিটি কোথায় আছে যখন ক্রিস্টেনকে জিজ্ঞেস করলাম, ও একটু ইতস্তত করে বলল, আমি যদি কিছু মনে না করি, ও কি বুড়োর জামাকাপড়গুলো নিতে পারে? আমি হতভম্ব। আমাদের দেশে আমরা কাজের লোককে পুরনো জামা-টামা দিয়ে দিই, এদেরও সেরকম দেওয়া যায় কি না জানতাম না। কিন্তু ক্রিস্টেন বলল, ওর ছেলে একেবারেই বুড়োর মাপে মাপে, এই জামা প্যান্ট পড়তে পারবে। বুড়োর বেশ কয়েকটা স্যুট ছিল, ক্রিস্টেন একটা আর্মানি বের করে আমাকে বলল, বুড়ো এই সেদিনই এই স্যুটটা কিনেছে, অনেক দাম। আমাকে বলল, নিয়ে যাও। আমি বললাম, এই স্যুট পরতে গেলে আমাকে অন্তত আরও ইঞ্চি চারেক লম্বা হতে হবে, তোমার ছেলেকেই দিও। ও তখন বলল, এটা ও ছেলেকে দেবে না, ও নিজেই পরবে। ও বুড়োরই হাইট, কিন্তু একটু রোগা। পরে মনে হল, আর্মানি স্যুট বোধহয় সেকেন্ডহ্যান্ড বিক্রিও হয়।
যাই হোক, বুড়োর পার্সোনাল জিনিসপত্র প্রায় নেই বললেই চলে। রাজ্যের সিডি আর গোটা ছয়েক এক্সটার্নাল হার্ড ড্রাইভ — ল্যাপটপ, ডেস্কটপ আর গোটাকতক বই আর ছবি। ইজিপ্টের দু'একটা সুভেনির মতো ছিল, সেগুলো সবই আমাদের আছে, তবুও নিয়ে নিলাম।
জিনিসগুলো নিয়ে হোটেলে এসেছি। কাল যাওয়া, তাই একবার ফিউনেরাল হোমে ফোন করে আন্ডারটেকারের সঙ্গে কথা বললাম, সব তৈরি, ওরা সময়মত এয়ারপোর্টে পাঠিয়ে দেবে। তার পরে ফোন করলাম এমব্যাসিতে। ওরাও তৈরি। ওদের রিপ্রেজেন্টেটিভ থাকবে এয়ারপোর্টে। আমাকে সবরকম সাহায্য করার জন্য।
তার পরে একটু শুয়েছি খাটে, এমন সময়ে রিসেপশন থেকে ফোন। একজন আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন, তার কী একটা খটোমটো ডেনিশ নাম, মনে নেই, উনি কি আমার ঘরে আসতে পারেন?আমি ভাবলাম কে না কে — এদেশে তো যাদের চিনি তারা কেউ ঘরে আসার লোক না। বললাম, আমি নিচে আসছি।গিয়ে দেখি লবিতে একজন অপরিচিত লোক দাঁড়িয়ে রয়েছে। লোক না বলে বাচ্চা ছেলেও বলা যায়। বয়েস হবে কুড়ির কোঠায়, ভাল করে গোঁফ দাড়ি গজায়নি, একটা নোংরা টি শার্ট আর ততোধিক নোংরা জিনসের প্যান্ট পরা।আমাকে বলল, "এ রকম খোলামেলা জায়গায় আলোচনা না করে, আপনার ঘরে গিয়ে বসতে পারলে ভাল হত।"
আমার খটকা লাগল। লোকটা ডাকাত বা গুণ্ডা নয়ত? বললাম, "আমার ঘর এখন অগোছাল, সেখানে বসে কিছু আলোচনা করার উপায় নেই, কিন্তু আপনি কে?"
লোকটা এবার যেমনভাবে এদিকওদিক দেখতে থাকল, আমার মনে হল বোধহয় পাগল। শেষে বলল, "কফি শপে চলুন।"গেলাম। ওখানে গিয়ে কফি অর্ডার দিয়ে বলল, "আমি রিসেপশনে ভুল নাম বলেছি। মিথ্যে। আমার নাম আসলে আইগর। আইগর অ্যালেক্সান্ড্রেস্কু।"
আমার মনে হল, ভাগ্যিস ওকে ঘরে নিয়ে যাইনি...
কিন্তু এর পরে লোকটা বলতে শুরু করল, আবার সেই এক কথা। ওর বক্তব্য, ওই সেই অ্যাগনেসই বুড়োকে মেরেছে। এবারে আমি শুরুতেই ওকে থামিয়ে বললাম, "দেখুন, আপনি অ্যাগনেস সম্বন্ধে এর আগেও আমাদের অনেক কিছু বলেছেন। আই অ্যাম সরি, কিন্তু এই মুহূর্তে আপনার সঙ্গে সেই অতীত নিয়ে একই চর্বিত-চর্বণ করার কোনও ইচ্ছাই আমার নেই। সুদেশ আর নেই, ওর সঙ্গে অ্যাগনেসের কী সম্পর্ক ছিল, সে নিয়েও আমার আর কোনও ইন্টারেস্ট নেই, সব চুকেবুকে গেছে।"
লোকটা খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, "আপনি যদি মনে করে থাকেন অ্যাগনেসের সঙ্গে আপনার যোগাযোগ শেষ হয়ে গেছে — আপনি ভুল করছেন। অ্যাগনেসের যে ইন্টারেস্ট সুদেশের ব্যাপারে ছিল, সেটা সুদেশের মৃত্যুর সঙ্গে শেষ হয় না।"
আমি লোকটাকে কথা বলতে না দিয়ে ওর কথা কেটেই বলে চললাম, "আপনি বলছেন অ্যাগনেস সুদেশের মৃত্যুর জন্য দায়ী, কিন্তু সেদিন রাতে কিন্তু অ্যাগনেস ছিল না। আপনাদের — মানে সুদেশের অফিসের ছেলেটির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে — ও একাই ছিল।"
মাথা নেড়ে আইগর বলল, "তাই কি? আপনি কি জানেন না, যে পেটার গার্টনার রাতে সিগারেট খেতে গিয়েছিল, ফিরে আর ঘরে ঢুকতে পারেনি? ও ভেবেছে নার্স বাইরে থেকে চাবি লাগিয়েছে, তারপরে ওয়েটিং রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে? আর এদিকে নার্স যখন সকালে এসে সুদেশকে মৃতাবস্থায় দেখেছে তখন দরজায় তালা ছিল না, এবং নার্স পরে বলেওছিল যে দরজায় চাবি সে লাগায়নি, আপনি শোনেননি সে কথা? সবাই ধরে নিয়েছে পেটার ভুল করেছে, তখন কোনও কারণে দরজা চেপে গিয়েছিল, ও আর বেশি রাতে দরজা ঠেলাঠেলি করেনি।"
মানতে হল, সবই শুনেছি বটে। কিন্তু তার সঙ্গে অ্যাগনেসের কী সম্পর্ক?
আইগর বলে চলল, "এবারে এইগুলো দেখুন।" বলে আমাকে একটা ছোটো ডিজিট্যাল ক্যামেরা দিল। তাতে ছবি। সে ছবি দেখে আমি বিশেষ কিছু বুঝতে পারলাম না। কিন্তু আইগর বুঝিয়ে দিল। ছবিটা রিগসহস্পিটালেটের সামনের ব্লাইডাম্‌স্‌ভায়ে রাস্তার ওপারের একটা জামার দোকানের ভেতর থেকে তোলা। ওখানে ওরা তিন বন্ধু নাকি রোজ রাতে পাহারা দিত। কখন অ্যাগনেস আসে যায়, দেখতে। এর পরে দেখাল, কেমন সেদিন রাত তিনটের সময়ে অ্যাগনেস নাকি হাসপাতালে এসেছিল। ছবি রাত তিনটের সময়ে তোলা হয়েছিল, সন্দেহ নেই, সে দিনই, অর্থাৎ বুড়োকে নার্স মৃতপ্রায় অবস্থায় পাবার ঘণ্টা তিনেক আগে। একটা মেয়ে হেঁটে রিগসহস্পিট্যালেট ঢুকেছে তাতেও সন্দেহ নেই। কিন্তু সে মেয়েটা অ্যাগনেস কি না, তা তো আমার বোঝার ক্ষমতা নেই। বললাম, "আগের ছবিটায় কুয়াশা নেই, পরের ছবিটায় কুয়াশা নেই, এই যখন অ্যাগনেস ঢুকছে, তখনই কুয়াশা এল?" বলেছিলাম ইয়ার্কির ছলেই, কিন্তু আইগর খুব গম্ভীর হয়ে গেল। বলল, "আপনি ঠিক ধরেছেন। অ্যাগনেসদের মত বিষাক্ত লোকেরা যখন তাদের উদ্দেশ্য সাধন করতে বেরোয়, তখন এমনই কুয়াশা হয়।"এরপরে আইগর যা বলল, তাতে আমার মনে হল ওকে বুড়ো পাগল বলেছিল, কথাটা একেবারে ঠিক। আইগর বলল, অ্যাগনেস মানুষ না। ও মৃত্যুহীন ভ্যাম্পায়ার। সে এক হাস্যকর কাহিনী। কয়েকশো বছর পরে পরে ড্রাকুলার আবির্ভাব হয়। ভ্লাদ ড্রাকুলের মৃত্যুর আগে এমন ছিল যে ড্রাকুল প্রাণ নিয়ে ফিরলে আসেপাশের গ্রামে শহরে — কখনও সাগরপারে বিদেশেও মৃত্যুর বন্যা বয়ে যেত। ড্রাকুলা যাদের রক্ত শুষে মেরে ফেলত, তারাও সত্যি মরত না। কবর দিলে আবার উঠে আসত। যতবার ড্রাকুলা এসেছে, সে ডাক পাঠানো মাত্র সারা পৃথিবীতে যেখানে ওর যত চ্যালা আছে, সবাই জেগে উঠত। তারা সবাই নতুন মানুষ মারত, যাতে তারাও না মরে ভ্যাম্পায়ার হয়ে যেতে পারে।কিন্তু সে ড্রাকুলা আর নেই। তার বুকে কাঠের গজাল ঢুকিয়ে মেরে ফেলেছে ইংরেজরা। প্রায় তিনশো বছর আগে। একই সঙ্গে ওর বহু সঙ্গীও শেষ হয়েছে। তারপর থেকে যদিও আর ড্রাকুলের ডাকে একসঙ্গে সব ভ্যাম্পায়ার জেগে ওঠে না, তবে ড্রাকুলার চ্যালাচামুণ্ডারা মাঝে মাঝেই বেরিয়ে এসে মানুষ মারে, তারাও আবার ভ্যাম্পায়ার হয়ে যায়।
আমি কী বলব ভেবে পাচ্ছি না। কী করে পাগলের হাত থেকে রক্ষা পাই?আইগর বলল, এর পরে অ্যাগনেস চেষ্টা করবে সুদেশের মৃতদেহ হাতানোর। তাই এই মুহূর্তে আইগরের বন্ধুরা আন্ডারটেকারের ফিউনেরাল পার্লার পাহারা দিচ্ছে। চারিদিকে ক্রুশ আর রসুনের মালা দিয়ে তারা ফিউনেরাল পার্লার নিশ্ছিদ্র করে রেখেছে। কিন্তু এর পরে আমার পালা। আমার হাতে যখন বুড়োর মৃতদেহ এসে পৌঁছবে, আমি যখন ওকে নিয়ে দেশে ফিরে যাব, তখন আইগর বা ওর বন্ধুরা তো আর থাকবে না। সুতরাং আমি যেন শিখে নিই কী ভাবে বুড়োর মৃতদেহ সাবধানে রাখব, কী ভাবে ওকে কবর দেব...
এইখানে আমি আর থাকতে পারলাম না। বললাম, "আরে বুড়োকে তো আর কবর দেওয়া হবে না, ওকে আমরা দাহ করব... হি উইল বি ক্রিমেটেড!"
তুমি বিশ্বাস করবে না, আইগর এক মুহূর্তের জন্য কেমন ভ্যাবলা মত হয়ে গেল, যেন এরপর কী বলবে আর ভেবে পাচ্ছে না। তার পরে এক অনির্বচনীয় আনন্দের অভিব্যক্তিতে মুখটা উদ্ভাসিত হয়ে গেল। লাফিয়ে উঠে আমার ডান হাত ধরে হ্যান্ডশেক করতে থাকল অনেকক্ষণ ধরে। তারপরে হাত নেড়ে কাউকে ডাকল। দেখি দূরের একটা টেবিলে আর একজন বসে ছিল। সেও উঠে এল। বলল, তার নাম বার্নহারড জেস্পারসেন। সেও একই দলের লোক। ওকে আইগর ড্যানিশ বা জার্মান ভাষায় কী সব বোঝাল, তার পরে দুজনে মিলে আমার সঙ্গে অনেক করমর্দন করল, বলল, আমি ওদের নাকি নানা দুর্ভাবনার অন্ত। কিন্তু দেশে ফিরে বুড়োকে দাহ করলেও নাকি অ্যাগনেস এখানে থাকতেই যথাসাধ্য চেষ্টা করবে বুড়োর মৃতদেহ হাতাবার। আমি যেন খুব সাবধানে থাকি। আমাকে দুজনেই ওদের দলের সকলের সেলফোন নং দিয়ে গেছে। কোনও সমস্যা হলেই যেন ওদের ফোন করি।দুই পাগলকে বিদায় করে ঘরে ফিরে তোমাকে লিখলাম। এখন ঘুমোবার জোগাড় করি। কী আশ্চর্য দেশ! এই রকম কুসংস্কার আমাদের দেশে দেখলে আমরা অবাক হই না। কিন্তু এখানে!এতক্ষণ ধরে চিঠি লিখে এখন মনে হচ্ছে লোকদুটোর হাবভাব কিন্তু পাগলাটে ছিল না।
ইতি,
বিদেশ।
Sent from Android phone

Re: Something strange
16 March, 7.18 am (IST)
Arpita
To: Bidesh
শোনো,
আমি ভীষণ অস্বস্তিতে আছি। আমার মজ্জায় মজ্জায় মনে হচ্ছে বুড়োর মৃত্যুর জন্য ওই মেয়েটাই দায়ী। ওই আইগর পাগল হোক কি না হোক, ওদের ফোন নম্বরগুলো আপাতত তোমার ফোনে স্পীড ডায়ালে দিয়ে রাখ — কোনও চান্স নিও না। ভালোয় ভালোয় বুড়োর দেহ নিয়ে ফিরলে বাঁচি।আমার এক স্যার আছেন, উনি এ সব বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করতে হবে।সাবধানে এসো, ভালোয় ভালোয় মিটলে বাঁচি।
অর্পিতা

What an experience
16 March 2.02 pm (CET)
Bidesh
To: Arpita
আজকের মত অভিজ্ঞতা আমার আর কখনও হয়েছে বলে মনে হয় না। ভারতীয় দূতাবাসের কল্যাণে আমার ফেরার টিকিট এখান থেকে এয়ার ফ্রান্স-এ প্যারিস অবধি, সেখান থেকে এয়ার ইন্ডিয়ায় প্রথমে দিল্লী, তার পরে আবার প্লেন বদলে কলকাতা।
আমাকে আইগরের এক বন্ধু সকালে ফোন করে বলেছিল যে বুড়োর দেহ প্রথমে ভারতীয় দূতাবাসে যাবে, কারণ এখানকার রাষ্ট্রদূত নাকি স্বয়ং মাল্যদান করবেন। ফলে আমাকে হয়ত ওখানেই যেতে হবে। আমাদের দেশের এই লোক দেখানো আদেখলেপনাগুলোর মানে বুঝি না, কিন্তু এখন তো ওদের হাতেই আমার যাওয়া আসা, অগত্যা... আইগরের বন্ধু বলেছিল, ওরা বুড়োর দেহ নিয়ে আসবে দূতাবাস অবধি। আমি যেন চিন্তা না করি। দূতাবাসের বাইরে দেখলাম সত্যিই বার্নার্ড জেস্পারসন এসে দাঁড়াল। সব মিলিয়ে ওরা তিন জন। বলল ওরা সকলেই কোনও না কোনওরকম ভাবে ভ্যাম্পায়ারদের সঙ্গে লড়াই করার একটা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। আমি অবাক। আইগর নেই। ওর বিরুদ্ধে পুলিশের হুলিয়া এখনও বহাল, তাই একটা দূতাবাসের সামনে বা এয়ারপোর্টে ওর আসার উপায় নেই। আমাকে জেস্পারসন বলে দিল যে ওরা নাকি বুড়োর কফিনে রসুন ভরে দিয়েছে, যাতে ভ্যাম্পায়াররা সেটা খুলতে না পারে। বলল, ওরা ফিউনেরাল হোমের কর্মী সেজে কফিন নিয়ে ভেতরে গিয়ে সেই রসুন সরিয়ে ফেলবে, যাতে রাষ্ট্রদূত রসুনের গন্ধ না পান। কিন্তু যতক্ষণ ওখানে দেহ থাকবে, ততক্ষণ আমাকে চোখ খোলা রাখতে হবে — যেন কেউ বুড়োর শরীরের সামনে বেশিক্ষণ থাকতে না পারে। অ্যাগনেসের এখানে আসার উপায় নেই, কিন্তু কে জানে, অন্য কোনও ভ্যাম্পায়ার তো এসে হাজির হতেই পারে!
আমি আমার ভাইয়ের জন্য দুঃখ করব, না এই সব আধিভৌতিক গপ্পো শুনব বুঝতেই পারছিলাম না।যাই হোক, দূতাবাস পর্ব ভালয় ভালয় কাটল। আমাকে বুড়োর বস তো গাড়ি দিয়েই রেখেছিল, সেই গাড়িতেই আমি এয়ারপোর্ট এলাম — বুড়োর hearse এল পেছন পেছন।
এয়ারপোর্ট এসেই হাঙ্গামা শুরু। যেই না গাড়ি থেকে নেমেছি, ওমনি একটা মেয়ে এসে আমার রাস্তা জুড়ে দাঁড়িয়ে বলল, "আমি অ্যাগনেস। সুদেশ আমার স্বামী, আমি ওকে নিয়ে যেতে দেব না। ও আমাকে বিয়ে করেছিল, আমি ওর বিবাহিত স্ত্রী, ওই বডি আমার!"
আমি কী বলব বুঝতে পারছি না, ক্রিস্টেন গাড়ি থেকে নেমে এগিয়ে এল, ও ড্যানিশ ভাষায় কী বলল জানি না, কিন্তু তাতে মেয়েটা কী রকম যেন ক্ষেপে উঠল। চিলের মত চিৎকার করতে শুরু করল, একবার জার্মান না ড্যানিশে কী বলে, পরমুহূর্তে আমাকে ইংরিজিতে শাসায়। আমি কি বলি বুঝছি না, ক্রিস্টেন আমার পাশে এসে বলল, "তুমি তো সুদেশের সব কাগজপত্র দেখেছ। বিয়ের সার্টিফিকেট ছিল?" আমার খেয়াল হল, আমি অ্যাগনেসকে বললাম, "বিয়ের সার্টিফিকেট কোথায়?" মেয়েটা এমন দাঁত খিঁচিয়ে উঠল যেন বেড়াল বা বাঘ! হঠাৎ মনে হল, ওর সামনের দাঁতের দু'দিকের দুটো দাঁত যেন সরু ছুঁচলো! অনেকটা আমাদের সেই ছোটবেলার ডাক্তারবাবুর মত! ডাক্তারকাকু আমাদের বলতেন, "দেখেছিস, শ্বদন্ত! রাক্ষস কিন্তু আমি!" শুনে আমরা হাসতাম। কিন্তু কাল কেমন বুকটা ধুকপুক করে উঠল।
যাই হোক, মহিলা এমনই চেঁচামেচি করছেন, যে ওদিক থেকে একটা পুলিশ রাস্তা পেরিয়ে রওয়ানা দিয়েছে সবে, আর তখনই এসে গেল জেস্পারসন। বুড়োর দেহ নিয়ে যে গেট দিয়ে hearse ঢুকেছে, সেই গেটে ওদের প্রবেশাধিকার নেই। ওরা তিন জন আমাকে ঘিরে দাঁড়াল। ওদের হাতে গোড়ের মালার মত রসুনের মালা, ওদের কোটের ভেতর থেকে উঁকি দিচ্ছে মোটা রসুনের মালা, পকেট থেকে তিনজনে তিনটে ক্রুশ বের করে দাঁড়ান মাত্র মেয়েটা একটা আর্ত চিৎকার করে ছুটে চলে গেল। পুলিশটা আসছিল, ওর পাশ দিয়েই। পুলিশটা ঘুরে কী একটা জিজ্ঞেস করছিল, কিন্তু অ্যাগনেস আর দাঁড়াল না। ওরা তিনজন আমাকে প্রায় পাঁজাকোলা করে এয়ারপোর্টে ঢুকিয়ে দিল। একজন আমার হাতে একটা ক্রুশ দিয়ে বলল, "রেখে দাও। আমি জানি তুমি ক্রিশ্চান না, কিন্তু এ ছাড়া তোমার আর কোনও অস্ত্র নেই। রসুন নিয়ে তোমাকে সিকিউরিটি পার করতে নাও দিতে পারে। কিন্তু এটা হাতছাড়া করবে না।"
এখন বোকার মত পকেটে ক্রুশ নিয়ে অপেক্ষা করছি কখন ফ্লাইটের ডাক পড়ে। কী যে হল, কিছুই বুঝছি না।
বিদেশ
Sent from Android phone


তৃতীয় খণ্ড

২৯শে মার্চ
প্রোঃ দূর্বাদল ভট্টাচার্য
২২/২ মোহনবাগান লেন
কলকাতা
স্যর,
প্রণাম নেবেন। আশাকরি ভাল আছেন। পয়লা জানুয়ারি আপনার শরীরটা খারাপ দেখেছিলাম। ঠাণ্ডা কমে গেছে, আশাকরি এখন কাশিও কমেছে।
আপনাকে ফোন না করে চিঠি লিখছি, কারণ এত কথা ফোনে বলা যাবে না। সেদিন আপনাকে আমার দেওরের খবর দিয়েছিলাম, যে রুমানিয়াতে ভ্লাদ ড্রাকুলের একটা দুর্গ সংরক্ষণের কাজ পেয়েছিল — স্যর, আমাদের পরিবারে একটা ঝড় নেমে এসেছে — আমার সেই দেওর গত ১৩ই মার্চ ভোর রাতে কোপেনহ্যাগেনে মারা গিয়েছে। মৃত্যুর কারণ অদ্ভুত। অজ্ঞাত কারণে বার বার অ্যানিমিয়া হতে হতে হার্ট ফেল। এবং সে নিয়ে অনেক জলঘোলা হয়েছে। আমার স্বামী – বিদেশ, ভাইয়ের মরদেহ আনতে গিয়ে বেশ বিপদের মুখেই পড়েছিল বলে মনে হয়।
আপনাকে সবটাই লিখছি। আলাদা কাগজে লিখেছি। কিন্তু সেই সঙ্গে আর একটা জিনিস পাঠাচ্ছি। কোপেনহ্যাগেন থেকে আমার দেওরের সব কিছুই আমাদের কাছে এসেছে। সে দিন সুদেশের কম্পিউটার খুলে আবিষ্কার করলাম একটা ইমেইল — আমাকে লেখা। সেই ইমেইলটারও একটা প্রিন্ট এই চিঠির সঙ্গে দিলাম। অসম্পূর্ণ মেইল, কবে লেখা বোঝা যাচ্ছে না, মনে হয় বেশ কিছুদিন ধরে লেখা, শেষ লেখা ও শেষ হাসপাতাল যাবার দিন, হাসপাতালেই বোধহয় লেখা। কেন আগে সেটা আমাকে পাঠায়নি জানি না, অসম্পূর্ণ বলেই হয়ত, কিন্তু সে কথাটাও লেখা নেই। আপনার মতামতের জন্য পাঠাচ্ছি। এ কথা আর কাকে বলব, কে বিশ্বাস করবে — জানি না।
ইতি,
স্নেহধন্যা,
অর্পিতা
------------
সুদেশের চিঠিঃ
বৌদি,
এই মেইলটা তোমাকে লিখতে বসেছি অন্তত বার পাঁচেক, কিন্তু কী লিখব ভেবে না পেয়ে বার বার সব ডিলিট করে দিয়েছি। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে আর দেরী না করে লিখে ফেলা উচিত।
বৌদি, আমাকে বাঁচাও, আমার মনে হচ্ছে অ্যাগনেস সম্বন্ধে আইগর যা বলেছিল, সেটা ঠিক ছিল। আমার লেখা পড়ে তোমার মনে হতে পারে আমি পাগল হয়ে গেছি, কিন্তু বিশ্বাস করো, আমি পাগল হইনি। অনেক ভেবে, ঠাণ্ডা মাথায় কথাগুলো লিখতে বসেছি।
তোমাকে আগে জানান' দরকার আইগর অ্যাগনেস সম্বন্ধে কী বলেছিল যার কারণে আমার ধারণা হয়েছিল আইগর পুরো পাগল। আইগরের বক্তব্য ছিল অ্যাগনেস নাকি রক্তচোষা ড্রাকুলা! অ্যাগনেস নাকি প্রথম রাত্তিরে ওকে হিপনোটাইজ করে ওর রক্ত চোষার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ও নাকি কী সব ভ্যাম্পায়ার বিরোধী গোষ্ঠীর সদস্য, তাই ওকে কিছু করতে পারেনি। আমার সঙ্গে অ্যাগনেসের সম্পর্কের শুরুতেও আমাকে নানা ভাবে — ই-মেইল করে, ফোন করে, মোবাইলে, ফেসবুকে মেসেজ করে জানান'র চেষ্টা করেছিল, অ্যাগনেস আসলে আমার রক্ত চোষার ধান্দা করছে, আমার সঙ্গে কোনও রকম পার্মানেন্ট সম্পর্কের উদ্দেশ্য তার নেই।
বলা বাহুল্য, আমি এগুলোর কোনওটাই কোনও পাত্তা দিইনি। এবং অ্যাগনেসের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ক্রমে আরও গড়ে উঠেছে।
গত ক'দিন ধরে তোমাদের লিখেছি, মাঝে মাঝে আমার শরীর খারাপ লেগেছে, বার বার বিশ্রাম নিতে হয়েছে, এমনকী কখনও ছুটিও চেয়েছি অফিস থেকে। তোমাদের যেটা জানাইনি, সেটা হল অফিসের ডাক্তার পরীক্ষা করে বলেছেন আমার অসম্ভব বেশি রকম রক্তাল্পতা হয়েছে। রক্তাল্পতার কারণ জানার জন্য আমাকে ডাক্তার প্রথমে সাধারণ পরীক্ষা করেন, তার পরে কোথাও কিছু না পেয়ে, এমনকী রক্তাল্পতা বেড়ে যাওয়াতে, এখানকার হাসপাতালে রেফার করেন। হাসপাতালেও ধরা পড়েনি। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর, ডাক্তার বলেন কোনও অসুখের লক্ষণ নেই, রক্তাল্পতার ওষুধ দেন। কিন্তু রক্তাল্পতা বেড়ে যাওয়াতে বাধ্য হয়ে পরে রক্ত দেন।
অ্যাগনেস যখন রুমানিয়া গিয়েছিল, তখন আস্তে আস্তে আমার শরীর ভাল হতে শুরু করে। কিন্তু ফেরার পরে আবার খারাপ হয়। সেবার অ্যাগনেসই আমাকে হাসপাতাল নিয়ে যায়। এবং ডাক্তার যখন বলেন ভর্তি হতে, তখন অ্যাগনেস বারবার বলে, না, তার দরকার নেই, ও আমাকে নিজেই সেবা-শুশ্রূষা করতে পারবে।
তখনই আমার সন্দেহ হয়। খচ্‌ করে মনে পড়ে তার কিছু দিন আগেই আমাদের অফিসের এক কোলিগকে সামান্য পেট-ব্যথার জন্য ও হসপিটাল যেতে বলে, তার বাড়িতে বউ বাচ্চা থাকা সত্ত্বেও — মনে পড়ল তার আগে একদিন কথায় কথায় আমাকে বলেছিল যে ওর ফ্ল্যাটমেটের জ্বর হয়েছিল, ও-ই জোর করে তাকে হসপিটাল নিয়ে গিয়ে ভর্তি করে দেয় — বলেছিল, ও নাকি রোগির সেবা করতে পারে না, ওর বমি আসে, ওর বাবা মায়ের অসুখ হলেও পারবে না, ইত্যাদি। এই সঙ্গে মনে পড়ল গত ক'দিন ধরে গলায় একটা কাটা — দাড়ি কামাতে গিয়ে কেটেছে বলে মনে পড়ে না, কিন্তু দাড়ি কামান'র সময় লক্ষ করেছি...
ডাক্তার আমাকে জোর করেই ভর্তি করেন, বলেন, এমনও হতে পারে যে ইজিপ্ট থেকে আমি কোনও অচেনা অসুখ নিয়ে এসেছি, তাই ট্রপিক্যাল ডিজিজ স্পেশালিস্টেরও মতামত প্রয়োজন। আর তা ছাড়া, রক্ত তো দিতেই হবে।
সে বারেই ফিরে এসে আমি সাবধান হয়ে যাই। পর-পর কয়েক রাত আমি অ্যাগনেসকে আমার সঙ্গে থাকতে দিইনি। কিন্তু গতকাল রাতে আমি সাবধানে সব দরজা বন্ধ করে শোয়া সত্ত্বেও আজ সকালে উঠে দেখি অ্যাগনেস বাড়িতে। আমাকে অবাক হতে দেখে বলল, "কেন, তুমি তো আমাকে চাবি দিয়েছ, সেই চাবি দিয়ে দরজা খুলেছি।" অথচ আমি রাতে দরজায় ভেতর থেকে তালা শুধু নয়, তিনটে ছিটকিনি লাগিয়ে শুয়েছিলাম।
সে দিনই তোমাকে লিখতে বসেছিলাম, কিন্তু কী-লিখি কী-লিখি করে সময় চলে গেল।
যাই হোক, আমি এখনও বুঝছি না কী লিখব। সে দিনও আমি ভেবেছিলাম আমি কি পাগল হয়ে যাচ্ছি? আজকের যুগে, মডার্ন এডুকেশনপ্রাপ্ত একজন মানুষ, যে কোনও দিন কোনও বুজরুকিতে বিশ্বাস করেনি, সে কি এখন ড্রাকুলায় বিশ্বাস করবে?
কাল রাত্তিরে জেগে বসে রইলাম। সব দরজা জানলা ভেতর থেকে বন্ধ করে। মনে পড়ল আইগর বলেছিল রাতে অ্যাগনেস যখন চলাফেরা করে, তখন ওর চার পাশে নাকি ও ইচ্ছে মত কুয়াশা সৃষ্টি করতে পারে। ভাবছিলাম, ড্রাকুলার বইতে পড়েছি, ড্রাকুলা দিনের বেলা কফিনে শুয়ে থাকে, চলাফেরা করে না। ভাবছিলাম, আমি কী বোকার মত চিন্তা করছি। বসার ঘরের জানলা আমার বাইরের রাস্তার ওপরে। রাত তখন বারোটা বেজে গিয়েছে। দেখতে দেখতে, আমার চোখের সামনে বাড়ির বাইরের রাস্তাটা পুরো কুয়াশায় ঢেকে গেল। রাস্তার আলোগুলোও প্রায় নেই, এত ঘন কুয়াশা। আমি চমকে উঠে জানলা খুলে বাইরে তাকালাম, কিন্তু তারপরে এতো ভয় করল, যে জানলা বন্ধ করে দিয়ে কীংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে মিঃ শুলজকে ফোন করলাম। তখন দেখছি আমার বাইরের দরজার নিচের ফাঁক দিয়ে কুয়াশা ঢুকছে, আর আমি কী রকম যেন বিহ্বল হয়ে পড়ছি, যেন আমার জ্ঞান হারিয়ে যাবে।
শুলজ ফোন ধরেছিলেন কি না তাও আমি জানি না। বন্ধ বাইরের দরজাটা ঘরের ভেতরেই কুয়াশায় সম্পূর্ণ ঢেকে গেল, আর তারপরেই দেখলাম অ্যাগনেস দাঁড়িয়ে, বলছে, "এ কী! তুমি ঘুমোওনি?" আর সব কুয়াশাটা মিলিয়ে গেল। আমি কিছু উত্তর দেবার আগেই হয় অজ্ঞান হয়ে গেলাম, নয়তো ঘুমিয়ে পড়লাম, জ্ঞান ফিরল আমি তখন আবার হাসপাতালে, আবার ইন্টেনসিভ কেয়ারে... শুলজ বললেন, আমার বাড়ি এসে দেখেন অ্যাগনেস ওখানেই রয়েছে। ওকে খুব বকাবকি করে আমাকে হাসপাতাল নিয়ে এসেছেন। আমাকে বলেছেন, অ্যাগনেস রিজাইন করার পরে উনি অ্যাগনেসকে আর হুকুম করতে পারেন না, কিন্তু ওকে বলেছেন, ওর রেজিগনেশন অ্যাকসেপ্টেড হয়নি। ও যেন আর এখানে না আসে, শুলজ আর নীলসেনই ঠিক করবেন হাসপাতালে এসে আমাকে দেখাশোনা কে করবে। দাদাকে খবর দিচ্ছেন। আমি একটু নিশ্চিন্ত বোধ করছি।এখানে হাসপাতালের ইন্টেনসিভে রোগিরা মোবাইল রাখতে পারে না, কিন্তু শুলজ আমাকে আমার মোবাইলটা দিয়েছেন তোমাকে এই-মেইলটা শেষ করতে পারি যাতে। কত দিন ধরে লিখছি, আর ডিলিট করছি। দাদা কি আসতে পারবে? বা অন্য কেউ? আমি আর এখানে থাকতে চাই না। আমার ভীষণ
বিঃ দ্রঃ— সুদেশের চিঠি এখানেই শেষ।
ইতি, অর্পিতা।
দূর্বাদল ভট্টাচার্য
২২/২ মোহনবাগান লেন
কলকাতা
১৮ই এপ্রিল
ওঁ
কল্যাণীয়েষু অর্পিতা,
অনেক দিন পরে তোমার চিঠি পেলাম। আগে তুমি বাপের বাড়ি থেকে অনেক চিঠি লিখতে কিন্তু বিয়ে করে কলকাতা আসার পরে আর লেখ না। তবে বছরে দুবার আসো বটে!
আমার শরীর এখন ভালো। কিন্তু আর কত দিন ভালো থাকে কে জানে। সময় তো কম কাটালাম না, তবে এ জীবন নিয়ে আমার দুঃখের কিছু নেই। করুণাময়ের কৃপায় আমি দীর্ঘায়ু পেয়েছি, এবং বেশিরভাগ জীবনই সুস্থ, সবল কাটাতে পেরেছি। এর বেশি আর কিছু চাই না।
তোমার চিঠিগুলো আমি পাঠিয়ে দিয়েছি রিটায়ার্ড প্রোফেসর সাধুচরণ সমাদ্দারের কাছে। সাধুচরণবাবু আমার চেয়েও কিছু সিনিয়র, কল্যানী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলসফিরই অধ্যাপক ছিলেন। আমার যেমন ভারতীয় আধিভৌতিক নিয়ে ইন্টারেস্ট ও গবেষণা ছিল, সাধু ছিলেন পশ্চিমী বিশ্বাস থেকে উৎপন্ন ভয়াবহ সবকিছুতেই সিদ্ধ। ওঁকেও তোমার ঠিকানা দিয়েছি।
আশা করি উনি উত্তর দেবেন, তবে আমি সাজেস্ট করি তুমি নিজেই ওঁকে একটা চিঠি লেখ। ওঁর ঠিকানা, প্রোফেসর সাধুচরণ সমাদ্দার, ব্লক সি, কাঁঠালতলা, (বাঁকা চাঁদের মন্দিরের সন্নিকটে) কল্যানী, পশ্চিমবঙ্গ।
ইতি,
আশীর্বাদক,
তোমার স্যার
প্রোফেসর সাধুচরণ সমাদ্দার,
২৫শে এপ্রিল
ব্লক সি, কাঁঠালতলা, (বাঁকা চাঁদের মন্দিরের কাছে)
কল্যাণী, পশ্চিমবঙ্গ
শ্রদ্ধেয় স্যার,
আমার নাম অর্পিতা। আমি প্রোফেসর দূর্বাদল ভট্টাচার্যর কাছ থেকে আপনার ঠিকানা পেয়ে আপনাকে লিখছি। আমাকে প্রোফেসর (আমার স্যার) বলেছেন আমার একটা চিঠি উনি আপনাকে পাঠিয়েছেন। আমি ওপর-পড়া হয়ে উপযাচকের মত আপনাকে চিঠি লিখছি কারণ আমরা সকলেই ব্যাপারটা নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। আমরা দিনে শান্তি পাচ্ছি না, রাতে আমাদের ঘুম নেই।
আমি স্যারকে যে চিঠিগুলো লিখেছি, সেগুলো, আর সেই সঙ্গে আমার দেওরের অসম্পূর্ণ চিঠিটাও আপনাকে পাঠালাম। আপনার মতামতের জন্য অধীর হয়ে অপেক্ষা করব।
ইতি,
অর্পিতা।
২রা মে
অর্পিতা,
একই দিনে তোমার আর তোমার শিক্ষক দূর্বাদলের চিঠি পেলাম। বেশ ভারি ভারি চিঠি দুটোই। একই কথা লেখা।
উত্তর দেবার আগে কয়েকটা বিষয় একটু পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো।
১। আমি আমার চেয়ে ১০ বছরের বেশি কম বয়সীদের তুমি বলে সম্বোধন করি, অর্থাৎ যাদের আপনি বলা যায়, তেমন কাউকে আমি আর চিনি না।
২। আমি বৃদ্ধ, এবং বার্ধক্যজনিত স্নায়ুশৈথিল্যের কারণে আমি আর লিখতে পারি না। হাত কাঁপে। এই চিঠিটা আমার হয়ে আমার নাতনি কলমিলতা লিখছে। কলমিলতা ওর ভাল নাম নয়, কিন্তু ছোটোবেলা থেকে আমার দেওয়া এই নামটাই ওর পছন্দ। কলমিলতাও তোমার চিঠি পড়েছে, এবং বলি, ও-ও কিন্তু পশ্চিমী-কালচারের ডেভিলরি জাতীয় যাবতীয় অতিপ্রাকৃত বিষয়ে পারদর্শী — এমনকি কিছু কিছু ব্যাপারে আমার চেয়ে বেশি জ্ঞানী। আমি এই চিঠিতে যা লিখছি, সবই ও একমত হয়েছে বলেই লেখা হয়েছে (দাদু অনেক আজেবাজে কথা বলে, সেগুলো বেশি পাত্তা দেবেন না, প্লিজ — কলমিলতা)।
৩। আমি যে দিন থেকে রিটায়ার করেছি, সে দিন থেকে আমি আর প্রোফেসর উপাধি ব্যবহার করি না। সুতরাং তুমিও না করলে বাধিত হব। উপরন্তু, আমাকে স্যার বলে ডাকবে না। বিলাতের রানি আমাকে নাইটহুড দেননি, সুতরাং আমি স্যার নই। আমি স্রেফ সাধুচরণ, সেটা লম্বা বলে লোকে আমাকে সাধু বলে ডাকে। আমিও ডাকি। তুমিও ডাকবে। তোমার বয়স আমার চেয়ে কত কম আমি জানি না, কিন্তু তুমি যেহেতু দূর্বাদলের ছাত্রী, তাহলে তুমি অনেক ছোটো। শুধু সাধু বলতে যদি অসুবিধা হয়, তাহলে সাধুবাবু বলতে পার, তবে সেটাও খুব হাস্যকর হবে।
এবার তোমার প্রশ্নের উত্তর।
তোমার দেওরের শেষকৃত্য সমাধা হয়ে গিয়েছে লিখেছ। তার দেহ কি দাহ হয়েছে? তোমাদের নাম থেকে আন্দাজ করেছি তোমরা হিন্দু — তাহলে দাহ হওয়াই স্বাভাবিক। তবে আর চিন্তা নেই। কিন্তু তোমরা যদি হিন্দু না হও, যদি দেহ কবর দিয়ে থাক, তাহলে যে কোনও প্রকারে দেহ দাহ করার ব্যবস্থা করবে — সত্বর। এ বিষয়ে কোনও রকম গাফিলতি করবে না।
দ্বিতীয় ব্যাপার হল, তোমার দেওর যদি সত্যিই ভ্যাম্পায়ারের হাতে প্রাণ দিয়ে থাকে, তবে ভ্যাম্পায়ার সহজে ছাড়বে না, সে ধাওয়া করবেই। সুতরাং তার মরদেহ দেশে নিয়ে এসে তোমরা তার খপ্পর থেকে বাঁচতে নাও পার। তোমাদের খোঁজ রাখতে হবে অ্যাগনেস এ-দেশে এসেছে কি না। ওই আইগর এবং তার সাঙ্গোপাঙ্গদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে? ভ্যাম্পায়ার শিকারী সংগঠনগুলো খুব তৎপর হয়ে থাকে। একবার একজন ভ্যাম্পায়ারের হদিস পেলে সহজে তার পিছু ছাড়ে না। সুতরাং সম্ভবতঃ ওরা অ্যাগনেসের খোঁজখবর রাখছে। ওদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখো, যাতে অ্যাগনেস যেকোনওভাবে দেশ ছাড়লেই তোমরা খবর পাও।
ভ্যাম্পায়ার হতে গেলে নশ্বর দেহ থাকতে হয়। দেহ পঞ্চভূতে বিলীন হবার আগে ভ্যাম্পায়ারের অভিষেক শেষ করতে হয়। না হলে কবরেও হবু-ভ্যাম্পায়ারের দেহ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আমার মনে হচ্ছে এই অ্যাগনেস মহিলা দাহ করার ব্যাপারটা জানতেন না, বা ভেবেছিলেন যে তার আগেই সুদেশকে ভ্যাম্পায়ার বানিয়ে নিতে পারবেন। তুমি যা লিখেছ, তা সম্ভব হয়নি, কারণ আইগর ও তার বন্ধুরা মর্টিশিয়ানের পার্লারে দিবারাত্রি পাহারায় ছিল।
তুমি আরও দুটি কথা লিখেছ — এক, অ্যাগনেস যদি ভ্যাম্পায়ার হয়, তবে দিনের বেলায় ও কী করে ঘুরে বেড়াচ্ছিল? দিনে তো undead বা অ-মৃতরা তাদের কফিনে শুয়ে থাকে। দিনের আলোয় তারা ধ্বংস হয়। এবং তুমি যতদূর জান, তাদের ছায়া পড়ে না, তাহলে ছবি উঠল কী করে।
এই দুইয়ের উত্তরে জানাই, যে ভ্যাম্পায়ার দিনের আলোয় বেরোতে পারবে না, সে কথা সত্যি নয়। সাধারণতঃ তারা রাতের অন্ধকারে শিকার খোঁজে — সব অতিপ্রাকৃত ঘটনাই রাতে বেশি হয়। ফলে তাদের দিনে বিশ্রাম করতে হয়। তারা অবিশ্বাস্য রকমের শক্তিধর, কিন্তু তারা ক্লান্তও হয়, সম্ভবত সাধারণের চেয়ে বেশিই তাড়াতাড়ি। তারা উড়তে পারে, মসৃন দেওয়াল বেয়ে উঠতে পারে, তারা ইচ্ছে মত কুয়াশা সৃষ্টি করতে পারে এবং বন্ধ দরজা দিয়ে গলে যেতে পারে। সবই যদি সত্যি হয়, এই সব অতিমানবীয় কার্যকলাপে নিশ্চয়ই অনেক শক্তিক্ষয়ও হয় – তাই তারা দিনে বিশ্রাম নেয়। তবে বিশ্রাম যে অন্ধকারে, কফিনের মধ্যে শুয়েই নিতে হবে তার কোনও নিশ্চয়তা কি আছে? বিশেষজ্ঞরা তা মানেন না। ভ্যাম্পায়ার দিনের আলোয় বিনষ্ট হয় এমন যে কাহিনী প্রচলিত আছে, তা প্রাচীন নয়, এবং সম্ভবতঃ হলিউডিও। পুরোনো কোনও একটি ড্রাকুলা সিনেমায় দেখান হয় যে ড্রাকুলাকে যদি কোনও নির্মলহৃদয় মহিলা রাতে নিজের বিছানায় রাখতে পারেন, তাহলে দিবসাগমনে সে মারা যাবে। বড়ো হয়েছ, বুঝতেই পারছ, এই আষাঢ়ে গল্প কেবল হলিউডিও উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য। প্রাচীন বিশ্বাস এই, যে মোরগ (rooster) এর ডাকে ড্রাকুলার মৃত্যু হয়। কিন্তু সেটাও গল্প, কারণ মোরগ কেবল ভোরে ডাকে না, সারা রাতই সময়ে সময়ে ডাকে। আর ড্রাকুলা কি মোরগের ডাক কন্ট্রোল করতে পারে? জানা নেই।
দ্বিতীয়, ড্রাকুলার ছায়া পড়ে না এটা প্রচলিত বিশ্বাস। কিন্তু অন্যান্য ভ্যাম্পায়ার সম্বন্ধে সে কথা খাটে কি না কেউ জানে না। এমনকি ড্রাকুলারও ছায়া পড়ে না, আয়নায় প্রতিবিম্ব দেখা যায় না, ইত্যাদি সব গল্পকথা, ওরফে গুল। 
ছায়া না পড়া, বা প্রতিবিম্ব না দেখা যাওয়ার অর্থ এই, যে তার শরীরের ভিতর দিয়ে আলোকরশ্মী চলে যাচ্ছে। তাহলে তাকে চর্মচক্ষেও দেখা যাবে না, এবং সে নিজেও অন্ধ হবে — কথাটার যুক্তিটা ভেবে দেখো।
আপাতত এই রইল। প্রয়োজনে চিঠি দিও, আশাকরি তোমাদের আর কোনও বিপদ হবে না।
ইতি,
সাধু
পুনশ্চ — আপনার কি ই-মেইল আই-ডি আছে, তাহলে এরপর আমরা ই-মেইলে যোগাযোগ করতে পারি। অনেক সময় বাঁচবে। - কলমিলতা
(আমার ই-মেইল আই-ডি kalmilata@kalmilata.com)
We have contacted Igor
12 May, 11.32 am (IST)
Arpita
To: Kalmilata
ভাই কলমি-লতা,
আপনি email id দিয়ে খুব রক্ষা করেছেন। চিঠির ওপর নির্ভর করতে গেলে তার আসা-যাওয়াতেই অনেক সময় লেগে যায়। এই দেখুন না, আপনার ২রা মে'র চিঠি আমরা পেলাম ১০ই মে। যা হোক, আপনার দাদু সাধুচরণবাবুর নির্দেশ মতো আমরা সেদিনই কোপেনহ্যাগেনে আইগরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। ওরা আজ আমাদের জানিয়েছে যে অ্যাগনেস এখনও ওখানেই। তবে ওদের ধারণা ও ভারতীয় ভিসার জন্য অ্যাপ্লাই করেছে। যে কোনও দিন রওয়ানা হবে। ওরা এ-ও বলেছে, যে অ্যাগনেস ভারতগামী প্লেনের টিকিটেরও দর-দাম দেখছে। যেহেতু এ সবই আজকাল অন-লাইন হয়, আমার আর বিদেশের ধারণা ওরা কোনওভাবে অ্যাগনেসের কম্পিউটার বা ই-মেইল হ্যাক করেছে। ওরা জানিয়েছে যে অ্যাগনেস যদি ইন্ডিয়া আসে, তাহলে ওদের কাউকে এখানে আসতে হবে, কারণ ওরা এখানে কোনও ভ্যাম্পায়ার-হান্টার, বা স্লেয়ার আছে কি না জানে না।
এ সব কথা আমরা কিছুই জানিও না, বুঝিও না – এমতাবস্থায় কী করা উচিত, তা-ও ভেবে থই পাচ্ছি না। আপনার দাদুর নির্দেশের অপেক্ষায় রইলাম।ও, ভালো কথা, আমরা হিন্দু, এবং সুদেশের দেহ দাহ হয়ে গিয়েছে, যে দিন ও এসে পৌঁছেছিল, তার পর দিনই।
ইতি,
অর্পিতা।
Re: We have contacted Igor
12 May 11.45 am (IST)
Kalmilata
To: Arpita
অর্পিতাদি,
আপনার চিঠি পেলাম। দাদু 'সাধুচরণবাবু' দেখে এতই হাসছে যে আর কোনও কথাই বলা যাচ্ছে না। দাদুকে নিয়ে এই এক অসুবিধা। দাদুকে কেউ সিরিয়াসলি নিলে দাদু সারাক্ষণ সেটা নিয়ে এমন তামাশা করতে থাকে, যে কথাই বলা যায়না। এখন সারা বাড়িতে চরণবাবু, চরণবাবু – বলে গান গেয়ে বেড়াচ্ছে। তবে আপনি চিন্তা করবেন না, আমি দাদুর কাছ থেকে ব্যাপারটা জেনে নেব।
ইতি,
কলমিলতা।
Re: Re: We have contacted Igor
12 March 11.46 am (IST)
Arpita
To: Kalmilata
ভাই কলমিলতা,
ব্যাপারটা কি খুবই সিরিয়াস? আমার খুব ভয় করছে। আপনার চিঠিতে মনে হল সাধুচরণবাবু না হলেও আপনি জিনিসটাকে খুব গুরুত্ব দিচ্ছেন। আমাকে খুলে বলবেন, প্লিজ?
ইতি,
অর্পিতা।
About vampires, Dracula, etc.
12 March, 2.18 pm (IST)
Kalmilata
To: Arpita
প্রিয় অর্পিতাদি,
ব্যাপারটা আমি সিরিয়াসলি নিচ্ছি। দাদু আপনাকে বলেছেন আমি পশ্চিমী কালচারের আধিভৌতিক বিশ্বাস, প্রচলিত কাহিনী, ইত্যাদি নিয়ে পড়াশোনা করেছি – দাদুরই inspiration-এ। আমি কিন্তু ড্রাকুলা এবং ওই ধরণের বিষয়ে সম্পূর্ণ বিশ্বাস করি। দাদুও করে, কিন্তু আমার মাঝে-মাঝে মনে হয় দাদু এত ইয়ার্কি মারে, তাহলে বোধহয় বিশ্বাস নেই। কিন্তু পরে আবার ভাবি, না, বেশি ভয় পায় বলেই বোধহয় এত ঠাট্টা তামাশা করে।
যাই হোক, ড্রাকুলা ছিলেন, তাঁর অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা ছিল, এগুলো আমি মানি। মানে উড়ে উড়ে চলে যেতেন সে বলছি না, এমনকি স্টোকারও তাঁর ড্রাকুলা-কাহিনীতে অনেক অবিশ্বাস্য উটকো কথা লেখা সত্ত্বেও ড্রাকুলা এবং তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গোদের উড়িয়ে ট্রানসিলভেনিয়া থেকে ইংল্যান্ড আনেননি। জাহাজেই এনেছিলেন। সে কাহিনীতে এমন লেখা আছে যে ভ্যাম্পায়াররা জোনাকীর মত জ্বলে (নতুন ভ্যাম্পায়ার কাহিনীতে এই তথ্য ফিরে এসেছে – ভ্যাম্পায়াররা সূর্যের আলোতে চকচক করে), লেখা আছে দরজা না থাকলে তারা পাথরের ফাঁক দিয়ে গলে যেতে পারে, ইত্যাদি। সে সব আমি মানি না। কিন্তু ভ্যাম্পায়ার, এবং তাদের মৃত্যু না হবার কথা আমি মানি। আমি মানি যে তাদের রসুন দিয়ে এবং ক্রুশ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা যায়। জানি না, শুধু ক্রুশ দিয়েই ঠেকানো যায় কি না, না কি "ওম" লেখা থাকলেও রক্ষা পাওয়া যায়। আপনার কাছে আমার অনুরোধ, আপনাদের দরজা, এবং ফ্ল্যাটের সব জানলার ওপরে ক্রুশ লাগিয়ে দিন। বাজারে কাঠের ক্রুশ কিনতে পাওয়া যায়, ছোটো ছোটো ক্রুশ দরজা জানলার কাঠের ওপর পেরেক দিয়ে লাগিয়ে দিন। একাধিক লাগালে ক্ষতি নেই। আপনারা হিন্দু বলে যদি ক্রুশ লাগাতে অসুবিধা হয়, তাহলে আমার সাজেশন দরজার রঙের ক্রুশ লাগাবেন, তাহলে সহজে বোঝা যাবে না।আচ্ছা, আমার আর একটা সাজেশন আছে – সেটা হল, এর পরের চিঠিতে সাধুচরণবাবু না লিখে শুধু সাধু লিখবেন। আপনার অস্বস্তি কাটিয়ে ফেলুন, দাদু সেটা সত্যিই পছন্দ করে, এবং দেখবেন এরপরে আর অসুবিধা হবে না।
ইতি,
কলমিলতা।
Re: About vampires, Dracula, etc.
12 March, 7.09 pm (IST)
Arpita
To: Kalmilata
ভাই কলমিলতা,
আপনার চিঠিতে আমার ভয় বেড়ে গেল। দরজা জানালায় ক্রুশ লাগানোটা বড়ো কথা নয়, কিন্তু সমস্যা হল, আমার বাড়িতে জানলা দরজা মিলিয়ে সবশুদ্ধ একুশটা। অর্থাৎ অন্তত একুশটা ক্রুশ লাগবে। এত ক্রুশ পাবো কোথায়? গোয়াতে পাওয়া যায়। কলকাতা শহরে কোথায় ক্রুশ বিক্রি হয় জানিও না। কোনও চার্চের সামনে পাওয়া যাবে কি? কালীঘাটে যেমন মন্দিরের সামনে কালীমায়ের ছবি বিক্রি হয়?তবে অ্যাগনেস কি আসবে এতদূর? বুঝতে তো পারছি না। আমি বুঝতে পারছি আপনার কথামত আমার এগোনো উচিত, কিন্তু কী করবো বুঝছি না।
আচ্ছা, একটা কথা জিজ্ঞেস করি, আপনার দাদু নামের পাশে বাবু দিলে রাগ করেন, তাহলে আমিও যদি ওঁকে দাদু বলি তাহলে উনি কি রাগ করবেন? তাছাড়া আপনি আমাকে দিদি বলবেন না, তাতে আমি খুব অস্বস্তিতে পড়ব।
ইতি,
অর্পিতা।
Re: Re: About vampires, Dracula, etc. 12 March, 2.18 pm (IST)
Kalmilata
To: Arpita
অর্পিতাদি,
আপনি আমার দিদিস্থানীয়া সেটা আমি অঙ্ক এবং লজিক দিয়ে বুঝেছি। দাদু বলেছে, 'দাদু' বললে অবশ্যই (কারেক্ট করতে বলছে, বলছে 'অবশ্যই' বলেনি, 'হরগিজ' বলেছে) আপত্তি আছে, কারণ আপনি নাকি তাহলে 'সাধুবাবুদাদু' বলবেন।
দাদু আরও বলেছে, ক্রুশ কিনতে হবে কেন? দুটো কাঠের টুকরো আড়াআড়ি লাগিয়ে নিলেই তো ক্রুশ হবে।
ইতি,
কলমিলতা
ami didi keno?
12 March, 11.09 pm (IST)
Arpita
To: Kalmilata
কী হিসেবে আমি দিদি, সেটা জানতে পারি?
অর্পিতা।
Re: ami didi keno?
13 March, 11.21 am (IST)
Kalmilata
To: Arpita
সহজ হিসেব। আপনি প্রোফেসর দূর্বাদল ভট্টাচার্যের ছাত্রী। প্রোঃ ভট্টাচার্য যে দিন রিটায়ার করেছেন, তার যদি তিন-বছর আগে অবধি যদি আপনি গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে থাকেন, একমাত্র তাহলেই আপনি আমার চেয়ে ছোটো। রিটায়ারমেন্টের চার বছর আগে শেষ করলে আমার সমবয়সী। আর তার আগে, সে যখনই হোক, আপনি আমার সিনিয়র। প্রোঃ ভট্টাচার্য দীর্ঘ ৩৪-৩৫ বছর পড়িয়েছেন। সুতরাং আপনি আমার চেয়ে বড়ো হবেন, সেটারই সম্ভাবনা বেশি।
কলমিলতা।
ami motei didi noi
13 March, 11.25 am (IST)
Arpita
To: Kalmilata
তাহলে তো ভাই, আমরা সমবয়সী দাঁড়ালাম!
Re: ami motei didi noi
13 March, 11.26 am (IST)
Kalmilata
To: Arpita
সত্যি?
Re: Re: ami motei didi noi
13 March, 11.26 am (IST)
Arpita
To: Kalmilata
সত্যি। স্যারের রিটায়ার্মেন্টের ঠিক চার বছর আগে আমি গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেছি, তার পরে আমার বিয়ে হয়েছে। এখন বাড়ি সামলাই।
আমি কোন কলেজ থেকে পড়েছি, তা তো তুমি বুঝতেই পেরেছ। তুমি কোন কলেজের? এখন তুমি কী করো?
অর্পিতা
Re: Re: Re: ami motei didi noi
13 March, 11.34 am (IST)
Kalmilata
To: Arpita
আমি এখানে পড়িনি। অনেক দিন আগে থেকেই বিদেশী ইউনিভার্সিটির দ্বারস্থ হয়েছিলাম। আমার পড়াশোনা আর রিসার্চ পুরোটাই বিদেশে। এই মুহূর্তে আমি এক বছরের সাবাটিক্যালে আছি। তারপরে দেখি, আমার বিকট সাবজেক্ট নিয়ে কে ফেলোশিপ দেয়। পেট তো চালাতে হবে! রুমানিয়া আর জার্মানির কিছু ভুলে যাওয়া প্রাচীন কবরখানায় কাজ করার ইচ্ছে আছে। সে সব জায়গায় হয়তো এখনও ভ্যাম্পায়ারের মৃতদেহ পাওয়া যাবে।দেখি আমাকে কোন দিকে নিয়ে যায় আমার ভাগ্য।ভাল কথা, অ্যাগনেস, বা আইগরের কোনও খবর পাওয়া গেল?
ইতি,
কলমিলতা।
Re: Re: Re: Re: ami motei didi noi
13 March, 2.03 pm (IST)
Arpita
To: Kalmilata
কলমিলতা,
এখনও কোনও খবর নেই। তোমার চিঠি পেয়ে আমি আরও একটা ই-মেইল করলাম আইগরকে। দেখি কী উত্তর দেয়।
এর মধ্যে আর একটা কাজ হয়েছে – বিদেশ ওর অফিসের একজন কার্পেন্টার ধরে অনেকগুলো করে কাঠের ক্রুশ তৈরি করিয়ে সমস্ত জানলার বাইরের আর ভিতরের দিকে লাগিয়ে দিয়েছে। বিদেশ ভীষণ ভয় পেয়েছে, জানো, ভাইয়ের মৃত্যু আর কোপেনহাগেনের এয়ারপোর্টে অ্যাগনেসের আক্রমনের ফলে ও একেবারে বিধ্বস্ত। রোজ ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমোয়।
ওকে নিয়ে আমি খুব টেনশনে আছি।
ইতি,
অর্পিতা।
Agnes is not coming
3 April, 6.17 am (IST)
Arpita
To: Kalmilata
ভাই,
কাল অনেক রাতে আইগরের মেইল এসেছে। অ্যাগনেস কোপেনহ্যাগেন থেকে রওয়ানা দিয়েছে। জেনে নিশ্চিন্ত হলাম যে ও ইন্ডিয়ার দিকে আসছে না। যাচ্ছে ক্যানাডা। আমি যে কী নিশ্চিন্ত বোধ করছি, তোমাকে কী বলব ভাই। মনে হচ্ছে ও হয়ত আশা ত্যাগ করেছে।
ক'দিন তোমাদের খুব জ্বালিয়েছি। তার জন্য লজ্জাও করছে।
তবে, বন্ধু থেকো কিন্তু।
ইতি,অর্পিতা।
Re: Agnes is not coming
3 April, 10.09 am (IST)
Kalmilata
To: Arpita
দাদুকে বার বার বলছি, আমি ফোনে বলে দিয়েছি সব, কিন্তু আবার আমাকে দিয়ে চিঠি লেখাচ্ছে।
১। ভ্যাম্পায়াররা খুব চালাক হয়, ওরা লোককে ধোঁকা দিতে ওস্তাদ। ও হঠাৎ মনস্থির করে ক্যানাডা যাচ্ছে – এমন হতেই পারে না। ও ক্যানাডার প্লেনে ওঠেইনি। কিংবা ক্যানাডা হয়ে ইন্ডিয়া আসছে।
২। তোমরা নিশ্চিন্ত হয়ে তোমাদের নর্মাল কাজকর্ম করবে, সব প্রিকশান সরিয়ে নেবে, এটাই ওর আশা। তাই, মনে রেখো, দরজা জানলা থেকে ক্রুশগুলো খুলবে না।
৩। আইগরকে বল খোঁজ করে শিওর হতে যে অ্যাগনেস ক্যানাডা গিয়েছে, ক্যানাডাতেই আছে, আর কোথাও যায়নি।
৪। তোমরা সকলে নিজের জামার পকেটে কিংবা ব্যাগে একটা করে ক্রুশ নিয়ে ঘুরবে। ছেলের গলায় চেন দিয়ে ক্রুশ লাগিয়ে দেবে।কলমিলতা
Re: Re: Agnes is coming
4 April, 3.00 pm (IST)
Arpita
To: Kalmilata
আমার আবার ভয় করতে লেগেছে। আইগরকে লিখেছি। আইগর লিখেছে, ওরা শিওর ও ক্যানাডা গেছে। ইন ফ্যাক্ট ওরা ক্যানাডায় সমমনস্ক কোনও একটা সংস্থাকে লিখেছিল, ওরা টরোন্টোতে ওদের লোক দাঁড় করিয়ে রেখেছে। এতোক্ষণে পৌঁছে গেছে ও। খবরও এলো বলে। আমার মনে হয় না, আমাদের আর ক্রুশ ধারণ করতে হবে, তবে বিদেশ আজই দোকানে যাচ্ছে। গলায় পরার ক্রুশ, বা ব্যাগে রাখার ক্রুশ কোথায় পাওয়া যায় ও জেনে নিয়েছে। আমার শাশুড়িকে অবশ্য পরানো যাবে বলে মনে হচ্ছে না।
ইতি,
অর্পিতা।
Sorobonaash
4 April 3.14 pm (IST)
Arpita
To: Kalmilata
সর্বনাশ হয়েছে। তোমাকে লিখতে লিখতেই আইগরের মেইল এসেছে। অ্যাগনেস ক্যানাডা যায়নি। টরোন্টোতে ওদের লোক দাঁড়িয়ে ছিল – অ্যাগনেস প্লেন থেকে নামেনি। ওরা অনেক কষ্টে এয়ারলাইনের অফিস থেকে খোঁজ করে জানতে পেরেছে, অ্যাগনেস প্লেনে চড়ার গেট দিয়ে ঢুকেছে, কিন্তু প্লেনের মধ্যে ওকে পাওয়া যায়নি। ইনফ্যাক্ট, কী ভাবে গেট রিপোর্টের চেয়ে একজন যাত্রী কম থাকা সত্ত্বেও প্লেন দরজা বন্ধ করে উড়ল, সেটা এখন তদন্ত হচ্ছে।
আইগর লিখেছে, এখন ও কোথায় থাকতে পারে, কেউ জানেই না। সুতরাং আমরা যেন খুব সাবধানে থাকি। আমি এখন বেরোচ্ছি, আমার ছেলে ঈশকে স্কুল থেকে আনতে। আজ আর ওকে বাসে আসতে হবে না। বিদেশ জানিয়েছে, ও ওর ক্রিশ্চান বেয়ারাকে বলেছিল, ও চারটে ক্রুশ এনে দিয়েছে। আজই আমরা ক্রুশ হাতে পেয়ে যাব।
আমি পরে তোমার সঙ্গে কথা বলব। এখন বেরোই।
Re: Sorbonaash
4 April, 6.58 pm (IST)
Kalmilata
To: Arpita
বিকেলে দাদুর শরীরটা খারাপ করেছিল, তাই তোমার চিঠি দেখাতে পারিনি। এখন দাদু কী বলেছে লিখছি –
১। অ্যাগনেস কলকাতায় আসছে, এ বিষয়ে সন্দেহ নেই (দাদুর মনে)।
২। অ্যাগনেস কলকাতায় এসে তোমাদেরই কাছে আসবে এমন মনে করার কারণ নেই, কিন্তু প্রস্তুত থাকার কারণ আছে।
৩। তোমার শাশুড়িকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে হোক, ওঁর অজান্তে হোক, ক্রুশের ব্যবস্থা করে রাখা ভালো। হরি ওম, বা অন্য কোনও হিন্দু ঈশ্বরের নাম লিখে রাখলে কী হবে জানা নেই, তাই।
৪। সম্ভবত অ্যাগনেসের প্রথম আগমন হবে রাত্তিরবেলা। কতো রাতে বলা কঠিন। তবে যদি দেখ বাইরে রাস্তায় রাতে কুয়াশা হচ্ছে, বুঝবে ও আসছে। ওটাই ভ্যাম্পায়ারের লক্ষণ। সঙ্গে সঙ্গে দাদু-কে জানাবে। আমার ফোন নম্বর তোমার কাছে আছে। যত রাতই হোক, ফোন করতে দ্বিধা করবে না।
এগুলো সব দাদুর ধারণা। এবার এরপরে আমার ধারণা –
৫। আমার ধারণা ও প্রথমে এসে ঘুরে যাবে, তোমাদের জ্বালাবে না। আগে বোঝার চেষ্টা করবে তোমার দেওরের দেহ কোন কবরখানায় আছে। অবশ্য যদি সে জানে যে সুদেশের দেহ দাহ হয়েছে, তাহলে আগেই অন্য রাস্তা দেখবে।কী হয় জানাবে। দরকার হলে আমি যথাসাধ্য সাহায্য করব।
কলমিলতা।
Re: Re: Sorbonash
4 April, 7.43 pm (IST)
Arpita
To: Kalmilata
তোমার কথা মনে রাখব। আমার ভীষণ ভয় করছে। কী করব, বুঝতে পারছি না।
অর্পিতা
Re: Re: Re: Sorbonash
4 April, 8.00 pm (IST)
Kalmilata
To: Arpita
কিচ্ছু ভেবো না। ভ্যাম্পায়ারকে ঠিক সামলানো যাবে। কোনও ভয় নেই।আমাকে খবর দিয়ে রাখবে, আমি সারাক্ষণ মেইল চেক করছি।
কলমিলতা
Tomra thik achho?
6 April, 9.34 am (IST)
Kalmilata
To: Arpita
কাল আর আজ সকালে তোমার ফোনে যোগাযোগ করতে পারলাম না। তোমার থেকে কোনও খবর নেই। আশাকরি কোনও বিপদ আপদ হয়নি? চিঠি পেয়েই উত্তর দিও।
কলমিলতা
Re: Tomra thik achho?
6 April, 10.20 am (IST)
Arpita
To: Kalmilata
হ্যাঁ, ভাই আমরা ঠিক আছি। এখনও অ্যাগনেস বা আর কারওর কোনও খবর আসেনি। তাই মেইল করিনি। আমার মোবাইলটাও খারাপ হয়েছে, তাই আজ বিদেশ ওটা নিয়ে সার্ভিস সেন্টার গেছে।
অর্পিতা
Re: Re: Tomra thik achho?
6 April, 10.23 am (IST)
Kalmilata
To: Arpita
ঠিক আছে, কিন্তু একটা জিনিস আমরা আজ ঠিক করে রাখি, কিছু ঘটুক, চাই না ঘটুক, তুমি আমাকে দিনের শেষে একটা ই-মেইল করে দিও। নইলে আমি খুব উদ্বিগ্ন থাকব। আমি জানি দাদুও দু'দিন ভাল করে ঘুমোয়নি, আজ আমাকে বলল, কাল ফোনে পাসনি, আজ আর একবার দেখ।
কলমিলতা।
Re: Re: Re: Tomra thik achho?
6 April, 11.41 am (IST)
Arpita 
To: Kalmilata
খুব, খুব, খুব সরি। আমার বোঝা উচিত ছিল। ঠিক, আমি রোজ একটা অন্তত ই-মেইল বা মেসেজ বা ফোন করে খবর দিয়ে রাখব। 
দাদুকে আমার প্রণাম দিও।
অর্পিতা।
dadur uttor
6 April, 11.48 am (IST)
Kalmilata
To: Arpita
দাদু বলেছে, এর পর এরকম হলে খড়মের বাড়ি দেবে।
কলমিলতা।
Re: dadur uttor
6 April, 12.21 pm (IST)
Arpita
To: Kalmilata
দাদুর খড়ম শিরোধার্য। কিন্তু এ ভুল আর হবে না।
অর্পিতা
Re: dadur uttor
13 April, 12.32 pm (IST)
Arpita
To: Kalmilata
কলমিলতা,
কালই রাত্তিরে তোমার সঙ্গে ফোনে কথা হল, মনে হচ্ছিল যেন আমরা এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছি। কিন্তু আজ আর ব্যাপারটা এক রইল না। বিদেশ এখুনি ফোন করেছিল। অ্যাগনেস ওর অফিসে গিয়ে হাজির। নাম করে ওর সঙ্গেই দেখা করতে চেয়েছে। বিদেশের তো হাত পা কাঁপতে লেগেছে। কিন্তু খুব নম্র, পোলাইট ব্যবহার করেছে, বলেছে – কাস্ত্রুপ এয়ারপোর্টে ওর আচরণের জন্য ও খুবই লজ্জিত, সুদেশের মৃত্যুর ফলে ওর মাথা কাজ করছিল না। বার বার ক্ষমা চেয়েছে। দু'চার বার বলেছিল আমাদের বাড়িতে আসবে, সুদেশের পরিবারের সঙ্গে দেখা করবে, বিশেষতঃ সুদেশের মায়ের সঙ্গে ওর দেখা করা খুবই জরুরি, সুদেশ ওকে মায়ের কথা অনেক বলেছে, এই সব। এমন ভাবে বলেছে, যে বিদেশ 'না' বলতে পারেনি। হ্যাঁ-ও বলেনি, কিন্তু ও-ই বলেছে, আজ সন্ধেবেলা আমাদের বাড়িতে আসবে, দেখা করে যাবে। আমার ভাই ভীষণ ভয় করছে। কী করব?
ইতি,
অর্পিতা।
Re: Re: dadur uttor
13 April, 1.12 pm (IST)
Kalmilata
To: Arpita
দাদু আর আমি মিলে এই উত্তর লিখছি।
১। অ্যাগনেস আসবে আমরা জানতাম, সুতরাং ও এসে পড়ার পরে হায়, কী-হল! বলে হাহাকার করলে চলবে না।
২। অ্যাগনেসকে তোমাদের বাড়িতে আসার অনুমতি দেওয়া অ্যাগনেসের কাছে খুব জরুরি, কারণ বিনা আমন্ত্রণে ভ্যাম্পায়ার কারও-র বাড়িতে ঢুকে কোনও ক্ষতি করতে পারে না, ঢুকতেই পারে না, বোধহয়। সুতরাং ওকে বিদেশবাবু আসতে বলেছেন কি না ভাল করে জেনে নাও এক্ষুণি।
৩। নিমন্ত্রণ থাকলে ভ্যাম্পায়ার ক্রুশ এড়িয়ে ঢুকতে পারবে, কিন্তু ক্ষতি করতে পারবে না। কিন্তু তোমাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে চেষ্টা করবে যাতে তোমরা ক্রুশগুলো সরিয়ে দাও। কোনও ভাবেই সে কথায় তোমরা সায় দিলে চলবে না। ক্রুশ সরাবে না।
৪। নিমন্ত্রণ থাকলেও ভ্যাম্পায়ার রসুন সহ্য করতে পারে না। সুতরাং সব খাবারে যেন রসুন থাকে। তা ছাড়া, তোমরা সকলে রসুনের মালা বানিয়ে জামার নিচে গলায় পরে থাকবে। গন্ধ লাগলেও সহ্য করবে।
৫। কোনও ভাবেই রাতে ওকে থাকতে নেমন্তন্ন করবে না।
৬। এক্ষুণি কোপেনহ্যাগেনে ফোন করে আইগর বা কাউকে আসতে বল, কারণ এই লড়াই তোমরা একা লড়তে পারবে না।
ইতি,
কলমিলতা।
Re: Re: Re: dadur uttor
13 April, 1.19 pm (IST)
Arpita 
To: Kalmilata
বিদেশকে ফোন করেছিলাম। বলছে ও বোধহয় অ্যাগনেসকে আসতে বলেছে, ওর মনে পড়ছে না। কী বলি বলো তো, এমন ম্যাদামারা একটা মানুষকে নিয়ে ঘর করতে হয়। এই বিপদের মধ্যে তিনি অ্যাগনেসকে নেমন্তন্ন করে বসে আছেন।
অর্পিতা
পুঃ বিদেশ সঙ্গে সঙ্গে আইগরকে ফোন করেছিল। আইগর তো বিশ্বাসই করতে পারছিল না যে অ্যাগনেস এখানে এসেছে। যাই হোক, বলেছে, ওদের কেউ না কেউ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রওয়ানা হবে। আইগর না, কারণ এর মধ্যে সুদেশের অফিস কম্পিউটার হ্যাক করার কেস-এ আইগরকে পুলিশ অ্যারেস্ট করেছিল। এখন জামিনে ছাড়া পেয়েছে, কিন্তু ওর পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত হয়ে আছে। দেশ ছাড়া ওর পক্ষে সম্ভব না।
Re: Re: Re: Re: dadur uttor
13 April, 1.34 pm (IST)
Kalmilata
To: Arpita
দাদু বলেছে কোনও ভাবেই বিদেশবাবু দায়ী নন। ভ্যাম্পায়ারদের একটা সম্মোহনী শক্তি থাকে। সেই শক্তি প্রয়োগ করলে খুব কম মানুষই নিজেকে রক্ষা করতে পারে। আমি চেয়েছিলাম আজ সন্ধেবেলা তোমাদের বাড়ি যাব, কিন্তু দাদু বারণ করছে। বলছে, ভ্যাম্পায়ারের এখনই জানা উচিত না যে তোমাদের কেউ বাইরে থেকে সাহায্য করছে। আইগরের দলের লোক কেউ আসলে আমরা নিশ্চিন্ত হই, কিন্তু দাদু বলছে, ভ্যাম্পায়ারের সঙ্গে লড়াই করার মতো অভিজ্ঞতা আজকের যুগে কারওরই নেই।
যাই হোক, আজ সন্ধেটা খুব ইম্পর্ট্যান্ট। মনে রেখো। আর অ্যাগনেস যাওয়া মাত্র আমাকে জানিও। যত রাতই হোক। কালকের জন্য অপেক্ষা করবে না।একটা খুব ইম্পর্ট্যান্ট কথা, দাদু এটা আমাকে ১০ বার বলেছে, বলেছে ১০ বার লিখতেও। অ্যাগনেসের মোবাইল ফোন আছে নিশ্চয়ই, সেটার নম্বরটা জোগাড় করে দিতে বলেছে।
কলমিলতা।
Re: Re: Re: Re: Re: dadur uttor
14 April, 00.16 am (IST)
Arpita
To: Kalmilata
নিশ্চিন্ত।
আজকের সন্ধেটা একটা বিভীষিকাময় সময় কাটল ভাই কলমিলতা। আমার তো বিকেল থেকে বুকের মধ্যে হাতুড়ির বাড়ি চলছে। যতো বার দরজার বেল বেজেছে, লাফিয়ে উঠেছি। ঠিক সাতটার সময়ে যখন বেল বাজল, বিদেশ তার ঠিক আগেই অফিস থেকে ফিরেছে, দরজা খুলে দেখি অ্যাগনেস। সত্যি, বিশ্বাস করো, এতো যে রূপসী, সে এমন ভয়ঙ্কর, ভাবাই যায় না। আমার মুখ, গলা শুকিয়ে কাঠ, দরজা খুলে ডাকব, তারও ক্ষমতা নেই। একটু হেসে দরজা থেকে সরে দাঁড়িয়েছি, অ্যাগনেস এক পা বাড়িয়েই থমকে দাঁড়াল। তারপরে ও-ও স্থাণুবৎ, আমিও। খানিকক্ষণ পরে আমি অকোয়ার্ড ব্যাপারটা কাটাবার জন্য বললাম, "প্লিজ কাম ইন..." তাতে যেন ঘোর কাটল, ও চৌকাঠ পেরিয়ে বলল, "থ্যাঙ্ক ইউ," আর আমি হঠাৎ খেয়াল করলাম, যে আসলে ও বার বার আড় চোখে দরজার ওপরের ক্রুশটার দিকে চাইছিল। আমি ডাকা মাত্র ভেতরে আসল। তারপরে, "হাই, আই অ্যাম অ্যাগনেস, ইউ মাস্ট বি সুদেশেস সিস্টার ইন ল'," বলে আমাকে হাগ করতে আসল, এবং তার পরেই পরের বিস্ফোরণ – ছিটকে সরে গেল, আমি বুঝলাম আমার গলার রসুনের মালাই ওকে ধাক্কা দিয়েছে। যাই হোক, খুব স্মার্ট, চট করে সামলে নিল। জানো তো, সব খাবারেই রসুন ছিল, কোনওটাই খেল না। শুধু চা আর বিস্কিট খেল। একবার বলেছিল, "খুব ইচ্ছে ছিল সুদেশের ফ্যামিলির সঙ্গে কয়েকটা দিন কাটাই, কিন্তু..." বিদেশ সঙ্গে সঙ্গে বলতে গিয়েছিল "তাতে কী হয়েছে..." বা সেই জাতীয় কিছু, এই সময়ে বিদেশের মা খুব জোর দিয়ে বললেন, "আমার মনে হয় সেটা ভাল আইডিয়া হবে না। আমরা রক্ষণশীল হিন্দু পরিবার। বিদেশী মেয়ে আমাদের বাড়িতে রাত কাটাবে তা হয় না। তাছাড়া আমাদের কোনও গেস্ট রুম নেই।" তখন দেখলাম চোখে আগুন জ্বলা বলতে কী বলে। কিন্তু খুব সাবধানী। মিষ্টি হেসে বলল, "আমি ভেবেছিলাম, সুদেশের ঘরেই থাকব। সুদেশের একটা বেডরুম আছে এই বাড়িতে, সেটা সুদেশ আমাকে বলেছিল।" আমার শাশুড়ি খুব জোরের সঙ্গে মাথা নেড়ে বললেন, "আমার ছেলের শোবার ঘর আমার জীবদ্দশায় আর কেউ ব্যবহার করবে না।" যাই হোক, আমি ততক্ষণে একটু ধাতস্থ হয়েছি, আমি ওকে চেপে ধরলাম, "আমি শুনেছি সুদেশের শেষ সময়ে তুমি ওর কাছে ছিলে, ওর মৃত্যু সম্বন্ধে আমরা কিছুই প্রায় জানি না, আমাদের একটু বলো।" তখন বেশ ধানাই-পানাই শুরু করল, "না মানে, আমি তো শেষে ছিলাম না। আমাকে শুলজ্‌ দূর করে দিয়েছিল, আমি কত চেয়েছিলাম..." এই সব। এর মধ্যে আবার বিদেশেরও হুঁশ হয়েছে, হঠাৎ বলে বসেছে, "সে দিন রাতে তো তুমি..." কিন্তু আমি চোখ পাকিয়ে তাকানোতে থতমত খেয়ে চুপ করে গেছে। অ্যাগনেস বলল, "সে দিন আমি ঘুমোতে পারিনি সারা রাত। কোপেনহ্যাগেনের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়িয়েছি। বার দু'তিন রিগসহস্পিটালেটের সামনেও গিয়েছিলাম..." তার পরে কাঁদল, তখন মা-ও কেঁদে ফেললেন, আমিও চোখের জল সামলাতে পারলাম না। তার পরে উঠে পড়ল। বিদেশ জিজ্ঞেস করল, "কতদিন থাকবে?" বলল, "আমি চলে যাব। শুধু ভেবেছিলাম সুদেশের দেহাবশেষ যেখানে রয়েছে, সেখানে গিয়ে আমার লাস্ট রেস্পেক্ট জানিয়ে আসব।" আমরা ওকে বললাম, কোন শ্মশানের কোন ইলেকট্রিক চুল্লীতে সুদেশের দাহ হয়েছে। এবং সেখানে গেলে সুদেশের কিছুই পাওয়া যাবে না। তখন ও খুব আশ্চর্য হয়ে জিগেস করল, "তোমরা নশ্বর দেহের কোনও স্মৃতি রাখ না?" আমরা বললাম, "না, অস্থি আর ছাই নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।" শুনে খুব অ্যাজিটেটেড হয়ে গেল, বলল, "হিদেন ধর্মে অনেক আন-সিভিলাইজড জিনিস হয়।" শুনে আমরা সবাই খুব রেগে গেলাম, বললাম, আমাদের সিভিলাইজেশন ক্রিশ্চিয়ানিটির চেয়ে অনেক হাজার বছর পুরোনো এবং গোর দেওয়ার চেয়ে দাহ করা অনেক বেশি সাইন্টিফিক এবং হেলথি, ইত্যাদি। তার পরে বিদায় নিল। বলল, আর বোধহয় দেখা হবে না, আমাদের সঙ্গে পরিচয় হয়ে অনেক আনন্দ পেয়েছে, তবে আমরা যদি চাই, ও পার্ক হোটেলে ---- নং ঘরে আছে, যখন খুশি আসতে পারি... ইত্যাদি। কতো আশা! আমরা যাব হোটেলে ওর সঙ্গে দেখা করতে!বাব্বাঃ, ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ল। মাঝরাত্তির পেরিয়ে গেছে। আজ অনেক দিন পরে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারব। তুমিও ঘুমোতে যাও।
ও, হ্যাঁ, অ্যাগনেসের দুটো মোবাইল নম্বর। একটা ওদেশের, একটা ইন্ডিয়াতে এসে নিয়েছে, দুটো নম্বরই তোমার মোবাইলে বিজনেস কার্ড পাঠালাম।
ইতি,
অর্পিতা।
sabdhan
14 April, 3.09 am (IST)
Kalmilata
To: Arpita
অর্পিতা,
একটা কথা বলবার জন্য জেগে বসে আছি। কাল সকালেও লেখা যেত, কিন্তু তর সইছে না। কিন্তু তোমার আজ রাতের ঘুম অন্তত নষ্ট করব না বলে আরও খানিকক্ষণ জেগে থেকে লিখলাম –
ভাই, অত সহজে ভ্যাম্পায়ারের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না। খুব সাবধানে থেকো। ক্রুশ আর রসুনের মালা সর্বদা গলায় রেখো। ঈশকেও স্কুলে পাঠাবে রসুনের মালা পরিয়ে। মনে রেখো। খুব সাবধান। কোনদিক থেকে আক্রমণ আসবে ভাবতেও পারবে না।
কলমিলতা।
Re: sabdhan
14 April, 10.31 am (IST)
Arpita 
To: Kalmilata
কী বলছ ভাই, আমার তো হাত পা কাঁপছে। তবে আমার শাশুড়ি আর বিদেশ দুজনেই তোমার ওয়ার্নিং হেসে উড়িয়ে দিয়েছে। বিদেশ তো আজ রসুনের মালা পরে অফিস যেতেই চায়নি। শাশুড়ি আরও এক কাঠি ওপরে, ক্রুশচিহ্নগুলো খুলে ফেলতে চায়। শেষে আমি মাথার দিব্যি দিয়েছি। ঈশকে নিয়ে সমস্যা। বলছে রসুনের গন্ধ পেয়ে ওদের ম্যা'ম, স্যারেরা বকবে। এ অবশ্য সত্যি হতেই পারে। তাই আমি ঠিক করেছি ওকে সকালে স্কুলে নিয়ে যাব মালা পরিয়ে, ওখানে গিয়ে মালা খুলে বাড়ি আসব, আবার ওকে নিয়ে আসব মালা পরিয়ে। আশাকরি এতে হবে। কত দিন এমন চলবে কে জানে।
অর্পিতা।
Re: Re: sabdhan
14 April, 11.10 am (IST)
Kalmilata
To: Arpita
ঠিক বলেছ। এ এক ঝামেলা। তবে দাদু বলছে – অন্তত অ্যাগনেস দেশ ছেড়ে যাওয়া অবধি তো সাবধান থাকতেই হবে। আর একটা কথা। দাদু বলেছে, অ্যাগনেস এখন তোমাদের সব্বার গতিবিধির ওপর নজর রাখবে। এবং তুমি যে স্কুলে ঢোকাবার আগে ঈশের গলা থেকে রসুনের মালা খুলে দেবে, তা নিশ্চয়ই ও দেখতে পাবে। অর্থাৎ, আক্রমণ আসার সবচেয়ে সম্ভাবনাময় জায়গা হয়ে গেল তোমার ছেলের স্কুল থেকে। দাদু বলেছে, খুব সাবধানে থাকবে।
কলমিলতা।
Re: Re: Re: sabdhan
14 April, 5.27 pm (IST)
Arpita 
To: Kalmilata
ঈশকে নিয়ে স্কুল থেকে ফিরলাম। আচ্ছা ভাই, আমাদের এই দুঃসহ অবস্থার শেষ হবে না?
Re: Re: Re: Re: sabdhan
14 April, 5.39 pm (IST)
Kalmilata
To: Arpita
দাদু বলেছে – হবে। নিশ্চয়ই হবে। ও যদি নিজে থেকে না যায়, ওর যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। সেটা দাদু প্ল্যান করছে অলরেডি – কবে ও যাবে তার জন্য অপেক্ষা করে না থেকে। জানতে চাইলাম, কী প্ল্যান, বলল না। এ ছাড়া বলেছে, তোমাদের চারিপাশে যদি কোনও আনইউজুয়াল কিছু ঘটে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে দাদুকে জানাবে, যা-ই হোক, দেরি করবে না।কলমিলতা
Is this unusual?
28 April, 6.09 pm (IST)
To: Arpita
Kalmilata
ভাই কলমিলতা,
রোজই তো ভালো আছি জানিয়ে ই-মেইল লিখেছি, আজও ভাল আছি, তবে আজ একটা খবর আছে। জানি না এই রকমের খবর তোমার দরকার কি না, কিন্তু যেহেতু দাদু বলেছেন যে আক্রমণ স্কুলের দিক থেকে আসতে পারে, তাই এই খবরটা দিচ্ছি।
ঈশের স্কুলের আর্ট টিচার নাকি গত কয়েকদিন ধরে অসুস্থ, স্কুলে আসছেন না। আজ নাকি ওদের আর এক জন টিচার এসে বলেছেন, স্যারের খুব অসুখ, ওরা যেন গড-এর কাছে খুব করে প্রে করে। তাই জানালাম। এর কি কোনও তাৎপর্য আছে? কে জানে?
অর্পিতা।
Re: Is this unusual?
28 April, 6.20 pm (IST)
To: Arpita
Kalmilata
দাদু বলেছে, তাৎপর্য ভাবতে হবে না, খোঁজ নাও –
১। আর্ট টিচারের কী হয়েছে?
২। ওঁর সঙ্গে গত ক'দিনে কোনও মেমসাহেব বা সাহেবের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে কি না (দাদু বলছে, অ্যাগনেস সম্ভবত একাই এসেছে, তবে অন্য কোনও ভ্যাম্পায়ার ওর সঙ্গে এসেছে কি না জানা নেই এবং যদি অন্য কোনও ভ্যাম্পায়ার হয়ও, সে ভারতীয় না হয়ে সাহেব হবার সম্ভাবনা বেশি)।
৩। আর্ট টিচার কি খ্রীস্টান?
ইতি,
কলমিলতা।
Re: Re: Is this unusual?
28 April, 6.22 pm (IST)
To: Kalmilata
Arpita
তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর এখনই দিতে পারি। ক্রিশ্চান না, ওঁর নাম সৌম্য মুখার্জী।
বাকিটা জেনে বলতে পারব। তবে কালকের আগে তো না।
অর্পিতা।
Na, ekkhuni
28 April, 6.31 pm (IST)
Kalmilata
To: Arpita
দাদু বলেছে, এক্ষুনি। দেরি করা চলবে না। আর দরকার পড়লে ওঁর বাড়ি গিয়ে জেনে আসতে।মুখার্জী হলে ক্রিশ্চান হবে না, এমন আইন নেই।
কলমিলতা
Re: Na, ekkhuni
28 April, 6.56 pm (IST)
Arpita
To: Kalmilata
ভাই কলমিলতা,
তুমি ঠিক বলেছ। আমি ঈশের ক্লাস-টিচারকে ফোন করেছি। উনি অবাক হলেন, কিন্তু বললেন, সৌম্য মুখার্জী ক্রিশ্চান। ওঁর পুরো নাম সৌম্য হার্বার্ট মুখার্জী। উনি নাকি হঠাৎ সাংঘাতিক অ্যানিমিয়ায় ভুগছেন। আমি সঙ্গে সঙ্গে বিদেশকে ফোন করেছি। ও অফিস থেকে বেরিয়ে গেছে, কিন্তু সৌম্য মুখার্জীর বাড়ি হয়ে আসবে।
ফিরলেই আমি জানাব।
অর্পিতা।
Re: Na, ekkhuni
28 April, 9.18 pm (IST)
Arpita
To: Kalmilata
বিদেশ এই মাত্র সৌম্য মুখার্জীর বাড়ি হয়ে ফিরেছে। খবর সাংঘাতিক। সৌম্য মুখার্জীর অ্যানিমিয়া খুবই বেশি। আজ রাতে হাসপাতালে দেওয়া হচ্ছে, কারণ উনি অজ্ঞান হয়ে গেছেন। 
সৌম্য মুখার্জী গত ক'দিন আগে দীঘা গিয়েছিলেন, সেখানে ২ দিন থেকে অসুস্থ হয়ে ফিরেছেন পরশু সকালে। এবং এই ক'দিন নাকি উনি এক নতুন বান্ধবীর সঙ্গে ছিলেন, বান্ধবী মেমসাহেব। সৌম্য মুখার্জীর বাবাকে অ্যাগনেসের ছবি দেখানতে উনি চিনতে পারেন। এক সঙ্গেই দীঘা গিয়েছিল, এবং ফেরার পরেও অসুস্থ সৌম্যকে দেখাশোনা করার জন্য অ্যাগনেস ওদের বাড়িতেই ছিল। সৌম্য অবিবাহিত, বৃদ্ধ বাবা বিপত্নীক, তাই সৌম্যর নতুন গার্লফ্রেন্ডকে দেখে বাবা খুশিই হয়েছিলেন। বিদেশ সৌম্যর বাবাকে এইটুকুই বলেছে, যে অ্যাগনেস এর আগে বিদেশের ভাইয়ের গার্লফ্রেন্ড ছিল কোপেনহ্যাগেনে, এবং তারও মৃত্যু হয়েছে রক্তাল্পতা থেকে। বলেছে, দিনে-রাতে অ্যাগনেস যেন কোনও অবস্থাতেই একা সৌম্যর সঙ্গে না থাকে। এবং সবসময় যেন সৌম্যর গলায় ক্রুশচিহ্নটা থাকে। সৌম্যর দিদি থাকেন কাছেই, তিনি এসে এখন বাবার কাছে রয়েছেন। উনি বলেন যে ওর গলায় একটা সোনার চেনে সোনার একটা ক্রুশ আছে, কিন্তু ওর গলায় একটা র‍্যাশ-মতো হয়েছে, তাই ওটা খুলে রাখা হয়েছে। বিদেশ খুব ইনসিস্ট করে, যে গলায় যাই থাক, ক্রুশ যেন খোলা না হয়। সৌম্য মুখার্জীর বৃদ্ধ বাবা এই ব্যাপারটা বুঝতে পারেননি, কিন্তু দিদি কিছু একটা আঁচ করে বিদেশকে বাইরে নিয়ে এসে কথা বলেছেন। বিদেশ লজ্জায় ভ্যাম্পায়ার-টায়ার কিছু বলেনি, কিন্তু বলেছে, যে এ-বিষয়ে সন্দেহ নেই, যে ক্রুশ থাকলে অ্যাগনেস কাছাকাছি আসে না। আমি বললাম রসুনের কথাটা বলে আসা উচিত ছিল, কিন্তু বিদেশের বক্তব্য, যে তাহলে ওর কোনও কথাই ওরা বিশ্বাস করত না।
এবার কী করব? কাল থেকে ঈশকে স্কুল না পাঠানোরই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
অর্পিতা।
Dadur motamot
29 April 4.24 am (IST)
Kalmilata
To: Arpita
দাদু বলেছে, এর পর আর অপেক্ষা করা যায় না। আমাকে বলেছে আগামি ক' দিন তোমাদের বাড়িতে গিয়ে থাকতে। ভ্যাম্পায়ারকে আটকাতে কিছু বন্ধন দেবার ব্যবস্থা করা যায়, যেগুলো রসুন আর ক্রুশের চেয়ে ভালো কাজ করবে। সেগুলো নিয়ে যাব। সেগুলো দাদু অলরেডি যোগাড় করতে আরম্ভ করেছে, কিন্তু এখনও দিন দুয়েক লাগবে সব পেতে। তুমি তোমার শাশুড়িকে জিজ্ঞেস করো, একজন তোমার বয়সী অবিবাহিতা বাঙালি মেয়ে যদি তোমার দেওরের ঘরে ক'দিন থাকে, ওঁর আপত্তি আছে কি না।
ইতি,
কলমিলতা।
Re: Dadur motamot
29 April 7.15 am (IST)
Arpita
To: Kalmilata
ভাই,
আমি জানতাম থাকবে না, তবু জিজ্ঞেস করেছি। মা বলেছেন, তোমার আসায় কোনও আপত্তিই নেই, ও-সব উনি বিশ্বাস করেন না, সে দিন অ্যাগনেসকে ঠেকাতেই ও সব বলেছেন।ভাই তুমি আসছ, শুনেই আমরা কী পরিমান শান্তি পাচ্ছি সে তোমাকে বলে বোঝানো যাবে না। দাদুও যদি আসতেন আরও ভালো হত, কিন্তু ওঁর বয়স হয়েছে, জানি সম্ভব নয়। আজ থেকে ঈশকে স্কুলে পাঠাচ্ছি না। ফলে সকালেই উত্তর দিতে বসেছি।
অর্পিতা।
Re: Re: Dadur motamot
29 April 7.30 am (IST)
Kalmilata
To: Arpita
অর্পিতা,
দাদুর শরীর অতো খারাপ না, তবে বয়েস হলে মানুষ নিজের জায়গাটুকু ছেড়ে নড়তে চায় না। সেই কমফর্টটা বুড়ো ছাড়তে নারাজ। আমাকে বলছে, "তুই যা, আমি এখান থেকে ম্যানেজ করব।" কী ম্যানেজ করবে জানি না। দু-তিন বার জিজ্ঞেস করে উত্তর পাইনি। তাই আমি চললাম রাগ করে। এখন যাচ্ছি কাঁচড়াপাড়া। ওখানে ক্যাথলিক চার্চ, মেরী ইম্যাক্যুলেট – ওখানকার আগেকার পাদ্রী ফাদার আলফোনসো, এক্সরসিজম জানেন। উনি এখনও আছেন কি না তা-ই জানি না। থাকলেও ভারতে আছেন, না কি দেশে ফিরে গেছেন, কে জানে?আমার মোবাইল সঙ্গে থাকবে। দরকার হলে ফোন কোরো। মেইল দেখতে পারব কি না জানি না।
ইতি,
কলমিলতা
Re: Re: Re: Dadur motamot
29 April 10.26 pm (IST)
Arpita
To: Kalmilata
দিনটা কাটল, কোনও অঘটন ঘটেনি। সৌম্য মুখার্জী এখনও হাসপাতালে। অ্যাগনেস গিয়েছিল। সৌম্য মুখার্জীর দিদি আর জামাইবাবু তাকে ভাগিয়ে দিয়েছে।
অর্পিতা
Fr Alfonso
29 April 10.54 pm (IST)
Kalmilata
To: Arpita
ফাদার আলফোনসোর খোঁজ পেয়েছি। এখন কলকাতায় থাকেন। ফোন নম্বর নিয়ে এসেছি। দাদু কাল ফোনে কথা বলবে। বয়েস বেড়েছে, অশক্ত হয়েছেন, কিন্তু এখনও নাকি অসুস্থ ন'ন। দাদু বললে নিশ্চয়ই তোমাদের বাড়ি আসতে রাজি হবেন। তবে একটা কথা – তোমাদের বাড়ি ক'তলায়, লিফট আছে নিশ্চয়ই?
সৌম্য মুখার্জীর খবর ভালো, কিন্তু সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত হওয়া গেল না। ওই মহিলার অনেক অতিপ্রাকৃত শক্তি আছে, জানো। কী ভাবে আবার ওখানে ঢুকবে তাও বলা যাবে না।
আজ খুব টায়ার্ড। কাল আবার লিখব।
ইতি,
কলমিলতা।
Re: Fr Alfonso
30 April 6.05 pm (IST)
Arpita 
To: Kalmilata
ভাই কলমিলতা,
আমাদের বাড়ি তিনতলায়। লিফট আছে। ফাদার আলফোনসো কী করবেন? তুমি কবে আসবে? আমরা সবাই সাংঘাতিক ভয়ে ভয়ে রয়েছি। আজ ভোরবেলা সৌম্য মুখার্জীর দিদি ফোন করে বিদেশকে জানালেন যে রাতে অবস্থার অবনতি হয়েছে। রক্তশূন্যতা বেড়েছে। সকালে ছেঁড়া সোনার চেন সহ ক্রুশটা ঘরের কোনে মাটিতে পাওয়া গেছে। জানতে চেয়েছিল কী আর করতে পারা যায়, এবার বিদেশ রসুনের কথাটা বলে দিয়েছে। তাতে ভদ্রমহিলা বিদেশকে পাগল না বলে বরং বলেছেন আগে এ কথাটা বলা উচিত ছিল।
যাই হোক, তুমি তাড়াতাড়ি এসো, প্লিজ।
অর্পিতা।
Re: Re: Fr Alfonso
30 April 9.48 am (IST)
Kalmilata
To: Arpita
অর্পিতা,
ফাদার আলফোনসো ঠিক কী করবেন আমি জানি না। ক্যাথলিক বিশ্বাসে এক সময়ে ভ্যাম্পায়ার এক্সোর্সিজম করা হত। সেরকম কিছুই করবেন সম্ভবত।
সৌম্য মুখার্জির খবরটা দাদুকে দিতে দাদু খুব উত্তেজিত হয়ে গেছে। আমাকে বলেছে আজই চলে যেতে। এ দিকে কাল কাঁচড়াপাড়ায় খিদে পেয়েছিল বলে ওখানকার মিষ্টির দোকানে আমি গুছিয়ে বাসি কচুরি খেয়ে পেট খারাপ করেছি। দাদু কিচ্ছু শুনবে না, আমাকে আজই যেতে হবে, এখনই। ওষুধ খেয়েছি। গাড়ি ভাড়া হয়েছে। আমি আসছি। দুপুরের খাবার কোরো না, আমি রাস্তায় খাবার জন্য চিঁড়ে দই নিয়ে নেব।
দেখা হবে শিগগিরি।
ইতি,
কলমিলতা।
Re: Re: Re: Fr Alfonso
30 April, 11.12 am (IST)
Arpita
To: Kalmilata
এসো ভাই, তোমার পথ চেয়ে থাকব। তোমার এই শরীর নিয়েও আমার কাছে আসছ, এতে আমি কী নিশ্চিন্ত হয়েছি, কী বলব! তোমার জন্য লাঞ্চও থাকবে, ডিনারও করছি। ভেবেছিলাম তুমি মালাইকারী পছন্দ কর, তাই দেব, কিন্তু আজ না, কাল বা পরশু খেও।রওয়ানা দেবার সময়ে ফোন করে দিও।
অর্পিতা।
৬ই অক্টোবর
প্রোঃ দূর্বাদল ভট্টাচার্য 
২২/২ মোহনবাগান লেন
কলকাতা
স্যর,
প্রণাম নেবেন। আপনার চিঠি পেয়েছি, খবরের কাগজে সাধুচরণবাবুর সম্বন্ধে এমন সাংঘাতিক কথা আমারই কল্যাণে আপনাকে পড়তে হল, আমি তার জন্য খুবই লজ্জিত। আমারই উচিত ছিল আপনাকে সব কথা আগেই জানানো, কিন্তু এতো কিছু হয়ে গেল, যে কিছুই জানাতে পারিনি। আজ মনে হচ্ছে সব মিটেছে, তাই সব কথা আপনাকে লিখছি।
আপনার নির্দেশে আমি প্রোঃ সাধুচরণ সমাদ্দারকে চিঠি লিখি এপ্রিল মাসে, এবং উনি আমাকে তার পর থেকে সাহায্য করতে শুরু করেন। উনি আর ওঁর নাতনি কলমিলতা – যে নিজেও এই সব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ।
আমার দেওর সুদেশের গার্লফ্রেন্ড অ্যাগনেস কিছু দিনের মধ্যেই এসে হাজির হয়, কিন্তু আমরা সাধুচরণবাবুর পরামর্শে সারা বাড়ি ক্রুশ আর রসুন দিয়ে বেঁধে দিয়েছিলাম বলে কিছু করতে পারেনি। ও তখন আমার ছেলে ঈশের স্কুলের এক টিচারের বাড়িতে হাজির হয়, এবং তারও অবস্থা করে সুদেশের মতই। তবে সেই টিচারের দিদি ব্যাপারটা বিশ্বাস করেন এবং হাসপাতালে তার সারা বিছানায় রসুনের মালা লাগিয়ে দেন লুকিয়ে, যাতে অ্যাগনেস (ভ্যাম্পায়ার) না আসতে পারে।
ইতোমধ্যে, সাধুচরণবাবু এক দিকে ফাদার আলফোনসো বলে এক পাদ্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন আমাদের বাড়িতে আরও বন্ধন লাগাতে, আর সেই সঙ্গে নাতনিকে পাঠান আমাদের পাহারার জন্য। সে দিন, ৩০শে এপ্রিল, খুবই কাহিল শরীর নিয়ে কলমিলতা আমাদের বাড়িতে পৌঁছয়। সাধুচরণবাবু একরকম জোর-জবরদস্তি, অসুস্থ শরীরেই ওকে আসতে বাধ্য করেন আমাদের জন্য। সন্ধেবেলায় কলমিলতা ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল। এমন সময় রাত সাড়ে আটটা নাগাদ ওর মা'র কাছ থেকে ফোন আসে। বিকেলের দিকে নাকি সাধুচরণবাবু ওঁকেও জোর করে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন পাড়ায় কোনও বন্ধুর বাড়ি, এই কথা বলে, যে কোনও বিদেশী আসবেন কিছু বিষয় আলোচনার জন্য। সাধুচরণবাবুর নাকি এমন অভ্যেস ছিল, তাই কলমিলতার মা কিছু না বলেই চলে যান। সাধুচরণবাবু নাকি বলে দেন, যে রাত্তিরের খাবার দেবার আগে যেন উনি না ফেরেন।
সন্ধে সাড়ে ছটা নাগাদ সাধুচরণবাবুর বাড়িতে হঠাৎ আগুন লাগে, দমকল আসার প্রশ্ন ছিল না, ডাকার আগেই একরকম প্রায় গোটা বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সাধুচরণবাবু বাড়িতেই ছিলেন, বেরোতে পারেননি। বিদেশ তখনই কলমিলতাকে নিয়ে গাড়ি করে রওয়ানা দেয় কল্যাণী। আমরা সারা বাড়িতে ক্রুশ আর রসুন নিয়ে প্রায় জেগেই কাটাই সারা রাত। অ্যাগনেসের কী হয়েছে তা আমরা তখনও জানি না।
কাগজে পড়েছেন, সাধুচরণবাবুর মৃতদেহ পাওয়া যায় ওঁর বিছানার ওপরে, সেই সঙ্গে পাওয়া যায় আর একটি মৃতদেহ – দুজনে আলিঙ্গনাবদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। ফরেনসিক এবং পুলিশি তদন্তে জানা যায়, যে এই মহিলাই অ্যাগনেস বাউএয়ার, আমার দেওরের গার্লফ্রেন্ড, সদ্য কোপেনহ্যাগেন থেকে এসেছেন।
মিডিয়া এক অশীতিপর বৃদ্ধের সঙ্গে এই ডাকসাইটে জার্মান সুন্দরীকে একসঙ্গে মরণ আলিঙ্গনে দেখে কী কী নোংরা মন্তব্য করেছে, সে সব আপনি দেখেছেন। প্রমান করার চেষ্টা করেছে, যে ওঁরা আগে থেকেই পরস্পরকে চিনতেন, ইত্যাদি। অবশ্য সেটা যে বাজে কথা, সেও সহজেই বোঝা গেছে। পুলিশও আমাদের নিয়ে অনেক টানাটানি করেছে। একে তো অ্যাগনেস সুদেশের গার্লফ্রেন্ড ছিল, তায় ইন্ডিয়া এসে আমাদের বাড়িতে এসেছিল। যে দিন সে সাধুচরণবাবুর বাড়িতে আগুনে পুড়ে মারা যায়, সে দিনই সাধুচরণের নাতনি সকালে যে আমাদের বাড়ি এসে হাজির হয়, পুলিশের কাছে (এবং মিডিয়ার কাছেও) এটাও খুবই চিত্তচাঞ্চল্যকর তথ্য – তাই তার ঝামেলাও পোয়াতে হয়েছে আমাদের। আমাদের কপাল ভাল, যে মিডিয়া বা পুলিশের মাথায় আমাদের ই-মেইল নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করার কথা আসেনি, তা হলে আর দেখতে হতো না। ওই ভ্যাম্পায়ারের কাহিনী পুলিশ পড়লে নির্ঘাৎ আমাদের কোমরে দড়ি দিয়ে চালান দিত।
গত কিছুদিন হল বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে সুদেশের এক প্রাক্তন ক্লাসমেট পুলিশ অফিসারের সঙ্গে, উনি জানিয়েছেন, পুলিশ আর আমাদের কোনও যোগসাজশের কথা ভাবছে না, সুতরাং আমরা এখন সন্দেহের আওতার বাইরে। পুলিশ অ্যাগনেসের মোবাইল বৃত্তান্ত দেখেছে। তাতে মৃত্যুর দিন কয়েক আগে থেকে সাধুচরণবাবুর সঙ্গে ওর বারবার ফোনে যোগাযোগ হয়েছে বলে মনে করছে অ্যাগনেসের সঙ্গে ওঁর আগে কোনও যোগাযোগ হয়ত সত্যিই ছিল, এবং সেই পরিপ্রেক্ষিতেই এই মৃত্যু। আগুন যে বহু লিটার পেট্রোল থেকে লেগেছিল, এবং সে পেট্রোল যে সাধুচরণবাবুর ঘরেই ছিল, মিডিয়ার কল্যাণে সে কথা তো আমরা সবাই আজ জানি।
তবে আমার স্থির বিশ্বাস, সাধুচরণবাবু নিজেকে বলি দিয়েছেন আমাদের মুক্তির জন্য। ওঁদের ভয়ানক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে – বাড়ি তো ইনশিওর করা ছিল না, ভস্মীভূত বাড়ি আবার নতুন করে তৈরি করা এক সাংঘাতিক খরচার কাজ – সেটাও এখন কলমিলতাকেই করতে হবে।
কলমিলতা কাল স্পেন চলে গেল। ওখানকার ইউনিভার্সিটি অব এক্সট্রেমাদুরা-র ফ্যাকালটি অব ফিলসফি অ্যান্ড লেটারস-এ একটা চেয়ার সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে ওর রিসার্চ শুরু হবে। 
আপাতত ওর মা আমাদের কাছেই থাকছেন। বিদেশ চেষ্টা করছে ওর ব্যাঙ্ক থেকে বাড়িটা আবার বানানোর জন্য একটা লোনের ব্যবস্থা করতে।
অ্যাগনেসের শেষ কামড়ও ব্যর্থ হয়নি – ঈশের স্কুল-টিচারও অ্যাগনেস মারা যাবার তিন দিন পরে দেহ রেখেছেন, অ্যাগনেস মারা গেলেও ওর দিদি চান্স নেননি, দেহ দাহ করা হয়েছে।আপাতত এইটুকুই, পরে আরও কিছু জানা গেলে আপনাকে লিখব।
ইতি,
আশীর্বাদধন্যা,
অর্পিতা
Dadur ex-student
8 October 4.34 pm (IST)
Arpita
To: Kalmilata
ভাই কলমিলতা,
তোমার সঙ্গে কথা হবার পরে পরেই এক্ষুণি তোমাদের প্রতিবেশী মৃণালকান্তিবাবু ফোন করেছিলেন। দাদুর এক এক্স-স্টুডেন্ট, নাম প্রদীপ খাস্তগীর, তোমার সঙ্গে খুব আর্জেন্টলি যোগাযোগ করতে চাইছেন। কেন, সে কথা কিছু বলেননি। ফোন নম্বর দিয়েছেন, সেটা তোমাকে আমি আবার হোয়াটস-অ্যাপ-এ কনট্যাক্ট হিসেবে পাঠালাম। তুমি কথা বলে নিও।
অর্পিতা
Re: Dadur ex-student
8 October 1.53 pm (CET)
Kalmilata
To: Arpita
প্রদীপদা দাদুর খুব ফেভারিট ছাত্র। আমি এক্ষুণি ফোন করছি।
ইতি,
কলমিলতা
Dadur shesh chithi
8 October 2.24 pm (CET)
Kalmilata
To: Arpita
অর্পিতা,
কাউকে বলো না, মা-কে তো নয়ই। প্রদীপদা ফোনে বলল, দাদু নাকি ওকে ফোন করেছিল ২৮শে এপ্রিল সন্ধেবেলা। বলে যে করে হোক পরদিনই দেখা করতে। ২৯শে দুপুরে, অর্থাৎ, আমি যখন ফাদার আলফোনসোর খোঁজে ঘুরছি, তখনই কোনও সময় প্রদীপদা দাদুর সঙ্গে দেখা করতে যায়। দাদু ওকে একটা মুখবন্ধ খাম দিয়ে বলে এই খাম আমার হাতে দিতে, দাদু-র যদি আগামি কয়েক দিনের মধ্যে মৃত্যু হয়, তবে তার ছ'মাস পরে। বার বার করে কথা দিইয়ে নেয়, যে তার আগে কখনওই যেন আমাকে না দেয়। ছ'মাস শেষ হয়েছে। তাই প্রদীপদা আমার খোঁজ করেছে।
তুমি একটা কাজ করবে? আমি চাই না প্রদীপদা চিঠিটা নিয়ে তোমাদের কাছে যাক। কী লেখা আছে জানি না। আমি চাই না মা'র হাতে পড়ুক চিঠিটা। আমি প্রদীপদাকে তোমার ফোন নম্বর দিয়েছি। ওর ঠিকানা, ফোন নম্বর দিচ্ছি তোমাকে – তুমি একটু কষ্ট করে চিঠিটা নিয়ে এসে ওটা স্ক্যান করে আমাকে ই-মেইল করবে? প্লিজ?
ইতি,
কলমিলতা।
Re: Dadur shesh chithi
8 October 6.21 pm (IST)
Arpita
To: Kalmilata
ভাই কলমিলতা,তা কী করে হবে? আমি স্ক্যান করতে গেলে তো তোমাকে লেখা চিঠি আমার আগে পড়া হয়ে যাবে। সেটা উচিত হবে না। তার চেয়ে আমি চিঠিটা খামে ভরে তোমাকে পাঠিয়ে দিই। পড়ে যদি তুমি মনে করো, তাহলে আমাকে স্ক্যান করে পাঠিও, কেমন?
অর্পিতা
Re: Re: Dadur shesh chithi
8 October 2.43 pm (CET)
Kalmilata
To: Arpita
না, না, না।কক্ষণও না। যদি কোনও কারণে হারিয়ে যায়, ভাবতে পার কোনও দিন জানা যাবে না তাতে কী লেখা ছিল। আর তুমি সে চিঠি পড়বে সে নিয়ে আমার কোনও মনোকষ্ট নেই। দাদু আমাকে আর তোমাকে সমানই মনে করত। তাই না?
স্ক্যান করেই পাঠিও।
ইতি,
কলমিলতা
Re: Re: Re: Dadur shesh chithi
8 October 7.20 pm (IST)
Arpita
To: Kalmilata
কলমিলতা,
ঠিক বলেছ। তোমার কথাই থাকল। কিন্তু আমি দেখছি কী করে অরিজিন্যাল চিঠিটা না পড়ে তোমাকে পাঠাতে পারি।
অর্পিতা
Dadur shesh chithi tomake pathalam 10 October 2.11 pm (IST)
Arpita
To: Kalmilata
ভাই কলমিলতা,
তোমার কথা রাখলাম, কিন্তু চিঠি পড়লাম না। চিঠিটা নিয়ে আমাদের পাড়ার কম্পিউটারের দোকানে গিয়ে বললাম, এটা স্ক্যান করে দাও। স্ক্যান করা চিঠিটা (ছেলেটাই বলল জে-পেগ না করে নাকি পিডিএফ করলে পড়তে সুবিধা হবে) পেনড্রাইভে নিয়ে এসে সরাসরি সেটা থেকেই অ্যাটাচ করে পাঠালাম।
ভীষণ কান্না পাচ্ছে। সাধু-দাদুকে কোনও দিন দেখিনি, কিন্তু একেবারে আপন হয়ে গিয়েছিলেন। তোমার মার কাছে রোজ নানা গল্প শুনি। তুমি আগেও বলেছ তুমি খুব লাকি, অল্প বয়সে বাবা চলে যাবার পরে অমন একজন দাদু তোমাকে মানুষ করেছেন। তোমার মার কাছে শুনে বুঝি কী অসীম শক্তি নিয়ে দাদু জীবন কাটিয়েছেন, অথচ মনটা একেবারে শিশুর মতো সরল। এবং কী অন্তহীন হাসির ক্ষমতা!চিঠিটা পড়ে জানিও, আমি তার পরে পড়ব।
অর্পিতা
--------------
২৮শে এপ্রিল
কলমিলতা-রে,
রাগ করিস না, এ ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। ছিলই না। অনেক ভেবে দেখলাম, রক্তচোষা অ্যাগনেস এসে উঠেছে নাকি পার্ক হোটেলে। অর্পিতাদের বাড়িতে রাত কাটাতে চেয়েছে। অর্থাৎ কী ব্যাপার? তোকে দু'তিন বার জিজ্ঞেস করলাম, তুই ঠিক খেয়াল করলি না। 
ভ্যাম্পায়ার হত্যা করতে হয় কী করে? দিনের বেলায়, ভ্যাম্পায়ার যখন ঘুমিয়ে, তখন তার কফিন খুলে তার হৃদপিণ্ডের জায়গায় কাঠের গজাল ঢুকিয়ে দিতে হয়। অ্যাগনেস নির্ঘাৎ কফিন নিয়ে আসেনি। সেটা তুই ভেবে দেখিসনি। হোটেলে যখন গেস্ট ঘুমোচ্ছে, তখন পার্ক হোটেলের মতো জায়গায় গজাল নিয়ে গিয়ে ঘরের বন্ধ দরজা কী করে খুলতে হয়, আমি জানি না।
আগুন ছাড়া গতি নেই রে, আর কোনও উপায় নেই। আগুনে পিশাচ পর্যন্ত মরে। ভ্যাম্পায়ারও অবশ্যই মরবে। কিন্তু আগুনের কাছে অ্যাগনেসকে নিয়ে যাওয়া যাবে কী করে? 
সুতরাং আমি এই বুদ্ধিই করেছি। অ্যাগনেসকে বার আষ্টেক ফোন করতে হয়েছে। বলেছি, আমিও ওরই মতো একজন, এবং সুদেশকে কী করে ও পেতে পারে, তা আমি ওকে বলে দিতে পারি। তাতেও চিঁড়ে ভেজেনি। শেষে বলেছি, আমি কিন্তু ওর সব ভেস্তে দিতে পারি, সৌম্য মুখার্জীকে ঘিরে ওর সব প্ল্যান বিগড়ে দেব। তখন রাজি হয়েছে। আগামিকাল বিকেলে ও আসবে দেখা করতে। কিন্তু তার আগে আমি চাই তুই অর্পিতাদের বাড়ি চলে যাস। নইলে আমার সব প্ল্যান গুবলেট হয়ে যাবে।তুই পেট খারাপ করে ফিরেছিস। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমি তোকে পাঠাব। সে তুই রাগই করিস আর যা-ই করিস।
সারা দিনে ৩০ লিটার পেট্রোল আনিয়ে রেখেছি। পাঁচ লিটারের ছটা জেরিক্যান। খাটের তলায় রয়েছে। এতেই হবে। আমার ধারণা অ্যাগনেস আগে বুঝতে না পারলেও আমাকে দেখেই বুঝবে আমি ভ্যাম্পায়ার নই। তখন কী করবে আমি জানি না, তবে ওকে ধরে রেখে আগুন লাগাব। আমার হাড় বুড়ো হতে পারে, কিন্তু আগুন ছড়িয়ে পড়া অবধি আমি অ্যাগনেসকে ধরে রাখতে পারব, এ আমি জানি।
এই চিঠিটা প্রদীপের কাছে থাকবে। ওকে বলা থাকবে ৬ মাস অবধি তোকে দেবে না। পুলিশী ঝামেলা কিছু হবেই। তাদের তো আর ভ্যাম্পায়ারের গল্প বলা যাবে না। মাস ছয়েক বাদে পুলিশ আর মিডিয়া দুই-ই ক্লান্ত হয়ে পড়বে বলে আমার ধারণা। তখন তোরা জানতে পারবি এই বুড়োর বদবুদ্ধি কী ছিল।
আর কোনও উপায়ই নেই।কান্নাকাটি করিস না। বয়স তো কম হল না। একটা ভালো কাজ করেই যাচ্ছি। ছোটোবেলায় ড্রাকুলা-কাহিনীর এব্রাহাম ভ্যান হেলসিং আমার হিরো ছিল। আজ আমিও ভ্যান হেলসিং হতে চলেছি। হেলসিং-এর অবশ্য সে কাহিনীতে মৃত্যু হয়নি, মারা গিয়েছিলেন কুইনসি। এখানে কুইনসি নেই। আমি নিজেই ড্রাকুলার টোপ, আমি নিজেই তার হত্যাকারী।
এই কথাটা নিজেও মনে রাখিস, মাকে বলিস, এবং অর্পিতা আর বিদেশকে বুঝিয়ে বলিস। আমি জানি তোদের দু'জনেরই অপরাধবোধ হবে। মনে হবে, কেন থাকলাম না, কেন একা ছেড়ে চলে গেলাম। অর্পিতারাও মনে করবে ওরা আমার সাহায্য চেয়েছিল বলেই আমার অপমৃত্যু। তা নয়। আমি হিরো হতে চাই বলেই এ-ভাবে চলে গেলাম। আনসাং হিরো, কেউ জানল না কী করে গেলাম আমি।তবে আশা করি এ কাহিনীও এখানেই শেষ হবে। আর কোনও কথা বাকি থাকবে না।
ইতি,
সাধুচরণ
~শেষ~

No comments: